আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহে জানা যাবে সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গের নাম
একসময় কেওক্রাডং পর্বতকে দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ বলা হতো। পরে সাকাহাফঙ ১-২, যৌথলাং, যৌগিহাফং, আইত্লাং, তহজিংডং-১-২ কে দাবি করা হচ্ছিল। এবার বৈজ্ঞান পদ্ধতিতে হতে যাচ্ছে এই বিতর্কের সমাধান।
বিতর্কের অবসান ঘটাতে সরকারিভাবে দেশের সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ মাপার কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ জরিপ অধিদপ্তর। আধুনিক জিওডেটিক পদ্ধতি ও উন্নত গ্লোবাল ন্যাভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেম (জিএনএসএস) প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের গড় সমুদ্রতল হতে উচ্চতা (এমএসএল) নির্ধারণের লক্ষ্যে একটি সমন্বিত জরিপ কার্যক্রম আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে পরিচালিত হচ্ছে।
এরইমধ্যে কেওক্রাডং সাকা হাফং জোতলাংসহ ১০টি উঁচু পাহাড়ের মাপ শেষ হয়েছে। গত ৪ এপ্রিল থেকে থানচি ও রুমার সীমান্তবর্তী এলাকার উঁচু পাহাড়গুলোকে ঘিরে শুরু হয়েছে জরিপের কাজ। আগামী ১২ তারিখ জরিপের কাজ শেষ হবে।
তারপর এখান থেকে বিচার বিশ্লেষণ করে চূড়ান্তটা বের করে অফিশিয়াল প্রসিডিউর শেষ করে আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের সর্বোচ্চ পাহাড়ের নাম ঘোষণার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নূর-ই-আলম মোহাম্মদ জোবায়ের সারওয়ার।
১০ এপ্রিল, শুক্রবার রাতে বান্দরবান সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন বাংলাদেশ জরিপ অধিদপ্তরের এই পরিচালক।
এ সময় ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের পরিচালক আব্দুল রব হাওলাদার, টিম লিডার দেবাশীষ সরকার, মেজর তৌহিদ ও মো. বশির উদ্দিনসহ জেলায় কর্মরত বিভিন্ন সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নূর-ই-আলম মোহাম্মদ জোবায়ের সারওয়ার বলেন, প্রথমবারের মত আমরা সরকারিভাবে দেশের সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ মাপার কাজ শুরু করেছি। গত ৪ এপ্রিল থেকে থানচি ও রুমার সীমান্তবর্তী এলাকার উঁচু পাহাড়গুলোকে ঘিরে এ জরিপ কাজ শুরু হয়। এরইমধ্যে কেওক্রাডং সাকা হাফং জোতলাংসহ ১০টি উঁচু পাহাড়ের মাপ শেষ হয়েছে। আমাদের টিম কাজ করছে আজকে আমি নিজে সেটি দেখে আসলাম। আগামী ১২ তারিখ জরিপের কাজ শেষ হবে। তারপর এখান থেকে বিচার বিশ্লেষণ করে চূড়ান্তটা বের করে অফিশিয়াল প্রসিডিউর শেষ করে আমরা ঘোষণা করবো।
তিনি আরও বলেন, ‘এটি একটি খুব চ্যালেঞ্জিং কাজ। কারণ পাহাড়ি এলাকায় যাতায়াত, যোগাযোগসহ থাকা খাওয়ারও সমস্যা রয়েছে। এ প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেই জরিপের কাজ করতে হচ্ছে। তবে সেনাবাহিনী ও বিজিবির সদস্যরা আমাদের সার্বিক সহযোগিতা করছে। তাদের সহযোগিতা ছাড়া এটা এতোটা সহজ হত না।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের পর্বত শৃঙ্গ মাপার প্রথম জরিপের কাজ এটি। এর আগে এমন কাজ হয়নি। এ জরিপের মাধ্যমে বের হয়ে আসবে দেশের সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ কোনটি। এর আগে ২০২২ সালে একবার মাপার কাজের উদ্যোগ নেয়া হলেও সেটি আর হয়নি। বর্তমানে দেশের সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ রুমা উপজেলার তাজিংডং এর নাম শোনা গেলেও এটি আসলে সরকারি কোনো সংস্থার জরিপ নয়।
ডিবিটেক/এসএম/এমইউআইএম



