শিক্ষার্থীদের জন্য আসছে এডু-আইডি

সব স্কুলে হবে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম; ১৫০০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই

২৮৪৭ গ্রামে নেই প্রাথমিক বিদ্যালয়

সব স্কুলে হবে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম; ১৫০০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে  ফ্রি ওয়াই-ফাই
৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১১:০৯  
৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১৩:২৪  

নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী নতুন প্রজন্মকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার উপযোগী করতে প্রাথমিক, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও সমমানের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন এবং ডিজিটাল বৈষম্য কমাতে ১৫০০টি প্রতিষ্ঠানে (মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়) ফ্রি ওয়াই-ফাই সংযোগ এবং প্রতিটি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের জন্য অনন্য ডিজিটাল পরিচয় বা ‘এডু-আইডি’ প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

তিনি জানান, নির্বাচনী ইশতেহারে মাধ্যমিক পর্যায়ে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি সবার জন্য কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে।

পর্যায়ক্রমে দেশের সকল উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ এবং সকল জেলায় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ আধুনিকায়নের পাশাপাশি আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের ২৩৩৬টি কারিগরি ও ৮২৩২টি মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘ফ্রি ওয়াই ফাই’ চালু করা হবে। মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে আধুনিক স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপন, শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ প্রদান এবং কারিগরি কোর্স অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

৮ এপ্রিল, বুধবার সকালে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে প্রশ্নোত্তরে পর্বে সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজার প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রথম অধিবেশনের ১১তম দিনে সকালের সেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। এই অধিবেশনে সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজা প্রশ্ন রাখেন— আপনার সরকারের আমলে শিক্ষাকে অগ্রাধিকার প্রদান, নতুন প্রজন্মকে গুণগতমানসম্পন্ন শিক্ষায় শিক্ষিত করা এবং বর্তমান প্রতিযোগিতাপূর্ণ বিশ্বের সাথে সঙ্গতি রেখে সমমানের উচ্চ শিক্ষা, তথ্য-প্রযুক্তি ও দক্ষতায় গড়ে তুলবার লক্ষ্যে আপনার কোনো পরিকল্পনা আছে কি না এবং থাকলে, তা কী কী?

এই প্রশ্নর জবাবে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার শিক্ষাকে জাতির শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করে এবং একটি গুণগত, জীবনমুখী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা ব্যক্ত করা হয়েছে। সে আলোকে শিক্ষা খাতে ৪৩টি ক্ষেত্র চিহ্নিত করে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইশতেহারে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সে লক্ষ্যে চলতি অর্থবছরেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২ লক্ষ শিক্ষার্থীর মাঝে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ করা হবে। 

এর আগে লিখিত এক প্রশ্নে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হয়, বর্তমানে দেশের প্রতিটি গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে কিনা ; না থাকলে, প্রাথমিক বিদ্যালয়বিহীন নামসহ গ্রামের সংখ্যা কত? ওই গ্রামগুলোতে সরকারি উদ্যোগে প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা সরকারের আছে কিনা?

উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী  আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, দেশের ২ হাজার ৮৪৭টি গ্রামে নেই প্রাথমিক বিদ্যালয়। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। সারা দেশে বিদ্যালয়বিহীন গ্রামের সংখ্যা ঢাকা বিভাগে ৭১৭টি, চট্টগ্রাম বিভাগে ৮১৮টি, রাজশাহী বিভাগে ৩৫৫টি, রংপুর বিভাগে ৩৭টি, খুলনা বিভাগে ৩৪৯টি, বরিশাল বিভাগে ৪৫টি, সিলেট বিভাগে ২৬০টি ময়মনসিংহ বিভাগে ২৬৬টি; সর্বমোট ২৮৪৭টি। 

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে বিদ্যালয়বিহীন গ্রামে বিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব পাওয়া গেলে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা এ সংক্রান্ত শর্তাদি বিবেচনা সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ডিবিটেক/এমএআর/এমইউআইএম