শিগগিরই দেশীয় এমএফএস-এ মিলবে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সুবিধা
দু’য়েক মাসের মধ্যেই দেশীয় ফিনটেক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমেই আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সুবিধা পাবেন ব্যবহারকারিরা। ৭ এপ্রিল,মঙ্গলবার, আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের শৈল পর্বত মিলনায়তনে শুরু হওয়া ন্যাশনাল ডেমো ডেজ ২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এনমন আভাসই দিলেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।
তিনি বলেছেন, ডিজিটাল সম্পদ ব্যবস্থাপনা, মূল্যমান নির্ণয় নিয়ে বিশ্বব্যাংক কাজ করছে। আর পেমেন্ট সিস্টেমের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমরা কাজ করছি। তবে এটা দু’-একদিনে সমাধান না হলেও আমরা এই ইকোসিস্টেমটি উন্নয়নে পলিসি ও টেকনোলজি উভয় দিক নিয়েই কাজ করছি। আসা করি এর মাধ্যমেই সমাধান আসবে। এরপর স্ট্রাইপ না পেপ্যাল আসবে তা দেখা যাবে। এমন একটি টেকসেই ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার চেষ্টা করছি, যাতে সব কিছু একবারেই হয়ে যায়। আর এর মাধ্যমে বিশ্বে যা কিছু আছে; তা আমাদের কাছে আসবে। আমাদের বাইরে যেতে হবে না।
এটি স্টার্টআপ ও ফ্রিল্যান্সারদের দীর্ঘ দিনের সমস্যার সমাধান করবে বলে মনে করেন উপদেষ্টা। তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তির সহায়তায় উদ্যোক্তারা এখন তাদের পণ্য বা সেবা বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে পৌঁছে দিতে সক্ষম। বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য এটি বিশ্ববাজারে প্রবেশের উপযুক্ত সময়। আমরা সেই লক্ষ্যে স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম এবং পলিসি তৈরি করতে কাজ করছি। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতকে বৈশ্বিক মানে উন্নীত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা চাই অর্থায়নটা আপনাদের কাছে সহজে পৌঁছে যাবে তেমন সহজ এটি প্রসেস প্রতিষ্ঠা করতে।
এসময় উদ্যোক্তাদের যা নিয়েই কাজ করেন না কেন তাতে এআই এর ব্যবহার যুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রকৌশলী রেহান আসিফ আসাদ।
তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের সচিব কাজী আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ডিইআইইডি প্রকল্পের পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বব্যাংকের (বাংলাদেশ ও ভুটান) ডিভিশন ডিরেক্টর জনাব জ্যঁ পেসমে, হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ার উদ্দিন এবং বিশ্বব্যাংকের বেসরকারি খাতের সিনিয়র বিশেষজ্ঞ হোসনে ফেরদৌস সুমি।
সূত্রমতে, আইটি ও আইটিইএস, রিটেইল ও ই-কমার্স, এসডিজি ইমপ্যাক্ট, শিক্ষা ও শিল্প-সংস্কৃতি, ফ্যাশন ও টেক্সটাইল, খাদ্য ও কৃষি এবং স্বাস্থ্যসেবা এই ৭টি সেক্টরের উদ্যোক্তারা দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী, ব্যাংক, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্ম এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সামনে তাদের পণ্য ও ব্যবসায়িক ধারণা উপস্থাপনের সুযোগ পাচ্ছেন। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় ২০০ জন উদ্যোক্তা এই আয়োজনে অংশগ্রহণ করেছে।
সভাপতির বক্তব্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব কাজী আনোয়ার হোসেন বলেন, “বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। সঠিক নীতি সহায়তা, বিনিয়োগ প্রবাহ এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগের সমন্বয়ের মাধ্যমে আমরা এই খাতকে টেকসই ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার উপযোগী করে তুলতে পারি।”
স্বাগত বক্তব্যে ডিইআইইডি প্রকল্পের পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, “আমি লক্ষ্য করেছি বাংলাদেশে আইডিয়ার অভাব নেই, অভাবটা আসলে মাইন্ডসেটের। আমাদের দেশে স্টার্টআপ কালচারটা এখনও ঠিকভাবে গড়ে উঠছে না। কিন্তু যেদিন আমরা ছোট শুরু করে বড় ভাবতে শিখবো, সেদিনই আমাদের উদ্যোগগুলো স্কেল করে দেশকেই বদলে দেবে।”
আইসিটি বিভাগের ডিজিটাল উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবন ইকোসিস্টেম উন্নয়ন (DEIED) প্রকল্পের স্টার্টআপ ও স্কেলআপ প্রোগ্রামের অধীনে তিনদিন ব্যাপী এই অনুষ্ঠানে ১০৯১টি স্টার্টআপ অংশগ্রহণ করলেও ডেমো দিচ্ছে ৩০২টি স্টার্টআপ। পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হচ্ছে প্যানেল আলোচনা। প্রথম দিন অনুষ্ঠিত হয় ‘বাংলাদেশ স্টার্টআপস অ্যাট এ টার্নিং পয়েন্ট: পিলিসি, ক্যাপিটাল অ্যান্ড কনফিডেন্স ইন ২০২৬’ শীর্ষক একটি প্যানেল সেশন । আইটি সলিউশনস, সফটওয়্যার, সার্ভিসেস এবং অ্যাপস খাতের সেক্টরাল পিচিং হয়।
দ্বিতীয় দিন ৮ এপ্রিল সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত খাদ্য, কৃষি ও এগ্রিটেক খাতের পিচিং হবে। দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত শিক্ষা, শিল্পকলা ও সংস্কৃতি খাতের পিচিং এবং বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যসেবা ও হেলথটেক খাতের পিচিং অনুষ্ঠিত হবে। আর ৯ এপ্রিল সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত টেকসই পণ্য ও সেবা খাতের পিচিং হবে। দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত ফ্যাশন, টেক্সটাইল ও অ্যাপারেল টেক খাতের পিচিং অনুষ্ঠিত হবে। এরপর দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত খুচরা, পাইকারি ও ই-কমার্স খাতের পিচিং হবে। দিন শেষে বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে সমাপনী অনুষ্ঠান।
ডিবিটেক/জেডইউআই/ইকে







