বিএনপি’র ইশতেহারে ই-কমার্স ও এভিয়েশনে আঞ্চলিক হাব স্থাপনের প্রতিশ্রুতি
স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজেদের নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ৬ ফেব্রুয়ারি, শুক্রবার বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইশতেহার ঘোষণা করেন।
ইশতেহারে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় না নিয়ে মেধাকে প্রধান্য দিয়ে নিরপেক্ষ ভাবে দেশ পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। ইশতেহারে ৯টি প্রধান প্রতিশ্রুতির মধ্যে ডিজিটাল অর্থনীতি ও বৈশ্বিক সংযোগ বাড়াতে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেম (পেপ্যাল) চালু, ই-কমার্সের আঞ্চলিক হাব স্থাপন এবং ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের র ফতানি সম্প্রসারণে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ লজিস্টিক ও যাত্রী হাবে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে একীভূত কার্গো ট্র্যাকিং, বুকিং ও রুট পরিকল্পনার জন্য 'জাতীয় লজিস্টিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম' চালু করার কথা বলা হয়েছে। কৃষকদের ভূমির পরিমাণ কেন্দ্রীয়ভাবে ডাটাপ্রসেসিংয়ের অধীনে এনে কৃষিকার্ড এর অধীনে তাদের সুবিধা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে।
ইশতেহারে বাংলাদেশকে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের রফতানি এবং ই-কমার্সের আঞ্চলিক হাব স্থাপনের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে তরুণদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি ও ভাষা দক্ষতা উন্নয়ন, স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা সহায়তা, বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে যুক্তকরণ এবং মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগ নিশ্চিত করার কথা ব্যক্ত করা হয়েছে। সব ধরনের খামারিকে কৃষি কার্ড দেয়ার পাশাপাশি কৃষকদের অ্যাপ ভিত্তিক সেবা উন্নয়নে কাজ করার কথা জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান। বলেছেন, কৃষকদের ১০ হাজার টাকা কৃষি ঋণ মওকুফ করা হবে।
‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে এবং ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ’— এই মূলনীতিকে ভিত্তি করে দলটি তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে। এতে আনন্দময় ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাস্তব দক্ষতা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষানীতি প্রণয়ন, প্রাথমিক শিক্ষায় সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি সহায়তা এবং ‘মিড-ডে মিল’ চালু করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে ইশতেহারে।
ইশতেহারকে ৫টি মৌলিক ভাগে বিভক্ত করে রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংষ্কারে গণতন্ত্র এবং জাতি গঠনে শুরুতেই ৩১ দফার সঙ্গে মিল রেখে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তারেক রহমান। নির্বাচনী ইশতেহারে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন, দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা গঠন, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মেয়াদ নির্দিষ্টকরণ এবং বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতাসহ ৩৫টি সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার অন্তর্ভূক্ত করার কথা জানিয়েছেন।
প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, বিগত ১৭ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে স্বাক্ষরিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ এবং বিএনপির ৩১ দফার ভিত্তিতে এই সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। এতে সংবিধানে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনঃস্থাপনের পাশাপাশি ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বাতিলকৃত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম প্রধান এভিয়েশন হাবে রূপান্তর করার লক্ষ্যে দেশব্যাপী জাতীয় এয়ার কানেকটিভিটি গ্রিড তৈরি এবং এর আওতায় প্রাথমিকভাবে বিভাগীয় শহর এবং পর্যায়ক্রমে জেলা শহরগুলোকে সংযুক্ত করতে ছোট বিমানবন্দর ও এয়ারস্ট্রিপ নিৰ্মাণ করার পরিকল্পনা রয়েছে ইশতেহারে।
ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ‘ভিশন-২০৩০’, তারেক রহমান ঘোষিত ‘রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা’ এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর সমন্বয়ে এই নির্বাচনী ইশতেহার তৈরি করা হয়েছে। ইশতেহারে পোশাক শিল্পের বাইরেও নতুন নতুন রফতানি খাত সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে।
ডিবিটেক/আইএইচ/এমইউএম







