ম্যাসেঞ্জারে প্রসিকিউটরদের হত্যার হুমকী
প্রযুক্তি জালেই ফাঁসলেন 'এ-টিম' মডারেটর
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই অভ্যুত্থান সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের রায় ঘোষণার আগের রাত থেকে নিয়মিত অনলাইন হুমকি পাচ্ছেন এই কাজে দায়িত্ব পালনকারী প্রসিকিউটররা। পরিচয় লুকিয়ে 'আইকলার' ব্যবহার করে এসএমএস ও হোয়াটসঅ্যাপ, ম্যাসেঞ্জারে অশ্রাব্য গালি দেয়া ছাড়ও প্রাণ নাশের হুমকি দেয়া হয় তাদেরকে। প্রযুক্তি ব্যবহার করেই এই সাইবার দুর্বৃত্তদের একজনকে সনাক্ত করেছে আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও বিশেষ অনুসন্ধান কর্মকর্তা তানভীর হাসান জোহাকে হুমকী দেয়ার পর ফরেনসিক অনুসন্ধানে তিনি একটি সংঘবদ্ধ দলের সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পেয়েছেন।
নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে, মৃত্যু হুমকি দেয়ায় ২০ নভেম্বর ভোরে সাইবার দুবৃত্ত দল 'এ-টিম' এর একজন মডারেটরকে এরই মধ্যে গোয়োন্দা হেফাজতে নেয়া হয়েছে। তার নাম এমডি আরিয়ান খান শরিফ। একজন রিক্সাচালকের ছেলে থেকে হ্যাকার হওয়া ওই তরুণকে জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ধরে আরও সদস্যকে সনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামীলীগের সাইবার টিমে বাংলাদেশ থেকে দায়িত্বপালনকারীদের অন্যতম। আজই তাকে আদালতে হাজির করে আটক দেখানো হবে বলে জানাগেছে।
এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও বিশেষ অনুসন্ধান কর্মকর্তা তানভীর হাসান জোহা বলেছেন, প্রসিকিউটরদের উদ্দেশ্যে যে কোনো ধরনের হুমকি রাষ্ট্র ও বিচারব্যবস্থার বিরুদ্ধে সরাসরি আঘাত। যারা ভিপিএন, ভুয়া রেজিস্ট্রেশন, অথবা হটস্পট ব্যবহার করে পরিচয় লুকিয়ে দাদাগিরি করছে—তাদের জন্য স্পষ্ট বার্তা: আপনি যতই ডিজিটাল ছদ্মবেশ নিন, আইন আপনাকে খুঁজে বের করবেই। বিচার বিভাগকে ভয় দেখানো যায় না, আর করা যাবে না। প্রতিটি সংশ্লিষ্ট হ্যাকার, প্ররোচনাকারী এবং সহযোগীকে আইনের আওতায় আনা হবে। ইনশাআল্লাহ। ডিজিটাল ফরেনসিক ইউনিট ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় ট্রেসিং শুরু করেছে। যারা মনে করছে অনলাইনে লুকিয়ে থাকা নিরাপদ—তাদের ভুল ভাঙতে সময় বেশি লাগবে না।
রায় ঘোষণার আগে প্রসিকিউশন টিমের সদস্যরা সাংবাদিকদের জানান, রবিবার রাত থেকে তাদের প্রত্যেককে হুমকি দেয়া হয়েছে এবং অকথ্য গালিগালাজ করা হয়। তখন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেছিলেন, অসংখ্য ফোন পেয়েছি। এক পর্যায়ে ফোন বন্ধ করে দিয়েছি। একই ভাষা, একই কথা। নেত্রীর সাজা হলে আপনাদের জীবন শেষ করে দেবে।
সূত্রমতে, ক্ষমতাসীন সময়ে ২০২১ সালে দলের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপ কমিটির তত্ত্বাবধানে ১০ হাজার সাইবার যোদ্ধা তৈরির প্রশিক্ষণ কার্যক্রম হাতে নিয়েছিলো মানবতা বিরোধী অপরাধের দায়ে বিচারচলাকালীন নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। এছাড়াও পরের বছরের মার্চে নিজেদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার প্রতিরোধে সাইবার মনিটরিং টিম গঠনে ২২ সদস্যের মনিটরিং উপকমিটি গঠন করা হয়েছিলো। এই সদস্যরাই এখন দলের ক্রান্তিকালে অনলাইনে সক্রিয় হয়েছেন। শুরুতে টেলিগ্রাম ও ম্যাসেঞ্জারে অ্যাক্টিভ থাকলেও এখন বিভিন্ন পেইড অ্যাপ ব্যবহার করছেন। এমন পরিস্থিতিতে চলতি বছরের মে মাসে সাইবার স্পেসে আ.লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের ঘোষণা দেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের ফেসবুক পেজসহ সাইবার স্পেসে দলটির কার্যক্রম বন্ধে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) পদক্ষেপ নেয়ার কথা ছিলো। তবে সেই পদক্ষেপ ছাপিয়ে ফেসবুক ভেরিফায়েড থেকে অনলাইনে নিয়মিত লাইভ অনুষ্ঠান করে লকডাউন সহ নানা কর্মসূচি দেয়া হচ্ছে।
ডিবিটেক/আইএইচ/ওআর



