গবেষণার জন্য ১২ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ৩৮.২১ কোটি টাকার চুক্তি
একাডেমিক প্রতিষ্ঠান ও শিল্পখাতের অংশীদারিত্বে উদ্ভাবনী পণ্য উন্নয়ন, আন্তঃবিষয়ক গবেষণা ও উন্নয়ন, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে গবেষণা এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি-ভিত্তিক সমাধান উন্নয়নে ২০টি গবেষণা উপপ্রকল্প বাস্তবায়নে ১২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ৩৮.২১ কোটি টাকার চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)।
বাংলাদেশ সরকার ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)-এর অর্থায়নে ইউজিসি কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘কম্পিউটার ও সফটওয়্যার প্রকৌশল উচ্চশিক্ষা উন্নয়ন’ প্রকল্পের ‘গবেষণা ও উন্নয়ন অনুদান’ উপখাত থেকে এই অর্থায়ন করা হচ্ছে।
এই উপলক্ষে ২০ জানুয়ারি, মঙ্গলবার ইউজিসি কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর হয়। চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন ইউজিসি সচিব, অনুদানপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের উপাচার্য এবং সংশ্লিষ্ট উপপ্রকল্পের প্রধান গবেষকরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এস এম এ ফায়েজ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান, প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, প্রফেসর ড. মাছুমা হাবিব, প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. নিয়াজ আহমদ খান এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কান্ট্রি ডিরেক্টর হোয়ে ইউন জিয়ং।
ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. মো. সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ইউজিসি সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম এবং আইসিএসইটিইপি প্রকল্পের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর গাজী মো. নজরুল ইসলাম।
ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এস এম এ ফায়েজ বলেন, ‘নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে এই গবেষণা সহায়তা কার্যকর ভূমিকা রাখবে।’
তিনি অনুদানপ্রাপ্ত গবেষকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আইসিএসইটিইপি একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্রকল্প হওয়ায় বরাদ্দকৃত অর্থের সঠিক ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং সমাজের বাস্তব সমস্যার সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।’
প্রফেসর সাইদুর রহমান বলেন, ‘দেশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতা বৃদ্ধিতে ইউজিসি’র এই উদ্যোগ একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।’
তিনি জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি ও প্রযুক্তি শিক্ষার বিকাশে এই উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং গবেষণা, উদ্ভাবন ও শিল্পখাতের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে এগিয়ে আসার জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংককে ধন্যবাদ জানান।
তিনি আরও বলেন, ‘গবেষণা ও উন্নয়ন অনুদান উপপ্রকল্পসমূহ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় নির্বাচন করা হয়েছে এবং প্রকল্পগুলোর সামাজিক প্রভাব বিশেষভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।’
গবেষণা ও উন্নয়ন অনুদান উপপ্রকল্প প্রদানের লক্ষ্যে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের নিকট থেকে গবেষণা প্রস্তাব আহ্বান করা হয়। এতে মোট ১৬২টি উপপ্রকল্প প্রস্তাব জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই ও মূল্যায়ন শেষে ৯টি সরকারি ও ৩টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ২০টি উপপ্রকল্প চূড়ান্ত করা হয়।
অনুদানপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ হলো- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়।
অনুদান বণ্টনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) সর্বোচ্চ পাঁচটি উপপ্রকল্প, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তিনটি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় দুটি করে এবং অবশিষ্ট আটটি বিশ্ববিদ্যালয় একটি করে উপপ্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য অনুদান পেয়েছে।
পাঁচ বছর মেয়াদি আইসিএসইটিইপি প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১,৩০০ কোটি টাকা, যার মধ্যে ৮৭.৭২ শতাংশ অর্থায়ন করছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং অবশিষ্ট ১২.২৮ শতাংশ বহন করছে বাংলাদেশ সরকার।
অনুষ্ঠানে গবেষণা ও উন্নয়ন অনুদানপ্রাপ্ত গবেষকবৃন্দ, ইউজিসি ও আইসিএসইটিইপি প্রকল্পের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের রেজিস্ট্রারগণ উপস্থিত ছিলেন।
ডিবিটেক/আইকে/এমজে



