জাগতিক সকল চাওয়া-পাওয়ার ঊর্ধ্বে ন্যায় বিচার
শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার ন্যায় বিচার দাবি করেছেন তার স্ত্রী রাবেয়া ইসলাম সম্পা। ১৬ জানুয়ারি বিকেল ৪টা ২৩ মিনিটে ফেসবুক বিচার চেয়ে করা ধারাবাহিক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন। ন্যায় বিচারকে তিনি জাগতিক সকল চাওয়া-পাওয়ার ঊর্ধ্বে বলে উল্লেখ করেছেন।
রাবেয়া ইসলাম সম্পা লিখেছেন, ‘রাষ্ট্রের কাছে আমি এবং আমার সন্তানের একমাত্র দাবি আমার স্বামী শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার। জাগতিক সকল চাওয়া-পাওয়ার ঊর্ধ্বে ওসমান হাদি হত্যার ন্যায় বিচার।’
এর আগে ১৪ জানুয়ারি, বুধবার দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে এক স্ট্যাটাসে সম্পা প্রশ্ন করেন, ‘ওসমান হাদির হত্যার বিচার কি আদৌ হবে?’
একইসঙ্গে তিনি আশ্চর্যের সুরে প্রশ্ন তুলেছেন, কেন ইনকিলাব মঞ্চ কোনো প্রোগ্রামের ডাক দিচ্ছে না।
এর পর তিনি আরও লিখেছিলেন- প্রথমত, বিচার হবে না এই শব্দটাকেই মাথায় আনা যাবে না। বিচার হতেই হবে সেটা যেকোনো মূল্যে। বিচার আদায় না হলে ওসমান হাদিরা, বিপ্লবী বীরেরা এদেশে আর জন্মাবে না। তবে এত দেরি বা সময় কেনো লাগছে?
ওসমান হাদি একটা অনুষ্ঠানে তার বক্তব্যে রবীন্দ্রনাথ এর দুটো লাইন বলেছিলেন,“সহজ করে বলতে আমায় কহ যে, সহজ কথা যায় না বলা সহজে।”
তাই যুক্তি,তর্ক, ব্যাখ্যা কিছুই টানছি না শুধু এতটুকুই বলা আপনি বা আপনারাও জানেন কেন সব সহজে হচ্ছে না ! জাস্ট মনে রাখবেন ওসমান হাদি বলে গিয়েছেন- আমাদের লড়াই অনেক দীর্ঘ। মুমিনের জীবন মানেই লড়াই সংগ্রাম। তাই সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে।
ইনকিলাব মঞ্চ নিয়ে শহিদ ওসমান হাদির নিজের বলা কয়েকটা কথা আপনাদের জানাতে ইচ্ছে হলো-
“আমার প্রথম সন্তান ইনকিলাব মঞ্চ, দ্বিতীয় সন্তান ফিরনাস । পোলাপান গুলারে বেতন দেই না, ঠিকভাবে খাবারও খেতে পারে না কাজের জন্য। নিঃস্বার্থ ভাবে আমার সাথে লেগে থাকে। ওদের ভবিষ্যতের চিন্তাও ওদের নাই। আমার তো ওদের ভবিষ্যৎ গড়ে দিতে হবে ডিয়ার।”
এদিকে ১৬ ডিসেম্বর, ঢাকা ও চট্টগ্রাম ছাড়াও দেশজুড়ে বিভিন্ন স্থানে বাদ জুমআ শহীদ ওসমান হাদির হত্যা কারীদের বিচার চেয়ে বিক্ষোভ করেছে ইনকিলাব মঞ্চ।
ওদিকে ১৫ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে জারি করা ও যুগ্মসচিব আবুল হায়াত মো. রফিক স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে ওসমান বিন হাদির ভাই ওমর বিন হাদিকে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে অবস্থিত বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনে দ্বিতীয় সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগরের কালভার্ট এলাকায় অস্ত্রধারীরা তাকে গুলি করে।
নির্বাচনি প্রচারণা শেষে রিকশায় ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হন শরিফ ওসমান হাদি। প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে ওই দিনই এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে।
পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুর নিয়ে যাওয়া হয়। ১৮ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
২০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তার জানাজা সম্পন্ন হয়। জানাজা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিসৌধের পাশেই তাকে শায়িত করা হয়।
ডিবিটেক/এসএম/এমইউ







