WICO 2025
সিউল অলিম্পিকে বাংলাদেশের স্বর্ণ ও রৌপ্য জয়
দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিওলে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইনোভেশন ক্রিয়েটিভিটি অলিম্পিকে (ডব্লিউআইসিও) একটি স্বর্ণ ও একটি রৌপ্য জয় করেছে বাংলাদেশ। দেশের পক্ষে স্বর্ণজয়ী দলটি হচ্ছে টিম অ্যাটলাস। আর রৌপ্যজয়ী হচ্ছে দেশের একমাত্র নারী উদ্ভাবক দল কোড ব্লাক। দুইটি দলই একাধিকবার বিদেশের মাটিতে দেশের জন্য গৌরব বয়ে এনেছে। এর মধ্যে টিম অ্যাটলাস ২০টি এবং কোড ব্লাক ৫টি সম্মাননা বয়ে এনেছে।
সিউল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ১৭-১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত অলিম্পিকে এবার বাংলাদেশ থেকে ১১ সদস্যের ৩টি দল প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণের ডাক পায়। এর মধ্যে দুইটি দল সরাসরি অংশ নিয়েই বাজিমাত করেছে। এর মধ্যে অটোমেটেড এগ্রিকালচারাল রোবট উদ্ভাবন করে স্বর্ণপদ জয় করে টিম অ্যাটলাস। এই দলের উদ্ভাবকেরা হলেন- ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সানি জুবায়ের (দলনেতা), আহমেদ সাজিদ রিজওয়ান, মোঃ ইশতিয়াক আহমেদ, খন্দকার মোঃ ফাহিম আসহাব এবং হেরিটেজ স্কুলের শিক্ষার্থী মোস্তাকিম রহমান মাহির।
আর দেশের প্রযুক্তি অঙ্গনে নারীদের পথিকৃৎ কোড ব্লাক পানির নিচে অনুসন্ধান এবং উদ্ধারকারী রোবট ‘অ্যাকোয়ারিস’ দিয়ে সিউল জয় করেছে কোড ব্লাক। এই দলের সদস্যরা হলেন- জান্নাতুল ফেরদৌস ফাবিন (দলনেতা), সায়রা ইসলাম মুন, রুকাইয়া আমিন সাবা, নুসরাত জাহান সিনহা এবং তাহিয়া রহমান বিভোর। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্র্যক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের এই দলটির ৩ সদস্য সরাসরি প্রতিযোগিতায় অংশ নিলেও শেষ দুই জন সদস্য যেতে পারেননি।
এবারের প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ২৫টি দেশ থেকে মোট ১০৪২ জন প্রতিযোগী ছিলো। তাদের সঙ্গে উদ্ভাবনের টক্করে বাংলাদেশের বিজয়ী উদ্ভাবকদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন ওয়ার্ল্ড ইনোভেশন ক্রিয়েটিভিটি অলিম্পিকের প্রেসিডেন্ট লি জু হিয়াং।
পুরস্কার গ্রহণের পর কোড ব্লাক দলনেতা জান্নাতুল ফেরদৌস ফাবিন স্রষ্টার কাছে শুকরিয়া জ্ঞাপন করে বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, আমরা WICO 2025 থেকে সিলভার মেডেল নিয়ে ফিরেছি। এই যাত্রাটা মোটেও সহজ ছিল না। আমাদের টিম Aquaris নামে একটি আন্ডারওয়াটার- সাবমার্জড রেসকিউ রোবট যেটি ওয়াটার কোয়ালিটি মনিটরিং এন্ড পলিউশন ডিটেকশন করে ওয়াটার ক্লিনও করতে পারে। এর জন্য আমাদের বুথ সেটআপ করতে হয়েছে, বিচারকদের সামনে রিসার্চ পেপার উপস্থাপন করতে হয়েছে এবং প্রতিটি ফিচার হাতে-কলমে দেখাতে হয়েছে। সত্যি কথা বলতে, আমাদের সময় ছিল খুবই অল্প। মাত্র কিছুদিনেই আমাদের পুরো প্রজেক্টটি সম্পন্ন করতে হয়েছে। খাবারও আমাদের সঙ্গে শ্যুট করছিল না, শারীরিকভাবে আমরা ক্লান্ত ছিলাম, কিন্তু তারপরও আমরা থেমে থাকিনি।
তিনি আরো বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, আমরা আরও ভালো করতে পারতাম। তবুও আলহামদুলিল্লাহ, আমরা আমাদের সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করেছি।এই আন্তর্জাতিক মঞ্চে ২৫টি দেশের 1200+ প্রতিযোগীর মাঝে আমরা নিজেদের অবস্থান করতে পেরেছি—এটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমাদের পাশে থাকার জন্য। আমাদের জন্য দোয়া করবেন যেন ভবিষ্যতে আরও ভালো কিছু উপহার দিতে পারি।
স্বর্ণজয়ী দলনেতা সানি জুবায়ের বলেন, এই বছরের WICO 2025-এ আমরা আমাদের উদ্ভাবিত কৃষি সহায়ক রোবট Farmax নিয়ে অংশ নিয়েছি। আমাদের প্রজেক্টটি ছিল কৃষিক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারকে সহজ ও কার্যকর করা। Farmax এর মাধ্যমে জমি পর্যবেক্ষণ, স্প্রে ও বিভিন্ন কৃষি কার্যক্রম অটোমেটেড করা সম্ভব। এখানে এআই নির্ভর অটোমেশন করা হয়েছে। তবে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার পথটা একেবারেই সহজ ছিল না। আমাদের সময় ছিল খুবই কম, সবকিছু প্রস্তুত করতে গিয়ে অনেক রাত জেগে কাজ করতে হয়েছে। তবুও আমরা চেষ্টা করেছি প্রতিটি ধাপে নিজেদের সর্বোচ্চটা দিতে। আলহামদুলিল্লাহ, এতগুলো দেশের প্রতিযোগীদের মাঝে আমাদের প্রজেক্ট তুলে ধরতে পেরেছি—এটাই আমাদের বড় অর্জন।







