কলেজছাত্র ওয়াকিমুলের স্মার্টকারে চড়লেন প্রধানমন্ত্রী

কলেজছাত্র ওয়াকিমুলের স্মার্টকারে চড়লেন প্রধানমন্ত্রী
৯ মে, ২০২৬ ১২:০৬  

যশোরের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মেধাবী তরুণ ওয়াকিমুল ইসলাম রিফাত উদ্ভাবন করেছেন মস্তিষ্কের স্নায়ু দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত ‘এটুআই স্মার্ট কার’। হাত-পা নাড়াতে অক্ষম এমন শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও শরীরের সাথে যুক্ত ডিভাইসের মাধ্যমে খুব সহজেই এই গাড়িটি চালাতে সক্ষম। কলেজছাত্র বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন তরুণের উদ্ভাবিত বিশেষ স্মার্টকারে চড়ে ঘুরে তাকে উৎসাহ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

৯ মে, শনিবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে  ২ ফুট ৮ ইঞ্চি উচ্চতার শারীরিক প্রতিবন্ধী ওয়াকিমুল ইসলামের গাড়িটি পর্যবেক্ষণ করেন সরকারপ্রধান। এক পর্যায়ে তার স্মার্টকারে চড়ে বসেন প্রধানমন্ত্রী। তারেক রহমানকে নিয়ে গাড়ি চালিয়ে দেখান ওয়াকিমুল। নিজেই গাড়িটি চালিয়ে দেখালেন- হাত-পাবিহীন বা শরীরের অন্য কোনো অংশে মারাত্মক শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা মানুষও এই প্রযুক্তির সাহায্যে গাড়িটি কীভাবে চালাতে পারবে। 

গাড়িটি পর্যবেক্ষণ করার সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, মেধাবী তরুণরাই হবে আগামী বাংলাদেশের স্মার্ট নাগরিক। শারীরিক সীমাবদ্ধতা যে সৃজনশীল কাজের পথে কোনো বাধা নয়, ওয়াকিমুল তা প্রমাণ করেছে। সরকার এমন উদ্ভাবনী প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিতে সব ধরনের সহায়তা প্রদান করবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

এই বিশেষ স্মার্ট কারটি উদ্ভাবনের ফলে দেশের প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের মেধা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতার প্রতি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ হয়েছে। ওয়াকিমুল ইসলামের এই উদ্যোগকে দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ওয়াকিলের স্মার্ট কার পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন মোস্তফা জুলফিকার হাসান (হাসান শিপলু) ও শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এই পরিদর্শনের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, উদ্ভাবক ওয়াকিমুল নিজের জমানো মাত্র ৫,০০০ টাকা দিয়ে প্রজেক্টটি শুরু করেন। দীর্ঘ ২ থেকে ৩ বছর চেষ্টার পর তিনি এটি তৈরি করতে সক্ষম হন। গত ২৫ এপ্রিল তেজগাঁও কার্যালয় প্রাঙ্গণে কলেজ শিক্ষার্থী রিজয়ান রশীদের নির্মিত গো-কার্ট (রেসিং কার) পর্যবেক্ষণ করেন তারেক রহমান। পরে গাড়িটি চালিয়ে তাকে উৎসাহিত করেন।

এই উদ্ভাবন নিয়ে রিফাত জানিয়েছেন, বছর সাতেক আগে নিজের শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে অসুবিধা হলে নিজের মেধা শক্তি কাজে লাগিয়ে এমন একটি গাড়ি তৈরির পরিকল্পনা করেন, যে গাড়িটি মানুষের মস্তিষ্ক স্নায়ুতন্ত্র দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। ফলে শুধু রিফাত নিজেই নয়, রিফাতের মতো শারীরিক প্রতিবন্ধী যেকোনো মানুষ গাড়িটি চালাতে পারবে। গাড়ি তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়ে পাঁচ বছর ধরে স্কুলের টিফিনের টাকা জমিয়ে মাত্র পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে শুরু করে এটু আই স্মার্ট গাড়ির প্রজেক্ট। গাড়িটি তৈরি করতে সময় লাগে ২ থেকে ৩ বছর। টিফিনের টাকার পাশাপাশি ঈদের সেলামি এবং তার বাবাও রিফাতকে গাড়িটি তৈরি করতে আর্থিক সহযোগিতা করেছেন। রিফাতের বাবা আবু খায়েঁর শুধুমাত্র অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করেননি। তিনি নিজের পেশাগত কাজের ফাঁকে ছেলে উদ্ভাবনে শ্রম দিয়েও সহযোগিতা করেছেন। 

ডিবিটেক/এসএইচ/এমইউএম