অনলাইন প্রতারণার দায়ে চীনা নাগরিকসহ গ্রেফতার ৫
অনলাইনে ঘরে বসে আয় করার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া একটি আন্তর্জাতিক প্রতারকচক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি)। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন চীনা নাগরিকও রয়েছেন। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন—টাঙ্গাইলের মধুপুর থানার বোয়ালি গ্রামের মো. মিজানুর রহমান (৩১), একই জেলার ঘাটাইল থানার বীরখাশিয়া গ্রামের আব্দুস সাত্তার (৪২), বগুড়ার ধুনট থানার অফিসারপাড়া এলাকার মাসুম বিল্লাহ (২৫), দিনাজপুর সদর উপজেলার উপশহর এলাকার মো. আসাদুজ্জামান (৩২) এবং চীনা নাগরিক মা ফিউবিন।
তারা সবাই রাজধানীর ভাটারা থানার অধীন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় বসবাস করতেন। ২৪ জুন (মঙ্গলবার) বিকেলে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, জিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের (উত্তর) সাইবার ক্রাইম মনিটরিং টিম সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে বসুন্ধরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার ভোরে তাদের গ্রেফতার করে। অভিযানে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত পাঁচটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও মোবাইল ফোন বিশ্লেষণে জানা যায়, চীনা নাগরিক মা ফিউবিন বাংলাদেশে এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন। তার চীনে অবস্থানরত সহযোগীরা টেলিগ্রাম অ্যাপের ‘WayFair Work Solitions01357’ নামের একটি গ্রুপে সাধারণ মানুষকে যুক্ত করে ‘ঘরে বসে আয়’ করার লোভ দেখাতো। একপর্যায়ে তারা ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিতো।
মা ফিউবিন তার বাংলাদেশি সহযোগীদের ব্যাংক, বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে এই অর্থ আত্মসাৎ করে নিজস্ব চক্রের কাছে স্থানান্তর করতেন। এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত আন্তর্জাতিক প্রতারণা চক্র হিসেবে পুলিশ প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করেছে।
এই ঘটনায় গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু হয়েছে। পলাতক অন্যান্য সহযোগীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) রেজাউর রহমান, উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) অশোক কুমার পাল, সহকারী পুলিশ কমিশনার (ডিবি) আমির হোসেনসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারা।







