পিলখানা হত্যাকাণ্ড:
ইমেইলে জবানবন্দি দিয়েছেন আ.লীগের দুই নেতা
পিলখানায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড সর্বমোট ১৫৮ জনের সাক্ষাৎকার নিয়েছে জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের। সাক্ষ্যগ্রহণ বাকি আছে আরও প্রায় ৫০ জনের। তবে যাদের সাক্ষগ্রহণ করা হয়েছে তাদেরমধ্যে দুই জন পলাতক আওয়ামী নেতা ইমেইলে জবানবন্দি দিয়েছেন। এরা হলেন- আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক ও দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম।
২৫ জুন (বুধবার) পিলখানায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড তদন্তের জন্য গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের তৃতীয় সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই জানিয়েছেন পিলখানায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড তদন্তের জন্য গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের সভাপতি ও বিডিআরের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমান।
তিনি জানান, সাক্ষাৎকার নেয়া অসামরিক ৯ জনের মধ্যে রয়েছেন টেলিযোগাযোগ বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী এবং অন্যান্য পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তি। যাদের কাছে ঘটনা সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত রয়েছে।
স্বাধীন তদন্ত কমিশনের সভাপতি জানান, ৫৫ জন সামরিক অফিসার যারা বিভিন্নভাবে পিলখানা ট্র্যাজেডির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন তাদের জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন একাধিক সাবেক সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী প্রধান, বিভিন্ন গোয়েন্দা বাহিনীর প্রধান ও অন্যান্য উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা। বেসামরিকদের মধ্যে ২০ জনের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক, আমলা এবং আগের তদন্ত কমিটির সদস্যরা।
বিডিআরের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমান বলেন, বেঁচে ফিরে আসা ১৫ জন অফিসারের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ৫০ জন বেঁচে যাওয়া অফিসারকে লিখিত জবানবন্দি দেওয়ার জন্য সেনা সদরের মাধ্যমে ব্যক্তিগতভাবে চিঠি দেওয়া হয়েছে। দুটি সম্মেলনে তাদের সঙ্গে সার্বিক বিষয়ে মতবিনিময় হয়েছে।
তিনি বলেন, ৮ জন সংশ্লিষ্ট রাজনীতিবিদের জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে তিন জনের সাক্ষাৎকার জেলে নেওয়া হয়েছে। তিন জন উপস্থিত হয়ে সাক্ষ্য দিয়েছেন। দুই জন পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা ইমেইলে জবানবন্দি দিয়েছেন। কারাগারে দণ্ডপ্রাপ্ত ২৫ জন বিডিআর সদস্যের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। তারা ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন এবং ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত সে সম্পর্কে নানা ধরনের তথ্য দিয়েছেন, যেগুলো এখন বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। আরও সাক্ষাৎকার নেওয়া প্রক্রিয়া চলমান। এছাড়াও ২৯ জন কারামুক্ত বিডিআর সদস্যের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে।







