অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট ও দালাল চক্রের হাতে জিম্মি ভেদরগঞ্জ হাসপাতাল
শরীয়তপুর: জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট ও দালাল চক্রের দৌরাত্ম্যে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ রোগী ও তাদের স্বজনেরা। অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতাল চত্বরে অবস্থান নেওয়া কিছু বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালক ও তাদের সহযোগীরা রোগী পরিবহনে ‘সিন্ডিকেট’ গড়ে তুলেছেন। তাদের নির্ধারিত অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া অন্য কোনো গাড়িতে রোগী নিতে চাইলে স্বজনদের বাধা ও হুমকির মুখে […] The post অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট ও দালাল চক্রের হাতে জিম্মি ভেদরগঞ্জ হাসপাতাল first appeared on Sar

শরীয়তপুর: জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট ও দালাল চক্রের দৌরাত্ম্যে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ রোগী ও তাদের স্বজনেরা। অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতাল চত্বরে অবস্থান নেওয়া কিছু বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালক ও তাদের সহযোগীরা রোগী পরিবহনে ‘সিন্ডিকেট’ গড়ে তুলেছেন। তাদের নির্ধারিত অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া অন্য কোনো গাড়িতে রোগী নিতে চাইলে স্বজনদের বাধা ও হুমকির মুখে পড়তে হয়। এ নিয়ে হাসপাতাল চত্বরে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে সিন্ডিকেটের সদস্যদের হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনাও ঘটছে। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সটি নষ্ট এবং চালক না থাকার সুযোগে হাসপাতালের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহযোগিতায় স্থানীয় ছৈয়দ মো. সুমন, টিটু খানসহ কয়েকজনকে নিয়ে এই সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে।
অন্যদিকে হাসপাতালে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ সীমিত থাকায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে একাধিক দালাল চক্রও। তাদের বিরুদ্ধে রোগীদের হাসপাতালের বাইরে বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে বেশি অর্থের বিনিময়ে পরীক্ষা করানোর অভিযোগও রয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, দুটি থানা নিয়ে গঠিত ভেদরগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ৪ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার জন্য ১৯৭২ সালের দিকে ৩১ শয্যার হাসপাতালটি নির্মাণ করা হয়। পরে ২০১১ সালে এটি ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়। সময়ের সঙ্গে হাসপাতালটি আধুনিকায়ন করা হয়েছে। ভেদরগঞ্জের পাশাপাশি পাশের জেলা চাঁদপুর ও মুন্সিগঞ্জ এবং শরীয়তপুরের বিভিন্ন উপজেলা থেকেও রোগীরা এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। জরুরি বিভাগ ও বহির্বিভাগ মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০ রোগী চিকিৎসাসেবা নেন এই হাসপাতালে।
রোগী পরিবহনে সক্রিয় সিন্ডিকেট, অতিরিক্ত ভাড়া দাবি
জরুরি ও মুমূর্ষু রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শরীয়তপুর সদর বা ঢাকায় পাঠানোর প্রয়োজন হলেই সক্রিয় হয়ে ওঠে অ্যাম্বুলেন্স চক্রটি। অভিযোগ রয়েছে, তারা কম ভাড়ায় অন্য কোনো অ্যাম্বুলেন্সে রোগী নেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা দেয় এবং নিজেদের নির্ধারিত গাড়ি ব্যবহারে রোগীর স্বজনদের বাধ্য করে। স্বজনেরা বাইরে থেকে অ্যাম্বুলেন্স আনতে চাইলে নানা ধরনের হুমকি ও প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের হিসাবে, ভেদরগঞ্জ থেকে ঢাকার যেকোনো হাসপাতালে সাধারণত ৫ থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকা এবং ঢাকা থেকে ভেদরগঞ্জে ফেরার ভাড়া ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা হলেও রোগীদের জিম্মি করে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া নেয় এই সিন্ডিকেট। কখনো অ্যাম্বুলেন্স সংকটের কথা বলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করার অভিযোগও রয়েছে রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। ফলে বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে রোগী নিয়ে ঢাকায় যেতে হচ্ছে স্বজনদের।
অন্তঃসত্ত্বা নারীকে ৪ ঘণ্টা আটকে রাখে টিটু সিন্ডিকেট
গত ১০ সেপ্টেম্বর দুপুরে উপজেলার ডিএমখালি ইউনিয়নের দালালকান্দি এলাকা থেকে অন্তঃসত্ত্বা বৃষ্টি আক্তারকে প্রসবের জন্য ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন তার বোন রিক্তা আক্তার। কর্তব্যরত চিকিৎসক বৃষ্টিকে দ্রুত ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন।
রিক্তা জানান, স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্সচালক টিটুর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি ভেদরগঞ্জ থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে ৭ হাজার টাকা ভাড়া চান। পরে শরীয়তপুরে কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করে ৫ হাজার টাকায় একটি অ্যাম্বুলেন্স ঠিক করেন তিনি। ওই অ্যাম্বুলেন্সটি সদর থেকে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছালে চক্রের সদস্য টিটু চালককে হুমকি-ধমকি দেন। পরে ওই অ্যাম্বুলেন্সে অন্য এক রোগী তুলে শরীয়তপুর সদরে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়। এরপর একাধিক অ্যাম্বুলেন্সচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করেও সাড়া পাননি রিক্তা। চালকেরা তাকে জানান, টিটুর সঙ্গে কথা না বলে ভেদরগঞ্জে রোগী নিতে যাওয়া যাবে না।
দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রায় চার ঘণ্টা অপেক্ষার পর রিক্তা ও তার স্বজনেরা টিটুর কাছেই অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করে দেওয়ার অনুরোধ করেন। তবে টিটু তাদের জানান, শরীয়তপুরে কোনো অ্যাম্বুলেন্স খালি নেই, সবগুলো ভাড়া হয়ে গেছে। এ সময় হাসপাতালের সামনে প্রসববেদনায় ছটফট করতে দেখা যায় বৃষ্টি আক্তারকে। সাংবাদিকসহ স্থানীয় কয়েকজন ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে টিটুসহ চক্রের অন্য সদস্যরা সরে যান। পরে শরীয়তপুর সদর থেকে অ্যাম্বুলেন্স এনে বৃষ্টিকে ঢাকায় পাঠানো হয়।
ভুক্তভোগী বৃষ্টি আক্তারের বোন রিক্তা আক্তার বলেন, ‘বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টম্বর) দুপুরে আমার অন্তঃসত্ত্বা বোনকে নিয়ে ভেদরগঞ্জ হাসপাতালে এলে ডাক্তার তাকে দ্রুত ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। সরকারি অ্যাম্বুলেন্স খোঁজ করলে আনসার সদস্য জানান, সেটি নষ্ট। পরে হাসপাতালের গেটের সামনে থাকা নম্বর দেখে টিটুর সঙ্গে যোগাযোগ করি। টিটু আমার কাছে ৭ হাজার টাকা দাবি করেন।’
তিনি বলেন, ‘আমি শরীয়তপুরে খোঁজ নিয়ে ৫ হাজার টাকায় একটি অ্যাম্বুলেন্স ঠিক করি। গাড়িটি এনে আমার রোগীকে তুলতে গেলে টিটু বাধা দেন। পরে আমাদের রোগী না নিয়েই চালক চলে যান। টিটু জানায়, তার কাছ থেকে গাড়ি না নিলে এই হাসপাতাল থেকে কোনো রোগী ঢাকায় যেতে পারবে না।’
রিক্তার অভিযোগ, এরপর একাধিক অ্যাম্বুলেন্সচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কাউকে পাওয়া যায়নি। দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অ্যাম্বুলেন্সের জন্য হাসপাতালের সামনে বসে ছিলাম। পরে স্থানীয় কয়েকজনের সহযোগিতায় সদর থেকে অ্যাম্বুলেন্স এনে রোগীকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হই। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও এই দালাল চক্রের বিচার চাই।
প্রত্যক্ষদর্শীর অভিযোগ
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় ওষুধ ব্যবসায়ী আশরাফুল হক সজিব মাঝি (৩০) বলেন, হাসপাতালের গেটের পাশে তার ওষুধের ফার্মেসি। ওই দিন হঠাৎ হাসপাতালের ভেতর থেকে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনে তিনি এগিয়ে যান। তিনি বলেন, ‘গিয়ে দেখি একজন অন্তঃসত্ত্বা নারী মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালের সামনে বসে আছেন। শুনলাম, ডাক্তার তাকে দ্রুত ঢাকায় নিয়ে যেতে বলেছেন। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্সের কারণে প্রায় চার ঘণ্টা ধরে তিনি ঢাকায় যেতে পারছেন না। রোগীর স্বজনেরা সদর থেকে একটি অ্যাম্বুলেন্স এনেছিলেন। সেটিও সিন্ডিকেটের সদস্যরা যেতে দিচ্ছিলেন না। পরে তিনি ও স্থানীয় কয়েকজন প্রতিবাদ জানান এবং ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। এ সময় চক্রের সদস্য টিটু ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। পরে সদর থেকে অ্যাম্বুলেন্স এনে ওই নারীকে ঢাকায় পাঠানো হয় ‘
তিনি বলেন, ‘আমি সঙ্গে সঙ্গেই হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. নাসির উদ্দিনকে বিষয়টি জানিয়েছিলাম। তবে তিনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে আমাকে পুলিশকে জানাতে বলেন।’
সজিবের দাবি, ‘অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট এই হাসপাতালে নতুন কিছু নয়। প্রতিনিয়ত রোগীদের জিম্মি করে টাকা আদায় করলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নীরব ভূমিকা পালন করছে। পাশাপাশি দালাল চক্রের কারণে মানুষ এখানে চিকিৎসাসেবা নিতে এসে ভোগান্তিতে পড়ছে।’
রোগী আনতে গেলেও গুনতে হয় কমিশন
শরীয়তপুর সদরের অ্যাম্বুলেন্সচালক দুলাল মিয়া (৫০) দীর্ঘদিন ধরে শরীয়তপুর-ঢাকা সড়কে অ্যাম্বুলেন্স চালান। গত ১১ সেপ্টেম্বর বিকেলে ভেদরগঞ্জের অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা সদর থেকে রোগী আনতে ভেদরগঞ্জ হাসপাতালে গেলে সুমন, রাজু ও টিটুর কথা ছাড়া রোগী গাড়িতে উঠাতে দেয় না। একজন রোগী নিলে তাদের ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত কমিশন দিতে হয়। এ কারণে রোগীদের কাছ থেকে আমাদের অতিরিক্ত টাকা নিতে হয়। কমিশন না দিলে ভেদরগঞ্জ থেকে মাত্র ৫ হাজার টাকায় ঢাকা রোগী নেওয়া সম্ভব। কিন্তু কমিশন না দিলে আমাদের হাসপাতালে ঢুকতে দেওয়া হয় না তারা। তাই বাধ্য হয়ে তাদের কথায় গাড়ি চালাতে হয়।’
সরকারি পরীক্ষা বন্ধ থাকায় সক্রিয় দালাল চক্র
অন্যদিকে হাসপাতালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা বন্ধ থাকায় একাধিক দালাল চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, এসব চক্র হাসপাতালের বাউন্ডারির ভেতরে ঢুকে রোগীদের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যায়। সেখানে বেশি অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন পরীক্ষা করানো হয়।
গত ১১ সেপ্টেম্বর সকালে মাকে নিয়ে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন রাহিমা আক্তার (৩৫)। চিকিৎসক তার মায়ের বুকের এক্স-রে করার পরামর্শ দেন। কিন্তু হাসপাতালের এক্স-রে মেশিন নষ্ট থাকায় বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে পরীক্ষা করাতে হয় তাকে। রাহিমা আক্তার বলেন, ‘ডাক্তার পরীক্ষা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ক্লিনিকের দালালচক্র কাগজ হাতে নিয়ে আমাদের ক্লিনিকে নিয়ে যায়। তাদের ইচ্ছেমতো একেকটি পরীক্ষা করাতে অতিরিক্ত টাকা নেয়। আমরা গরিব মানুষ। এত টাকা দিয়ে বাইরের ক্লিনিক থেকে পরীক্ষা করানো আমাদের জন্য কষ্টকর।’
তিনি বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে বাইরের ক্লিনিক থেকে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। এই হাসপাতালে বেশিরভাগ পরীক্ষাই বাইরে থেকে করাতে হয়। সরকারের কাছে দাবি জানাই, সরকারি ব্যবস্থাপনায় অল্প খরচে এসব পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা করা হোক।’
অভিযুক্তদের বক্তব্য
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ছৈয়দ সুমন বলেন, ‘আমার একটি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে, যেটি হাসপাতালের ভেতরে থাকে। রোগীদের ঢাকা আনা-নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সটি হাসপাতালের ভেতরেই রাখি। এ কারণে অনেকেই মনে করেন, আমি অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত। এখানে কোনো সিন্ডিকেট নেই। যে যাকে নিয়ে ইচ্ছা ঢাকায় নিতে পারে।’
অপর অভিযুক্ত টিটু খানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।
যা বলছে কর্তৃপক্ষ
ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু নাঈম মো. ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, ‘অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের কারণে আমরা দীর্ঘদিন ধরে সমস্যার মধ্যে আছি। কিছু বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সচালক ও তাদের সহযোগীদের কর্মকাণ্ডে হাসপাতালের চিকিৎসার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘সরকারি অ্যাম্বুলেন্সটি আপাতত নষ্ট এবং চালক নেই। তাই অ্যাম্বুলেন্স সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আমাদের এখানে যন্ত্রপাতির সমস্যার কারণে কিছু পরীক্ষা করানো যাচ্ছে না। এরইমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হবে।’
অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)কে জানানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্থানীয় প্রশাসনের নজরে এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুবকর সিদ্দিক বলেন, ‘অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে জিম্মির বিষয়টি আসলেই দুঃখজনক। সিন্ডিকেটের কারণে রোগীদের যেন কোনো ধরনের ভোগান্তি না হয়, এ নিয়ে কাজ চলছে। কেউ যদি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেয়, তাহলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
The post অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট ও দালাল চক্রের হাতে জিম্মি ভেদরগঞ্জ হাসপাতাল first appeared on Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment.





