জিপি হাউসের সামনে সাবেক কর্মীদের গণসমাবেশ

টেলিনর সিইও-র সাম্প্রতিক সফরের প্রেক্ষাপটে ১৫ বছরের অমীমাংসিত বঞ্চনা নিরসনের দাবি

টেলিনর সিইও-র সাম্প্রতিক সফরের প্রেক্ষাপটে ১৫ বছরের অমীমাংসিত বঞ্চনা নিরসনের দাবি
১৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১৬:০৮  
টেলিনর গ্রুপের গ্লোবাল সিইও-র সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফরের প্রেক্ষাপটে আজ গ্রামীণফোনের (জিপি) চার শতাধিক সাবেক বঞ্চিত কর্মীরা জিপি হাউসের সামনে এক শান্তিপূর্ণ ও সুসংগঠিত গণসমাবেশ পালন করেছেন।
দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে ৪০০০ শ্রমিক পরিবারের পাওনা (WPPF ও ৫% বিলম্ব জরিমানা) পরিশোধে ১৫ এপ্রিল, বুধবার কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার প্রতিবাদে এবং আন্তর্জাতিক শ্রম মানদণ্ড অনুযায়ী দ্রুত নিষ্পত্তির দাবিতে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
সমাবেশে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, টেলিনর সিইও তার সফরে 'স্মার্ট বাংলাদেশ' ও 'শ্রম মান উন্নয়ন' নিয়ে যে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, গত ১৫ বছরের বাস্তবতায় তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। উল্টো গত ১৭ মাস ধরে চলমান আন্দোলনের পরও ৪০০০ পরিবারের পাওনা পরিশোধে কোম্পানিটি কোনো কার্যকর পদক্ষেপ বা আগ্রহ দেখায়নি। গ্রামীণফোনের মতো একটি শীর্ষস্থানীয় বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের এই অবস্থান 'দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণ' (Responsible Business Conduct - RBC) এবং বৈশ্বিক নৈতিকতার পরিপন্থী।
​প্রথাগত প্রভাব ও বিচারিক দীর্ঘসূত্রিতা: বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, গত দেড় দশকে প্রতিটি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় কোম্পানিটি প্রথাগত প্রভাবের রাজনীতি ব্যবহার করে শ্রমিকদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করেছে। বিচারিক দীর্ঘসূত্রিতাকে (Judicial Procrastination) অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে কর্মীদের 'Right to Remedy' বা প্রতিকার পাওয়ার পথ সুপরিকল্পিতভাবে রুদ্ধ করা হয়েছে। পাওনা আদায়ের অপেক্ষায় থেকে ইতিমধ্যে অনেক সহকর্মী অর্থাভাবে ও সুচিকিৎসার অভাবে প্রাণ হারিয়েছেন এবং হাজারো পরিবার আজ মানবেতর জীবনযাপন করছেন—যা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।
পরিষদের আহ্বায়ক আবু শাদাত মো: শোয়েব বলেন, "টেলিনর সিইও সম্প্রতি ঢাকায় উন্নয়নের যে রূপরেখা দিয়েছেন, তা তখনই বিশ্বাসযোগ্য হবে যখন ৪০০০ পরিবারের বকেয়া পাওনা বুঝিয়ে দেওয়া হবে। আমরা দীর্ঘ ১৬ বছর আইনের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা দেখালেও জিপি ম্যানেজমেন্ট আমাদের ধৈর্যকে দুর্বলতা হিসেবে গণ্য করেছে। আমরা চাই বর্তমান সরকার টেলিনরকে তাদের বৈশ্বিক ব্যবসায়িক প্রতিশ্রুতি এবং আন্তর্জাতিক নীতিমালা মেনে এই সংকট নিরসনে বাধ্য করুক।"
আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আদিবা জেরিন চৌধুরী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ​"মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, টেলিনরের নতুন বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি তখনই সার্থক হবে যখন প্রতিষ্ঠানটি তাদের দীর্ঘ ১৫ বছরের অমীমাংসিত শ্রমিক বিরোধের অবসান ঘটাবে। ৪০০০ পরিবারের আইনানুগ পাওনা আটকে রেখে কোনো প্রতিষ্ঠান প্রকৃত টেকসই উন্নয়নে পৌঁছাতে পারে না। আমরা বিশ্বাস করি, আপনার নেতৃত্বে এই নতুন বাংলাদেশে অতীতের সেই প্রভাব বিস্তারের রাজনীতির পুনরাবৃত্তি ঘটবে না; বরং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড (OECD & UN) অনুযায়ী প্রতিটি শ্রমিকের ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে। এই মানবিক সংকটের স্থায়ী সমাধানে আমরা আপনার সদয় ও জরুরি হস্তক্ষেপ প্রার্থনা করছি।"
সমাবেশ শেষে কর্মীরা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানান, তারা সংঘাত নয় বরং গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সম্মানজনক সমাধান চান। তবে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত আন্দোলন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে অব্যাহত থাকবে।
ডিবিটেক/এডিজে/এমইউআইএম