যবিপ্রবির রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলো ১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ
বাংলাদেশে জ্বালানি সংকটের সময়ে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে তারা রুফটপ সোলার সিস্টেমের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। সুপারস্টার রিনিউয়েবল এনার্জি লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তির আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়টি ১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে, যার একটি অংশ নিজস্ব চাহিদা পূরণে ব্যবহার হচ্ছে এবং অবশিষ্ট অংশ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।
গত বছরের ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই সোলার সিস্টেম থেকে নিজস্ব ব্যবহারের পরও প্রায় ৫৭ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়েছে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ ব্যয়ে প্রায় ২৬ শতাংশ সাশ্রয় হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৮০ শতাংশ সোলার প্যানেল চালু রয়েছে, যা আগামী মাসে শতভাগে উন্নীত হবে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মজিদ।
প্রায় দেড় লক্ষ বর্গফুট জায়গাজুড়ে স্থাপিত এই সোলার সিস্টেম থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ভাড়া বাবদও আয় করছে। ফলে এটি শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়, আর্থিক সাশ্রয় ও আয় বৃদ্ধিরও একটি কার্যকর উদ্যোগ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান বিদ্যুৎ চাহিদা প্রায় ২ মেগাওয়াট। পুরো সোলার সিস্টেম চালু হলে জাতীয় গ্রিড থেকে ১ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমে আসবে। এতে বিদ্যুৎ খাতে ব্যয় কমবে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়বে।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মজিদ বলেন, জ্বালানি সংকটের সময়ে এই উদ্যোগ জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। ইতোমধ্যে ৭০–৮০ শতাংশ সোলার সিস্টেম চালু হয়েছে।আগামী মাসে পুরো সিস্টেম চালু হলে উৎপাদন আরও বাড়বে। তিনি মনে করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়তন আরও বড় হলে পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হতো।
এই উদ্যোগকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আশার প্রদীপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় যদি যবিপ্রবির মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন করে তা ব্যবহার করে, তবে এটি হবে টেকসই উন্নয়নের পথে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
ডিবিকটেক/এমএনএ/এমইউআইএম



