অনশনরত শিক্ষার্থীদের নামে ছড়ানো ভুয়া ছবির সত্যতা উন্মোচন

অনশনরত শিক্ষার্থীদের নামে ছড়ানো ভুয়া ছবির সত্যতা উন্মোচন
১১ এপ্রিল, ২০২৬ ২০:৫৮  

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে তিন দফা দাবিতে আমরণ অনশনে বসা শিক্ষার্থীদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। অনশনরত শিক্ষার্থীরা লুকিয়ে আপেল ও জুস খাচ্ছেন—এমন দাবিতে কিছু ছবি বিভিন্ন আইডি ও পেজ থেকে প্রচার করা হলেও অনুসন্ধানে দেখা গেছে ছবিগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দিয়ে তৈরি বা সম্পাদিত।

এই দাবিতে পোস্ট আছে এখানে , এখানে এবং এখানে 

গত ৮ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই অনশনের প্রায় ৭০ ঘণ্টা পার হওয়ার পর থেকেই এই বিভ্রান্তিকর পোস্টগুলো ছড়াতে শুরু করে। তবে ভাইরাল হওয়া ছবিগুলো নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণে একাধিক অসংগতি ধরা পড়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ দাবি করা ছবিতে দেখা যায়, সময়ের জায়গায় ‘৩০ মিনিট ১২৩৩০১ সেকেন্ড’ উল্লেখ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অবাস্তব। এছাড়া ছবিতে থাকা ব্যক্তির শারীরিক গঠন এবং হাতের আঙুলের অস্বাভাবিক বিকৃতি স্পষ্টভাবেই এটি এআই দিয়ে তৈরির প্রমাণ দেয়।

গুগলের এআই শনাক্তকারী টুল ‘সিন্থআইডি’ (SynthID) ব্যবহার করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, এই ছবিগুলো গুগলের এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি বা সম্পাদন করা হয়েছে। এমনকি কিছু ছবির কোণায় জেমিনি এআই (Gemini AI)-এর লোগোও দৃশ্যমান, যা সাধারণত এআই দিয়ে ছবি তৈরি করলে জলছাপ হিসেবে থাকে। এছাড়াও এআই কনটেন্ট শনাক্তকারী টুল ‘হাইভ মডারেশন’-এ যাচাই করেও একই ফলাফল পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে, আপেল খাওয়ার দাবিতে ভাইরাল হওয়া ছবিটি মূলত সংবাদমাধ্যম ‘ঢাকা মেইল’-এর একটি প্রতিবেদন থেকে নেওয়া। মূল ছবিতে শিক্ষার্থীরা অনশনরত অবস্থায় থাকলেও এআই বা ডিজিটাল এডিটিংয়ের মাধ্যমে পরে সেখানে কৃত্রিমভাবে আপেল যুক্ত করা হয়েছে। ছবিতে আলো-ছায়ার অসামঞ্জস্যতা এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থান বিশ্লেষণ করলে এটি সহজেই ধরা পড়ে।

দৃশ্যমান এসব অসঙ্গতির কারণে ছবিটি গুগলের এআই শনাক্তকারী টুল সিন্থআইডি দিয়ে যাচাই করে দেখা যায়, এটি গুগলের এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি বা সম্পাদিত। এ ছাড়াও, এআই কনটেন্ট শনাক্তকারী টুল হাইভ মডারেশনেও একই তথ্য পাওয়া যায়।

যাচাইয়ে একই ঘটনায় আপেল খাওয়ার দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ছবির ডান কোণে গুগলের জেমিনি এআই (Gemini AI)-এর সাদা লোগো দেখা যায়। সাধারণত গুগলের এই এআই চ্যাটবট ব্যবহার করে ছবি তৈরি বা সম্পাদনা করা হলে এমন জলছাপ থাকে। এআই শনাক্তকারী টুল সিন্থআইডি দিয়ে যাচাই করে দেখা যায়, ছবিটি গুগলের এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি বা সম্পাদিত।

এ ছাড়া রিভার্স ইমেজ সার্চ করে জাতীয় গণমাধ্যম ঢাকা মেইলের একটি প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ছবির সঙ্গে ভাইরাল ছবির মিল পাওয়া যায়। অর্থাৎ, ভাইরাল ছবিতে পরবর্তীতে কৃত্রিমভাবে আপেল যুক্ত করা হয়েছে। ছবিতে অন্য লোকজনের অবস্থান ও আলো-ছায়া বিশ্লেষণেও দেখা যায়, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ডিজিটাল এডিটিংয়ের মাধ্যমে তৈরি করা।

ডিবেটিক/একে/ইকে