নাসা বিজ্ঞানীদের রহস্যময় মৃত্যু–নিখোঁজে বাড়ছে প্রশ্ন

নাসার ৯ বিজ্ঞানীর মৃত্যু নিয়ে রহস্য

নাসার ৯ বিজ্ঞানীর মৃত্যু নিয়ে রহস্য
১০ এপ্রিল, ২০২৬ ২০:৪৭  

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা–এর সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞানীদের একের পর এক রহস্যময় মৃত্যু ও নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। সর্বশেষ মাইকেল হিকস নামে নাসার এক জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানীর মৃত্যু এই তালিকায় নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

মাইকেল হিকস (৫৯) ক্যালিফোর্নিয়ার জেট প্রোপালশন ল্যাবরেটরি–এ ১৯৯৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত কাজ করেছেন। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে তার মৃত্যু হলেও এখন পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ বা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি। তিনি ডার্ট, নিয়ার আর্থ অ্যাস্টেরয়েড ট্র্যাকিং, ডন এবং ডিপ স্পেস-১–এর মতো গুরুত্বপূর্ণ মিশনে যুক্ত ছিলেন।

হিকসের মৃত্যুকে ঘিরে সরাসরি নাশকতার প্রমাণ না মিললেও তার শোকবার্তায় অ্যালকোহলিকস অ্যানোনিমাস–এ অনুদানের অনুরোধ জানানো হয়। এ ছাড়া তার সহকর্মী ফ্র্যাঙ্ক মাইওয়াল্ড ২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই মারা যান।

মার্কিন গণমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে নাসা ও পারমাণবিক গবেষণার সঙ্গে যুক্ত আরও অন্তত আটজন বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তা নিখোঁজ বা নিহত হয়েছেন।

এর মধ্যে মোনিকা রেজা ২০২৫ সালের জুনে হাইকিং করতে গিয়ে নিখোঁজ হন। উইলিয়াম নীল ম্যাককাসল্যান্ড ফেব্রুয়ারিতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফেরেননি। কার্ল গ্রিলমেয়ার নিজ বাড়ির বারান্দায় খুন হন।

এ ছাড়া লস আলামস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি–এর কর্মী অ্যান্থনি শ্যাভেজমেলিসা ক্যাসিয়াস ২০২৫ সালে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। নুনো লুরেইরো নিজ বাসায় খুন হন। জেসন থমাস কয়েক মাস নিখোঁজ থাকার পর মৃত অবস্থায় উদ্ধার হন।

এ ঘটনাগুলোর মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে জেট প্রোপালশন ল্যাবরেটরি থেকে স্বল্প সময়ের মধ্যে একাধিক বিজ্ঞানীর মৃত্যু ও নিখোঁজ হওয়া বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভেতরেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা রয়েছে বলে জানা গেছে। ডেইলি মেইল–কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এফবিআইয়ের সাবেক সহকারী পরিচালক ক্রিস সুয়েকার বলেন, ঘটনাগুলো সন্দেহজনক হিসেবে দেখা উচিত।

তিনি বলেন, এসব বিজ্ঞানী সংবেদনশীল ও জটিল প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছিলেন। দীর্ঘদিন ধরেই বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তির ওপর নজর রাখছে। তার মতে, চীন, রাশিয়া, ইরান, উত্তর কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশ এ ধরনের প্রযুক্তিতে আগ্রহী।

তবে এখনো পর্যন্ত এসব ঘটনার পেছনে সুস্পষ্ট কোনো কারণ বা প্রমাণ সামনে আসেনি। ফলে বিজ্ঞানী মহলে এই রহস্য আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

ডিবিটেক/এনপি/ডিএম/ইকে