শরীয়তপুরে অ্যাপের মাধ্যমে তেল বিতরণ করছে প্রশাসন

শরীয়তপুরে অ্যাপের মাধ্যমে তেল বিতরণ করছে প্রশাসন
২ এপ্রিল, ২০২৬ ০৯:০৪  
২ এপ্রিল, ২০২৬ ২১:৫৩  

শরীয়তপুরে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এখন থেকে পাম্পে তেল নিতে গেলে ব্যবহার করতে হচ্ছে বিশেষ একটি অ্যাপ, যেখানে পাম্পের নাম, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর, জ্বালানির ধরন ও পরিমাণ উল্লেখ করতে হচ্ছে। এই তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে জেলার সব ফিলিং স্টেশনে পৌঁছে যাচ্ছে, ফলে একজন বাইকার দিনে একবারের বেশি কোনো পাম্প থেকে তেল নিতে পারছেন না।

স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলায় মোট ছয়টি ফিলিং স্টেশনে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের চাহিদা রয়েছে। সাম্প্রতিক বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাবে জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় কিছু অসাধু চক্র একাধিক পাম্প থেকে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করে মজুত করছিল, যার ফলে প্রকৃত গ্রাহকরা ভোগান্তিতে পড়ছিলেন।

এমন পরিস্থিতে অ্যাপের মাধ্যমে নিয়মিত মনিটরিং বিষয়ে জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, আমরা জানতে পেরেছি কিছু ব্যক্তি একাধিক পাম্পে ঘুরে ঘুরে তেল সংগ্রহ করে মজুত করে রাখছে। এতে ওনাদের মজুত বাড়ছে আর আমাদের তেলের মজুত কমছে। এতে প্রকৃত গ্রাহক তেল পাচ্ছে না। কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে। আমরা এই সংকট ঠেকাতে গুগলের মাধ্যমে একটি বিশেষ অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট করেছি। যেখানে সকল পাম্পের তালিকা ও তেল নেওয়ার জন্য তিনটি অপশন পূরণ করতে হবে। এতে এক বাইকার দিনে একটি পাম্প থেকে একবার তেল সংগ্রহ করতে পারবে। কেউ আর বেশি করে তেল নিয়ে মজুত করতে পারবে না। আমরা অ্যাপটি ট্যাগ অফিসারের মাধ্যমে সব সময় মনিটরিং করছি।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় চালু করা অ্যাপভিত্তিক ব্যবস্থায় এক পাম্প থেকে তেল নেওয়ার পর অন্য পাম্পে গেলে তা শনাক্ত হয়ে যাচ্ছে এবং পুনরায় তেল নেওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ ও মজুতের সুযোগ কমে এসেছে।

বাইকচালক ও পাম্প সংশ্লিষ্টরা এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এতে যেমন হয়রানি কমছে, তেমনি প্রকৃত প্রয়োজন অনুযায়ী তেল পাওয়া নিশ্চিত হচ্ছে। 

অপরদিকে মেসার্স গ্লোরী ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মেহেদী হাসান বলেন, এই অ্যাপটি খুবই ভালো। যেখানে দিনে একবারের বেশি তেল নেওয়া যায় না। এখানে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের আলাদা আলাদা অপশন আছে। বাইকারের রেজিস্ট্রেশন নম্বর বসাতে হয়। যদি এক বাইকার দিনে একের অধিক পাম্পে তেল সংগ্রহ করতে যায় এপসের মাধ্যমে সো করে। এই উদ্যোগটি যদি ধরে রাখা যায় তাহলে সামনে কেউ আর তেল মজুত করতে পারবে না। 

ডিবিটেক/জেএনইউ/এমইউআইএম