আবার পেছালো নাসার চন্দ্রযান অভিযান

আবার পেছালো নাসার চন্দ্রযান অভিযান
২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১০:২৩  

আবারও পিছিয়ে গেল মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার উচ্চাকাঙ্ক্ষী চন্দ্রাভিযান ‘আর্টেমিস-২’। প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে আসলো মাসের উৎক্ষেপণ সম্ভব হচ্ছে না। আগামী এপ্রিল মাসের আগে এই অভিযান শুরু হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। খবর এনগ্যাজেট।

নাসা জানিয়েছে, গত ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারের উৎক্ষেপণ মঞ্চে প্রস্তুত অবস্থায় ছিল ‘স্পেস লঞ্চ সিস্টেম’ (এসএলএস) রকেট। সেই সময় রকেটের উপরের অংশে হিলিয়াম গ্যাসের প্রবাহে বিঘ্ন ঘটে। ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায় পুরো প্রক্রিয়া।

প্রাথমিকভাবে ৬ মার্চ উৎক্ষেপণের কথা থাকলেও এই ত্রুটির জেরে সেই সম্ভাবনা শেষ। এখন অন্তত এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহের আগে অভিযান শুরু করা সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন নাসা প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান। তবে এপ্রিল মাসের শুরুতে বা শেষের দিকে নতুন উৎক্ষেপণের সময় নির্ধারণ করা হতে পারে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।

এই প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণ অনুসন্ধান ও মেরামতের জন্য পুরো ৯৮ মিটার উচ্চতার রকেটটি উৎক্ষেপণ মঞ্চ থেকে সরিয়ে কেনেডি স্পেস সেন্টারের ভেহিকেল অ্যাসেম্বলি বিল্ডিংয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২৪ ফেব্রুয়ারি এই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

হিলিয়াম গ্যাসের এই সমস্যা সম্পূর্ণ নতুন। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি সফলভাবে ‘ওয়েট ড্রেস রিহার্সাল’ (উৎক্ষেপণের পূর্ণাঙ্গ মহড়া) সম্পন্ন হয়েছিল। এরপর স্বাভাবিক পদ্ধতি অনুসরণ করে গ্যাস প্রবাহ পুনরায় চালু করতে গিয়েই এই সমস্যা দেখা দেয়।

‘আর্টেমিস-২’ অভিযানে চারজন নভোচারী চাঁদের চারপাশে প্রদক্ষিণ করে পৃথিবীতে ফিরবেন। ১৯৭২ সালের পর এটিই হবে প্রথম মানববাহী চন্দ্রাভিযান। এই মিশনের নভোচারী দলে রয়েছেন নাসার তিন নভোচারী রেইড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কখ এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন।

এই চার নভোচারী ইতিমধ্যে সংক্রমণ এড়াতে কোয়ারেন্টিনে চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু সমস্যার কারণে তাদের আবারও হিউস্টনে অবস্থিত জনসন স্পেস সেন্টারে ফিরে যেতে হয়েছে।

হিলিয়ামের এই সমস্যা সমাধান করা সম্ভব না হলে এপ্রিলের সময়সূচীও হুমকির মুখে পড়তে পারে। তবে নাসা আশাবাদী যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে। ‘আর্টেমিস-২’ সফল হলেই চন্দ্রপৃষ্ঠে মানব অবতরণের লক্ষ্যে ‘আর্টেমিস-৩’ অভিযানের পথ প্রশস্ত হবে, যা ২০২৮ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

ডিবিটেক/বিএমটি