১ মাসে ২৯ শতাংশ বাংলাদেশ থেকে কন্টেন্ট ডাউন করেছে সোশ্যাল মিডিয়া

১ মাসে ২৯ শতাংশ বাংলাদেশ থেকে কন্টেন্ট ডাউন করেছে সোশ্যাল মিডিয়া
২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১১:৪৬  

নির্বাচন সামনে রেখে ভুয়া তথ্য, গুজব ও ক্ষতিকর অনলাইন কনটেন্ট  সনাক্ত করে এ বিষয়ে রিপোর্ট করতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি-কে দিচ্ছে আইসিটি বিভাগের অধীন জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির (এনসিএ)। দিনরাত ২৪ ঘণ্টা এই দায়িত্ব পালন করছে এনসিএ’র ২১ সদস্যের একটি দল। গত এক মাসে রিপোর্ট করা কন্টেন্টের ২৯ শতাংশ দ্রুতই নামিয়ে ফেলেছে ফেসবুক, টিকটক ও ইনস্টাগ্রাম।   

২৭ জানুয়ারি, মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে দেশের সর্ববৃহৎ তথ্যপ্রযুক্তি প্রদর্শনী ‘ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই জানিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন,   বর্তমান সাইবার সেফটি অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী এনসিএস দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা। গতরাতেই প্রধান উপদেষ্টাকে নিয়ে এআই দিয়ে ‘ভোট হাবে না’ বলে যে ভিডিও ফেসবুকে ছড়ানো হয়েছে সঙ্গে সঙ্গেই তা সনাক্ত করে রিপোর্ট করা হয়েছে। আজই হয়তো সেটি আর দেখা যাবে না।  শুনে খুশি হবেন, মিসইনফরমেশন ও ক্ষতিকর ন্যারেটিভ মোকাবিলায় মাল্টিপল ডিপার্টমেন্ট ও এজেন্সির সমন্বয়ে একটি হাই-পাওয়ার কমিটি কাজ করছে। ১৫ সদস্যের একটি টিম নিয়মিতভাবে মনিটরিং করছে এবং একই সঙ্গে আমাদের ২১ জন প্রকৌশলী ২৪ ঘণ্টা এ কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। বিটিআরসি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোকে রিপোর্ট করলে তারা তাদের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী কনটেন্ট পর্যালোচনা করে। অনেক সময় বানান বা উপস্থাপনা কৌশলে নিয়ম এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়, তবুও গত এক মাসে রিপোর্ট করা কনটেন্টের প্রায় ২৯ শতাংশ টেকডাউন করা সম্ভব হয়েছে।

সচিব জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো সন্দেহজনক পোস্ট বা কনটেন্ট শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা বিশ্লেষণ ও ফ্যাক্টচেক করা হয়। যাচাই শেষে তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় সাইবার সিকিউরিটি (এনসিএস) কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট পাঠানো হয়। সেখান থেকে বিষয়টি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কাছে যায়। তারাই রিপোর্ট করে। 

শীষ হায়দার চৌধুরী বলেন, ডিজিএফআই, এনএসআই ও স্পেশাল ব্র্যাঞ্চ (এসবি)-এরও ডেডিকেটেড ২৪ ঘণ্টার টিম রয়েছে উল্লেখ করে আইসিটি সচিব বলেন, আমাদের রিপোর্টের বাইরেও এসব সংস্থা আরও বহু কনটেন্ট শনাক্ত ও রিপোর্ট করে থাকে। অনেক ক্ষেত্রেই একই কনটেন্ট একাধিক সংস্থা থেকে রিপোর্ট হওয়ায় বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।

নির্বাচনকালীন ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়েও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য মিসইনফরমেশন, ডিসইনফরমেশন, হেট স্পিচ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী কনটেন্ট যেন সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে না পারে।

বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মামুনুর রশীদ ভুঞা, সদস্য (বিনিয়োগ ও পার্ক সমন্বয়) ও আইসিটি বিভাগের যুগ্মসচিব মোহাম্মদ সাইফুল হাসান এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, মহাসচিব মনিরুল ইসলামসহ আইসিটি বিভাগ, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ, আইডিয়া প্রকল্প এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
ইএমও/আইকে