ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন সাগরে ছুড়ে ফেলেছিলেন শহিদুল আলম

ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন সাগরে ছুড়ে ফেলেছিলেন শহিদুল আলম
১ নভেম্বর, ২০২৫ ১০:১৫  
১ নভেম্বর, ২০২৫ ১০:১৮  
ফ্লোটিলা চড়ে গাজা অভিমুখে দুঃসাহসিক যাত্রার সময় ইসরাইলি বাহিনীর হাতে আটক হওয়ার আগেই নিজের ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন সাগরে ফেলে দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত ফটো সাংবাদিক ও দৃক গ্যালারি প্রতিষ্ঠাতা ড. শহিদুল আলম। লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক তাইসির মাহমুদের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এমনটা জানিয়েছেন তিনি। ডিভাইস দুটিতে থাকা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যত্তিদের ম্যাসেজ, রেকর্ড ও ডকুমেন্টের সুরক্ষায় এই কাজটি করতে হয় ২০১৮ সালে টাইম ম্যাগজিনের টাইম বর্ষসেরা এই ব্যক্তিত্বকে।
সাম্প্রতিক সময়ে গাজা উপকূলের ১৩০ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে পৌঁছানো প্রথম অননুমোদিত নৌ মানবিক মিশনে অংশনেয়া একমাত্র বাংলাদেশী এই মানবাধিকার কর্মীর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতা নিয়ে ১ নভেম্বর নিজের ফেসবুক পেজে লেখা পোস্টে বিষয়টি শেয়ার করেছেন লন্ডন থেকে প্রকাশিত বাংলা সাপ্তাহিক দেশ সম্পাদক। তাকে শহিদুল আলম জানান, তাদের বহনকারী ফ্লোটিলা নৌবহরটি যখন গাজা উপকূলে পৌছতে ১৩০ কিলোমিটার পথ বাকি আছে, তখনই ইসরাইলী বাহিনী হেলিকপ্টারে চড়ে এসে তাদের নৌবহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় ।হেলিকপ্টার যখন জাহাজের কাছাকাছি চলে আসছিলো তখনই তিনি তার সঙ্গে থাকা ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন সাগরে ছুড়ে ফেলেন।
‘যদিও সেটা ছিলো খুবই কষ্টের, কিন্ত এছাড়া উপায় ছিলোনা। কারণ ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোনে তার অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিবর্গের সাথে ম্যাসেজ আদান প্রদানের রেকর্ড, ডকুমেন্টস ছিলো । তারা এসব পেয়ে গেলে মিথ্যা মামলায় জড়াতে পারে’ - বলেন শহিদুল আলম। 
অবশ্য ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন সাগরে ফেলে দিয়েও রক্ষা হয়নি শহিদুল আলমের। তিনি সহ বহরের ৫০ জনেরও বেশি মানবাধিকার কর্মীকে গ্রেফতার করে ইসরায়েলের মরুভূমির মধ্যখানে একটি জেলখানায় বন্দী করে রাখা হয়।  তাদেরকে একটি কাগজে স্বাক্ষর করতে বলা হয়। যাতে লেখা ছিলো, তারা অবৈধভাবে ইসরাইলে প্রবেশ করেছেন। তিনি তাতে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানান । বলেন, আমি অবৈধভাবে প্রবেশ করিনি, বরং তোমরাই আমাদের অবৈধভাবে নিয়ে এসেছো। এরপর অনেক কথা কাটাকাটির পর তারা সেটি পরিবর্তন করে নিয়ে আসে। এরপর তিনি স্বাক্ষর করেন। বাহাত্তর ঘন্টা পর তিনিসহ অন্যদের মুক্তি দেওয়া হয়।
শহিদুল আলম বলেন, আটক হওয়ার পরই দেশে বিদেশে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনুস, তারেক রহমানও বিবৃতি দেন। সবকিছু মিলিয়ে তারা তাকে আটকে রাখার সাহস করতে পারেনি।
তিনি বলেন, যখনই আপনি প্রতিবাদ করবেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াবেন- তখনই নিপীড়ক দুর্বল হয়ে পড়বে। আপনি চুপসে গেলেই সে আপনার ওপর চড়াও হয়ে যাবে। সুতরাং প্রতিবাদ অব্যাহত রাখতে হবে। প্রতিবাদের বিকল্প নেই।
গত ২৯ অক্টোবার মঙ্গলবার সকালে পৃর্ব লন্ডনে একটি অফিসে তাইসির মাহমুদের সঙ্গে ড. শহিদুল আলমের সাথে এই আলাপনটি হয়েছে। পোশাক-আশাক, চলফেরা একেবারেই সাধারণ জলেওও মি. আলমকে ‘খুবই দৃঢ়চেতা’ একজন মানুষ বলে মন্তব্য করেছেন তাইসির। তিনি জানান,  একটি অনুষ্ঠানে তাঁকে (শহিদুল আলম) প্রথান অতিথি হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিলে তিনি বলেন, আমি আসলে ওই প্রধান অতিথি কিংবা বিশেষ অতিথির কাঠামোর মধ্যে থাকতে পছন্দ করি না। সাধারন মানুষের মতো থাকতেই স্বাচ্ছন্দবোধ করি।