‘প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা কর্মজীবনে নিচের স্তরে নামতে চাচ্ছে’
তথাকথিত তিন দফার মাধ্যমে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কর্মজীবনের উপরের স্তর থেকে নিচের স্তরে নামতে চাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ডিপ্লোমা ইঞ্জিডনিয়ারিং সংগ্রাম পরিষদের নেতারা। সরকারকে বেকাদায় ফেলতে এবং নির্বাচন বানচাল করতেই এমন আন্দোলন বলেও মন্তব্য করেছেন তারা।
৩০ আগস্ট, শনিবার দুপুরে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র শিক্ষক পেশাজীবী সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারর্স ইনস্টিটিউশনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলন এমন মন্তব্য করেন তারা। ‘বিএসসি প্রকৌশলীদের অযৌক্তিক দাবি, নৈরাজ্যের প্রতিবাদ এবং ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের যৌক্তিক সাত দফার পক্ষে’ এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। নিজেদের সাত দফা দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলেও জানায় সংগঠনটি।
লিখিত বক্তব্য সংগঠনের সদস্য সচিব প্রকৌশলী ইমাম উদ্দিন বলেন, 'প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত ৩ দফা দাবির কোনো যৌক্তিকতা নেই। কেননা, বিষয়গুলো সরকারের ১৯৭৮ ও ১৯৯৪ সালের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নির্ধারিত রয়েছে। আমরা মনে করি, তাদের এই আন্দোলনের পেছনে কোনো অপশক্তির ইন্ধন রয়েছে। তারা আন্দোলনের মাধ্যমে পুরো প্রকৌশল শিক্ষাঙ্গণ ও প্রকৌশল কর্মক্ষেত্রকে অস্থিতিশীল করার পাশাপাশি দেশে চরম নৈরাজ্য পরিস্থিতি তৈরি করতে চাচ্ছে।'
তিনি বলেন, 'প্রকৌশল কর্মক্ষেত্রের মীমাংসিত বিষয়গুলো অক্ষুণ্ন রাখবেন। আমাদের ৭ দফার অন্যান্য দাবিগুলোর যৌক্তিক সমাধান করবেন। আমরা সরকারের বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ নির্মাণের দর্শনের প্রতি আস্থাশীল। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকৌশল পেশায় বিএসসি ডিগ্রিধারী ও ডিপ্লোমাধারীদের পেশাগত দাবিগুলোর যৌক্তিকতার সুপারিশ প্রণয়নের জন্য ৮ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির সভাপতি বিদ্যুৎ, জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান এবং সদস্য সচিব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক। এই কমিটিতে সরকারের ৩ জন উপদেষ্টা রয়েছেন। এই কমিটির সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক ১৪ সদস্যবিশিষ্ট ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে এই কমিটিতে মাত্র ৪ জন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার সদস্য হয়েছেন।'
ইমাম উদ্দিন বলেন, 'বিএসসি ডিগ্রি প্রকৌশলীদের আধিক্যতার কারণে পক্ষপাতিত্বের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। ওয়ার্কিং কমিটিতে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার ও ডিগ্রি ইঞ্জিনিয়ারদের পক্ষে থেকে একজন করে অন্তর্ভুক্ত রেখে অবশিষ্ট ১২জন নিরপেক্ষ সাধারণ প্রশাসনিক ক্যাডারের অন্তর্ভুক্ত করে ওয়ার্কিং কমিটি পুনর্গঠনের দাবি জানাচ্ছি।'
ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করলে, তারা বসে থাকবেন না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা কর্মসূচি দিইনি মানে আমরা কর্মসূচি দেব না, তা নয়। সময়মতো আমরা ঠিকই কর্মসূচি দেব।’
সংবাদ সম্মেলনে আইডিইবির সভাপতি কবির হোসেন বলেন, বিএসসি প্রকৌশলীদের তিন দফা দাবি আসলে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের অর্জিত অধিকার খর্ব করার প্রচেষ্টা। তিনি বলেন, ১৯৭৮ ও ১৯৯৪ সালের নীতিমালা অনুযায়ী ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা দশম গ্রেডে নিয়োগ পান এবং পদোন্নতির সুযোগ থাকে। কিন্তু বিএসসি প্রকৌশলীরা বলছে, ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের প্রকৌশলী বলা যাবে না এবং তাঁরা দশম গ্রেড থেকে নবম গ্রেডে পদোন্নতি পাবেন না। অথচ নিজেরা নবম গ্রেড থেকে এক নম্বর পর্যন্ত সব জায়গায় শতভাগ কোটা ভোগ করছেন।
প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দাবি বাস্তবায়িত হলে সারা দেশের ৫ শতাধিক পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট বন্ধ হয়ে যাবে বলেও জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।
এক প্রশ্নের উত্তরে প্রকৌশলী আখেরুজ্জামান বলেন, 'প্রকৌশলীদের তিন দফা দাবি মেনে নিলে তো ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের চাকুরির ক্ষেত্র সংকুচিত হবে এবং এই পদ্ধতিতে পড়ালেখাও বাদ হয়ে যেতে পারে। কেননা, মেট্রোরেলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য সংরক্ষিত পদে বিএসসি ইঞ্জিনিয়াররা আবেদন করেছে। এমনকি মামলা করে পরীক্ষা স্থগিত করেছে। এতে রাষ্ট্রের ক্ষতি, জনগণের ক্ষতি।'
এসময় প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে বিভ্রান্ত না হয়ে নিজেদের সাত দফা বাস্তবায়নের দাবি জানান ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পেশাজীবী সংগ্রাম পরিষদের নেতারা।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র-শিক্ষক-পেশাজীবী সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মোসলেম উদ্দিন, এরশাদ উল্যাহ, জয়নুল আবেদীন, আবদুস সাত্তার শাহ, জ্যেষ্ঠ সদস্যসচিব মিজানুর রহমান, সহজনসংযোগ ও প্রচার সম্পাদক সাহাবুদ্দিন প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের নামের আগে প্রকৌশলী ব্যবহার করতে না দেয়াসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন বুয়েটসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএসসি ইঞ্জিনিয়াররা। অন্যদিকে, উপসহকারী প্রকৌশলী পদে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়োগের সুযোগ না দেয়াসহ ৭ দফা দাবিতে আন্দোলন করছেন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়াররা।







