সাইবার আক্রমণের মাধ্যমে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে
জামায়াত আমিরের আইডি হ্যাকে বঙ্গভবনের ই-মেইল ব্যবহার করা হয়েছে
বাংলাদেশ জামায়েতে ইসলামির প্রতি নারীদের বিপুল সমর্থন দেখে দলটির আমিরের আইডি হ্যাক করে সেখান থেকে মিথ্যা তথ্য দেয়া হয়েছে।
২ ফেব্রুয়ারি, সোমবার রাজধানীর মগবাজারের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিকেল সাড়ে ৫টায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সংঘটিত নানা বিষয় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
তিনি বলেন, হ্যাক করতে বঙ্গভবনের ই-মেইল ব্যবহার করা হয়েছে। নারীদের ওপর ক্রমাগত হামলা করে সাইবার বুলিং হচ্ছে। শারীরিক টর্চার হচ্ছে। হিজাব খুলে নেয়ার হুমকি দিচ্ছে। নারীদের নিয়ে চরম আপত্তিজনক কথা বলা হচ্ছে। তারা আচরণ বিধি মেনে তারা কাজ করলেও তাদের ওপর একের পর এক হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে পরিকল্পিত ও ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে জমায়াতে আমিরের টুিইটার হ্যাক করা হয়েছে। সেখানে যে পোস্ট দেয়া হয়েছে, তাতে বোঝাই যাচ্ছে তারা আমাদের অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ করতেই এমনটা করেছেন। বঙ্গভবনের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে এটা করা হয়েছে। সেটা গতকালই আপনাদের দেখিয়েছি। অর্থাৎ বাংলাদেশের এই সাইবার সুরক্ষা ব্যবস্থায় কে বা কারা এগুলো করছে এই সব কিছুই তদন্ত করে দেখা উচিত। আমরা মনে করি দ্রুত তদন্ত করে এর পেছনের ব্যক্তিদের পরিচয় বের করে আইনের মুখোমুখি করা হোক।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) একজন শীর্ষ নেতা বোরখা নিয়ে কমেন্ট করেছেন, নির্বাচনের দিন হিজাব খুলে দেখতে হবে। এর মাধ্যমে নারীদের তারা ভীতিকর ম্যাসেজ দিচ্ছেন। জামায়াতের প্রতি নারীদের যে বিপুল সমর্থন আমরা দেখছি। আমাদের জনসভায় নারীদের উপস্থিতি দেখে তাদের মাথায় বড় ধরনের কোনো চাপ হয়েছে, যার কারণে তারা নারীদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ করছে। একটার পর একটা ঘটনা ঘটে যাচ্ছে, তারপরও তাদের বোধোদয় হচ্ছে না। উল্টো আমাদের আমীরে জামায়াত নারীদের প্রতি দায়িত্বশীল কথা বলছেন। অন্যদিকে জামায়াত আমিরের টুইটার একাউন্ট বঙ্গভবনের মতো সুরক্ষিত জায়গা থেকে হ্যাক করা হয়েছে। তাহলে জাতীয় নিরাপত্তা কোথায়। জাতীয় নিরাপত্তার ব্যাপারে আমরা উদ্বিগ্ন। সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে এ ব্যাপারে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
জামায়াতের এ নেতা বলেন, বিগত ১৭ দিনে ৩৩ জেলায় বিভিন্নভাবে সন্ত্রাসীরা এবং বড় একটি দলের নেতাকর্মীরা উসকানি দিয়েছেন, আমাদের ভোটের জন্য কাজ করা নারী বা মহিলা কর্মীদের হুমকি দিয়েছেন, অশালীন মন্তব্য করেছেন এবং তাদের প্রতি এমন সব আচরণ ও কটূক্তি করেছেন, যা কোনো সুস্থ মানুষ কল্পনা করতে পারেন না। কোনো কোনো জায়গায় তাদের শারীরিকভাবে হামলা-আঘাত করে আহত করা হয়েছে।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, আজ আমরা আশ্চর্য হলাম যে সেই চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা উচ্চ আদালতে এসে জামিন নিয়েছেন। এত বড় একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড যেটি প্রকাশ্য দিবালোকে হয়েছে, সেই হত্যাকাণ্ডের এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই চিহ্নিত সেই সমস্ত সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের গ্রেপ্তার তো দূরের কথা, বরং তাদের জামিন দিয়ে জনমনে স্বাভাবিকভাবে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে। যেখানে হত্যাকাণ্ডের রক্তের দাগ এখনো শুকিয়ে যায়নি সেখানে খুনি ও সন্ত্রাসীরা এইভাবে পার পেয়ে যাবে।
তিনি বলেন, 'এ মামলায় আগাম জামিন দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই, বিশেষ করে যখন এমন নৃশংস ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর হত্যাকারীরা প্রকাশ্য দিবালোকে অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে।'
তিনি আরও বলেন, 'নিহতের স্ত্রী, সন্তান ও স্বজনদের যন্ত্রণা-কষ্ট এখনো শেষ হয়নি। সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও গভীর উদ্বেগ রয়েছে। এলাকাবাসী তাদের প্রিয় নেতাকে হারিয়ে কষ্ট ও বেদনার ভেতরে তারা আছেন। এ অবস্থায় সন্ত্রাসীদের জামিন দেওয়ার মাধ্যমে আমরা মনে করি আইনের শাসন বাদ দিয়ে অনুকম্পা দেখানো হচ্ছে। আমরা এ ব্যাপারে সংক্ষুব্ধ। আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করতে বলেছি, যাতে উচ্চ আদালত এই জামিন স্থগিত করেন।'
জুবায়ের বলেন, 'এমন পরিস্থিতিতে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও খুনিদের জামিন দেওয়া নিঃসন্দেহে আইনের শাসনের ওপর বড় আঘাত। আমরা এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছি এবং উচ্চ আদালতে যাবো।'
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সাংবাদিক ওলিউল্লাহ নোমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সহকারী প্রচার সম্পাদক আব্দুস সাত্তার সুমন।
ডিবিটেক/ডিপিএন/ইকে



