গুগল টেক কোম্পানি নয়, মার্কেটিং কোম্পানি
ওপেন সোর্স ক্লাউডের মাধ্যমে ডেটার সার্বভৌমত্ব অর্জনে গুরুত্বারোপ করেছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। এক্ষেত্রে লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমের সঙ্গে জোট বেধেছে ওপেন স্ট্যাক। ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে একক আধিপত্য ভেঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে বিশ্বর ১৮০ দেশের ডেভেলপাররা কাজ করছেন। সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের ডেভেলপারদেরও এক্ষত্রে এগিয়ে আসা দরকার বলে মনে করেন প্লেক্সাস ক্লাউডের প্রধান নির্বাহী মোবারক হোসেন। বললেন, ক্লাউড থকলে ইন্টারনেট বাধা হতে পারবে না।
প্রযুক্তি জায়ান্টদের তথ্য উপাত্ত দিয়ে তিনি বলেন, গুগল টেক কোম্পানি নয়, এটি একটি মার্কেটিং কোম্পানি। তাদের দেয়া মেকি লাভ থেকে লোভ এবং সেখান থেকে আমাদের বন্দি করে ফেলেছে। এই বন্দিত্ব থেকে মুক্তি পেতে আগে মানসিক বন্দিত্ব থেকে মুুক্ত হওয়া দরকার।
আগামী ২০৪৯ সাল নাগাদ ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে ঘ্রাণ ছড়াতে পারবে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, এরইমধ্যে পঞ্চইন্দ্রিয়ের সব শেষ শক্তি ব্রেইন নিয়ে কাজ চলছে। এই ব্রেইন উন্নয়নে গুগল এর মতো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তথ্য নিচ্ছে। অথচ আমাদের সম্পদই তাদের হাতে তুলে দিয়ে নিজেরাই ডিজিট্যালি বন্দি হয়ে যাচ্ছি। পুরো পৃথিবী এখন ইন্টারনেটের ক্যাবলের একপ্যাচে সংযুক্ত জানিয়ে মোবারক বলেছেন, আজ আমরা প্রযক্তির মাধ্যমে বন্দিজীবন যাপন করছি। জিমেইলের ডট মুছে দিলেই সব স্মার্টফোন অকেজো হয়ে পড়বো। তাই আমাদের ডিজিটালি আমাদের স্বাধীন হতে হবে। পৃথিবীর চোখে আমাদের সমান হতে হব। আর ক্রেতা হিসেবে থাকা যাবে না।
ডেটা সেন্টার স্থাপনের পর ডেটার পূর্ণ অধিকার নিজেদের হাতে থাকতে হবে। ডেটায় আঞ্চলিক অধিকার, প্রবেশাধিকার ও নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে থাকতে হবে। নিজস্ব ক্লাউড প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় আইন প্রয়োজন। এখন বিশ্বে ভয়ের ব্যবসা চলছে মন্তব্য করে তিনি আরো বলেন, প্রযুক্তে হচ্ছে তেজী ঘোড়ার মতো। তাই প্রযুক্তির দ্রুত বদলের ফলে আইন ততটা দ্রুত পরিবর্তন করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই আমাদের এক্ষেত্রে সার্বভৌত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে প্রযুক্তিতে নিজেদের পূর্ণ অধিকার প্রতিষ্ঠার ওপর। ব্যবহারের ক্ষত্রে প্রোডা্ক্ট লকিংয়ের বিষয়ে সচেতন হতে হবে।
বাংলাদেশ আইসিটি জার্নালিস্ট ফোরামের আয়োজনে ২৭ আগস্ট, বুধবার রাজধানীর বনানী ক্লাবে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় এসব কথা বলেন তিনি।
কর্মশালার সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইটির পরিচালক বিএম মইনুল হোসেন বলেন, ডেটা হচ্ছে ফুুয়েল। এই ডেটা অ্যমাজান বা ফেসবুকের কাছে থাকে তবে তার নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে থাকব না। তাই আমাদের তাদের সেবা না নিয়ে একটু ছাড় দিয়ে হলেো দেশের কোম্পানির কাছে থেকে নেয়া উচিত। এজন্য মিডিয়াকে ক্লাউডের বিষয়ে জানতে হবে। এ বিষয়ে সবাকে সচেতন করতে হবে।
স্বাগত বক্তব্যে বিআইজেএফ সহ সভাপতি ভূঁইয়া এনাম লেনিন বলেন, এআই দুয়ার ভেঙ্গে ঘরে ঘরে ঢুকে গেছে। তাই চ্যাটজিপিটি, ডিপসিক বিষয়ে শিখতে হবে। জানতে হবে ক্লাউড। চিনতে হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে। তা না হলে সমাজর বিভ্রান্তি তৈরি হবে।
কর্মশালায় অন্যান্যের মধ্যে সাবেক সভাপতি নাজনীন নাহার তার বক্তব্যে গণমাধ্যম কর্মীদের নিত্য প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে বিআইজেএফ সভাপতি হিটলার এ. হালিম বলেন, এ ধরনের কর্মশালা প্রযুক্তিকে বুঝতে সহায়তা করে। যা আমাদের রিপোর্ট, ফিচার লিখতে সাহায্য করে। বিআইজেএফ সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের জন্য আগামীতে এআই-সহ সময়পোযোগী প্রযুক্তি নিয়ে কর্মশালা, নলেজ শেয়ারিং সেশনের আয়োজন করা হবে। সমাপনী বক্তব্যে একই আশ্বাস ব্যক্ত করেন সাধারণ সম্পাদক সাব্বিন হাসান।







