বন্যা উপদ্রুত এলাকায় টেলিযোগাযোগ সচলে এসওএফ ফান্ড ব্যবহারের সিদ্ধান্ত

বন্যা উপদ্রুত এলাকায় টেলিযোগাযোগ সচলে এসওএফ ফান্ড ব্যবহারের সিদ্ধান্ত
১১ জুলাই, ২০২৫ ১১:১৪  
১১ জুলাই, ২০২৫ ১৫:২৩  

বৃষ্টি ও উজানের ঢলে প্লাবিত হয়েছে নিম্নাঞ্চল সহ দেশের বেশ কয়েকটি জেলা। বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে জলাবদ্ধতা ও নদীভাঙনের ফলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে কুমিল্লা, ফেনী, ও নোয়াখালীর পরিস্থিতি অপেক্ষাকৃত নাজুক। পানিতে তলিয়েছে ফেনী সদর ও ছাগলনাইয়া উপজেলার শতাধিক গ্রাম। ফলে চার উপজেলায় বিদ্যুৎ সংযোগের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে মোবাইল নেটওয়ার্ক। নোয়াখালী সদর, কবিরহাট ও সেনবাগ উপজেলাযর পরিস্থিতিও একই।

এমন পরিস্থিতিতে দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় বিকল্প জ্বালানী শক্তি হিসেবে জেনারেটর সরবরাহ কিংবা জেনারেটর চালু রাখতে ডিজেলের ব্যবস্থা করা এবং বিটিএসগুলোর ব্যাটারির চার্জ দেয়ার ক্ষেত্রে মোবাইল অপারেটরদের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। আপদকালীন সময়ে নাগরিকদের একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত রাখতে সংস্থার  সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল (এসওএফ) থেকে সহায়তা দেয়া হচ্ছে।

১১ জুলাই, শুক্রবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। পোস্টে তিনি লিখেছেন,  “বন্যা পরিস্থিতির অবনতির সাথে সাথে আমরা ফেনী, নোয়াখালী ও কুমিল্লার বন্যা উপদ্রুত এলাকায় টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক সেবা সচল রাখার জন্য ডিজেল জেনারেটর মবিলাইজেশনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সরকার এসওএফ ফান্ড থেকে দুর্যোগকালীন ফুয়েল খরচের একাংশ বহন করবে বলে সার্ভিস প্রভাইডারদের আশ্বাস দিয়েছে। উল্লেখ্য যে, SOF টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানকারীদের জমানো টাকা, মূলত সরকারের অর্থ নয়। এটা দিয়ে দূর্গত অঞ্চলে টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও সচল রাখার জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়।”

ফেসবুক পোস্টের সঙ্গে নেটওয়ার্ক সচল রাখকে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের নিরলস পরিশ্রমের ছবি শেয়ার করে ফয়েজ আরও উল্লেখ করেন, টেলিকম কর্মীদের চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কাজ করে যাচ্ছেন।

তাদের এই ‘সেবা মনোবৃত্তি’ ও ‘ডেডিকেশন’ উল্লেখ করে তিনি প্রশংসাও করেছেন। ছবিগুলো থেকে প্রতীয়মান হয়েছে, বন্যায় প্লাবিত ও অনেক রাস্তায় ভেঙ্গে যাওয়ায় নেটওয়ার্ক সচল রাখতে চলাচলের পাশাপাশি জেনারেটর কিংবা ডিজেটল পরিবহনে ব্যাপক কষ্ট করতে হচ্ছে মাঠকর্মীদের। নিজেরাই ভাঙ্গা রাস্তায় বাঁশ দিয়ে সাঁকো তৈরি করে বিচ্ছিন্ন সংযোগ সচল করতে গ্রাহকের দোরগোড়ায় ছুটে যাচ্ছে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাদাতারা। কাঁধে ঝুলিয়ে ভারী জেনারেটর নিয়ে ছুটছেন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার ধাক্কা সামাল দিতে।  কখনো কখনো ট্রাক্টর দিয়ে পারি দিতে হচ্ছে প্লাবিত পিচ্ছিল পথ।   

১১-জুলাই/ডিজিবিটেক/জেএস