২০২৫: বাংলাদেশের টেলিপ্রযুক্তিতে শুদ্ধি ও সমৃদ্ধির বছর

২০২৫: বাংলাদেশের টেলিপ্রযুক্তিতে শুদ্ধি ও সমৃদ্ধির বছর
১ জানুয়ারি, ২০২৬ ০০:০০  
১ জানুয়ারি, ২০২৬ ০১:২৭  

সময়ের পেন্ডুলাম থেকে খসে পড়লো আরও একটি বছর। ২০২৫ সালের ভেলায় চেপে আমরা চলছে ২০২৬-এ। বাংলাদেশের জন্য ২০২৫ ছিলো ‘ডেটা ড্রিভেন’ বা তথ্যনির্ভর অর্থনীতির বাঁক বদলের। প্রশ্ন, আশা আর অস্পূর্ণতায় বিদায়ী বছরে বাংলাদেশের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন খাত ২০২৫ সালে দাঁড়িয়ে ছিল এক সন্ধিক্ষণে। 

স্যাটেলাইট ও সাবমেরিন: কানেক্টিভিটির নতুন অধ্যায়

একদিকে রাজনৈতিক রূপান্তর। অন্যদিকে ডিজিটাল অর্থনীতির চাপ। এর মাঝখানে ২০২৫ সাল জুড়ে ছিল নাগরিক, উদ্যোক্তা, গবেষক আর নীতিনির্ধারকের টানাপোড়েন। বছরটি শুধু পরিবর্তনের নয়; ছিলো সিদ্ধান্ত গ্রহণের। এমনই এক সিদ্ধান্তে দীর্ঘ আইনি জটিলতা কাটিয়ে ২০২৫-এ অন্তর্বর্তী সরকার ‘নন-জিওস্টেশনারি স্যাটেলাইট অর্বিট (NGSO)’ নীতিমালা পাশ করেছে। এর ফলে বছরের শেষ ভাগে স্টারলিঙ্ক বাংলাদেশে তাদের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করেছে, যা চরাঞ্চল ও পার্বত্য এলাকায় ৩১০ এমবিপিএস পর্যন্ত গতি দিচ্ছে। সঙ্গত কারণে দেশে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ বিক্রি বেড়েছে। 

এভাবেই ডাটা ট্রানজিট হাব হিসেবে ব্যবহৃত হতে শুরু কেরে বাংলাদেশ। অপারেশনাল লিকেজ কমাতে স্টারলিংকের সঙ্গে যুক্ত হয় রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাংলাদেশে স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড ও পুঁজিবাজারে তালিকাভূক্ত বাংলাদেশ সাবমেরিন কোম্পানি লিমিটেড।  যুক্ত হয়েছে বেসরকারি মোবাইল অপারেটরগুলোও। অপারেটরগুলো যখন স্টারলিংকের সেবা বিক্রিতে নেমেছে, তার আগে থেকেই বিদেশী ওই প্রতিষ্ঠানটির কাছে ২০০ গিগাবিট/সেকেন্ড সহ দেশী প্রতিষ্ঠানগুলো মিলিয়ে বিক্রি করেছে  প্রায় ৪.৫ টেরাবিট/সেকেন্ড ব্যান্ডউইথ বিক্রি করেছে বিএসসিসিএল। সব মিলিয়ে দুর্গম অঞ্চলে বেড়েছে ইন্টারনেটের গতি বেড়েছে। সৃষ্টি হয়েছে দুর্যোগকালে ব্যাকআপ কানেক্টিভিটি এবং সীমান্ত ও উপকূলীয় অঞ্চলে স্থিতিশীল নেটওয়ার্ক।  টেলিকম ইতিহাসে প্রথমবার বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি শুধু কস্ট সেন্টার নয়, স্ট্র্যাটেজিক অ্যাসেট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। নিট মুনাফার ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি। এরইমধ্যে সিমিউই-৬ এর কাজ কক্সবাজার ল্যান্ডিং স্টেশনে শেষ হয়েছে। এটি যুক্ত হওয়ার ফলে বাংলাদেশ অতিরিক্ত ৩৪ টেরাবিট/সেকেন্ড ব্যান্ডউইথ পাচ্ছে, যা ২০২৬-সালে ইন্টারনেটের দাম আরও কমিয়ে আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নতুন বছরেই বিএসসিসিএল এর সক্ষমতা ৪১ টেরাবিট/সেকেন্ড ছাড়িয়ে যাবে ফলে আগাম ধারণা করা হচ্ছে। এতে করে ইন্ডিয়া থেকে ব্যান্ডউইথ আমদানীর প্রয়োজন পড়বে না।

অপরদিকে গত বছর ঝুলে থাকা ৫জি রোল-আউট এ বছর গতি পেয়েছে। ঢাকার বাইরেও শিল্পাঞ্চলগুলোতে ৫জি সেবা চালু হয়েছে। তবে স্পেকট্রাম প্রাইসিং নিয়ে অপারেটরদের সাথে সরকারের দরকষাকষি এখনো শেষ হয়নি। একইসঙ্গে ৫জি’র বাণিজ্যিক ব্যবহার দেশে এখনও নতুন বাজার সৃষ্টি করতে পারেনি। ফলে এক্ষেত্রে বিনিয়োগে ধীরে চল নীতে আছে অপারেটররা।  

ইন্টারনেটের ‘গণতান্ত্রিকীকরণের’ বছর

আসলে ২০২৫ সালটি ছিল ইন্টারনেটের ‘গণতান্ত্রিকীকরণের’ বছর। বিটিআরসি-র তথ্যমতে, এ বছরের মাঝামাঝি সময়ে দেশের সব সিটি কর্পোরেশন এবং অন্তত ৩০টি জেলা শহরে বাণিজ্যিক ৫জি সেবা চালু হয়েছে। সেকেন্ডে ১ গিগাবিট গতির এই ইন্টারনেট শিল্পক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা ২৫ শতাংশ বাড়িয়ে দিয়েছে।

২০২৫ সালজুড়ে প্রযুক্তি খাতে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল নীতি ও আইন সংস্কার। ডেটা সুরক্ষা আইন। সাইবার নিরাপত্তা কাঠামো। ডিজিটাল ব্যাংকিং গাইডলাইন। টেলিকম লাইসেন্সিং সংস্কার।  দীর্ঘদিনের ট্যাবুর অবসান ঘটিয়ে সরকার ব্লকচেইন ফ্রেমওয়ার্ক ২০২৫ পাস করেছে। পরীক্ষামূলকভাবে প্রাতিষ্ঠানিক লেনদেনে বিটকয়েন বা ডিজিটাল কারেন্সির বৈধতা নিয়ে যাচাই-বাছাই চলছে।  

২০২৪-এর জুলাই-আগস্টের সেই ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের ক্ষত শুকিয়ে ২০২৫-এ আমরা প্রবেশ করেছিলাম স্বচ্ছতার অঙ্গীকার নিয়ে। সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে এ বছর টেলিকম আইনে বড় সংশোধন এনেছে  অন্তর্বর্তী সরকার। লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করা হয়েছে। শেষ দিকে এসে ইন্টারনেটকে মৌলিক অধিকারের স্বীকৃতি দিয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ অধ্যাদেশ (সংশোধন) ২০২৫ পাশ হয়েছে। ২০১০ সালের বিতর্কিত সংশোধনের কাঠামো থেকে বেরিয়ে এসে বিটিআরসির স্বাধীনতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় ও বিটিআরসির ক্ষমতা ও কার্যপরিধির মধ্যে ভারসাম্য আনা হয়েছে। পুরোনো বিতর্কিত আইন বাতিল করে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে প্রণীত হয়েছে ‘সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৫’। এতে অপরাধের সংজ্ঞা নির্দিষ্ট করে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষিত করতে ক্ষমতার অপব্যবহার কমানোর বিধান রাখা হয়েছে। গঠিত হয়েছে পার্সোনাল ডেটা প্রোটেকশন বোর্ড। কোনো কোম্পানি ব্যক্তিগত তথ্য নিতে চাইলে ডিজিটাল সম্মতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ডেটা সার্বভৌমত্ব নিয়ে এটি বড় অগ্রগতি।

‘মানিব্যাগ-বিহীন’ সমাজের পথে বড় এক ধাপ

২০২৫ সালে আমরা ‘মানিব্যাগ-বিহীন’ সমাজের পথে বড় এক ধাপ এগিয়েছি। বছরের প্রথম প্রান্তিকেই বাংলাদেশ ব্যাংক ‘সেন্ট্রাল ব্যাংক ডিজিটাল কারেন্সি’ (CBDC) বা ডিজিটাল টাকার পাইলট প্রজেক্ট সফলভাবে শেষ করেছে। ফলে ডিজিটাল লেনদেনে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন প্রথাগত ব্যাংকিংয়ের বাইরে থাকা প্রায় ৩ কোটি মানুষ। এমএফএস- এ যুক্ত হওয়ার লাইসেন্স পেয়েছে তিন বেসরকারি মোবাইল অপারেটর। সরাসরি মোবাইলে ডিজিটাল ভল্ট ব্যবহার করতে পারছে দেশের ৭৫ শতাংশ খুচরা লেনদেন এখন কিউআর কোড এবং স্মার্টফোন ভিত্তিক। ব্যাংকগুলো এখন জামানতের বদলে এআই-চালিত ‘ক্রেডিট স্কোরিং’ দেখে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণ দিচ্ছে। 

এখন বিকাশ, নগদ, রকেট আর শুধু টাকা পাঠানোর মাধ্যম নয়। সরকার চালু করেছে ইউনিফাইড পেমেন্ট ইন্টারফেস (UPI)–ধাঁচের দেশীয় সিস্টেম। ফলে লেনদেন খরচ ২০ শতাংশ কমেছে। মার্চেন্ট নির্ভরতা বেড়েছে। ক্যাশলেস ইকোসিস্টেম পেয়েছে গতি। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিসেম্বর রিপোর্ট অনুযায়ী, এমএফএস লেনদেন এ বছর ৩ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। বিপরীতে গত ৬ মাসে ব্যাংকিং খাতে সাইবার হামলার চেষ্টা বেড়েছে ৩০০ শতাংশ। কিন্তু ডার্ক ওয়েব মনিটরিং, এআই-চালিত থ্রেট ডিটেকশন এর মাধ্যমে ৯৮ শতাংশ হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। ডিজিটাল ফরেনসিকে গুরুত্বারোপ করায় সাইবার অপরাধ শনাক্তকরণ হার ১৫ শতাংশ  বেড়েছে। দেশের প্রধান আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে রক্ষায় একটি ‘সেন্ট্রাল সাইবার থ্রেট ইন্টেলিজেন্স’ হাব তৈরি করা হয়েছে।

২০২৫ সালেই প্রথম মাইক্রো-ইনস্যুরেন্স ফিনটেকের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। কৃষকদের ফসলি বীমা সরাসরি ডিজিটাল ওয়ালেটে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের ‘স্মার্ট এগ্রিকালচার ২০২৫’ প্রকল্পের অধীনে সারাদেশে ৫০ হাজার সৌরচালিত স্মার্ট সেচ পাম্প বসানো হয়েছে। এতে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়েছে প্রায় ৪০ মেগাওয়াট। ঢাকা ও চট্টগ্রামের আশেপাশে বাণিজ্যিকভাবে হাইড্রোফোনিক ও ভার্টিক্যাল ফার্মিং ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে, যা শীতকালীন সবজির চাহিদা ১২ মাস মিটাচ্ছে। তীব্র তাপদাহের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ২০২৫ সালে আইওটি (IoT) সেন্সর ব্যবহারের মাধ্যমে পানির অপচয় ৩০ শতাংশ কমানো সম্ভব হয়েছে। হাওর ও উত্তরাঞ্চলে ফসলের রোগ নির্ণয়ে ড্রোনের বাণিজ্যিক ব্যবহার শুরু হয়েছে। তবে উচ্চমূল্যের কারণে ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য এটি এখনো সহজলভ্য নয়- যা ২০২৬-এর বড় চ্যালেঞ্জ। 

রোবোটিক সার্জারি

বিএসএমএমইউ (BSMMU) সহ বড় হাসপাতালগুলোতে এ বছর এআই-চালিত এক্স-রে ও এমআরআই অ্যানালাইসিস শুরু হয়েছে, যা রোগ নির্ণয়ের নির্ভুলতা ৯৫ শতাংশ এ নিয়ে গেছে। ঢাকার বিশেষায়িত হাসপাতাল থেকে ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে প্রথমবারের মতো প্রত্যন্ত অঞ্চলে রোবোটিক সার্জারি সফল হয়েছে। নাগরিক পরিচয়পত্রে বায়োমেট্রিকের সঙ্গে হেলথ ডেটা যুক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে ২০২৬ সাল দেশে চিকিৎসাক্ষেত্রে বড় বিপ্লব আনবে। 

২০২৫ সালে ব্যক্তিগত দক্ষতায় ফ্রিল্যান্সিং করার চেয়ে স্টার্টআপ তৈরির প্রবণতা ছিল বেশি। বিশেষ করে এগ্রো-টেক ও ফিন-টেক খাতে তরুণদের জোয়ার দেখা গেছে। এডটেক স্টার্টআপগুলো এ বছর এমন লার্নিং অ্যাপ এনেছে যা শিক্ষার্থীর মেধা অনুযায়ী আলাদা কারিকুলাম তৈরি করে দিচ্ছে। এআই-এর কারণে চাকুর হারানো পেশাজীবীদের জন্য সরকারি উদ্যোগে ‘রিস্কিলিং’ পোর্টাল চালু হয়েছে, যেখানে ৩ লাখের বেশি মানুষ প্রশিক্ষণ নিয়েছে। দেশের ১০০০টি সরকারি স্কুলে ভিআর (VR) ভিত্তিক সায়েন্স ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। ‘জাতীয় শিক্ষা ড্যাশবোর্ড’ চালু করা হয়েছে। এখানে ডিজিটাল ট্র্যাকে থাকছে প্রতিটি শিক্ষার্থীর ফলাফল। 

২০২৫-এই সরকারি সেবাগুলো একীভূত করে রাজধানীর গুলশান, উত্তরা, নীলক্ষেত, বনশ্রী, মোহাম্মদপুর ও রমনার মতো ছয়টি স্থানে একযোগে চালু করা হয়েছে নাগরিক সেবা কেন্দ্র। দেশী প্ল্যাটফর্ম ‘কনভে’-এর মাধ্যমে ভার্চুয়াল গণশুনানি করেছে বিটিআরসি। চালু করেছে ই-লাসেন্স। মাদ্রাজ ছেড়ে দেশের ক্লিকেই শুরু হয়েছে স্মার্ট ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রিন্টিং। ই-টিন সেবায় দেশী সফটওয়্যার কোম্পানি দেখিয়েছে দেশীয় প্রযুক্তির সার্বভৌম ক্ষমতা। ‘ই-বেইল বন্ড’ (E-Bail Bond) বা অনলাইন জামিননামা দেওয়া শুরু হয় এই বছরেই। অনলাইনে ভোটার হতে চালু হয় পোস্টাল ভোট নিবন্ধন অ্যাপ। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচনে ভোটের সুযোগ পাচ্ছেন প্রবাসী বা অনাবাসী বাংলাদেশীরা।

বিদায় নেয়া বছরে ৫০০ ইভি চার্জিং স্টেশন স্থাপন সম্পন্ন করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। পুরনো গাড়িকে ইভিতে রূপান্তরে দেয়া হচ্ছে বিশেষ ভর্তুকি। অন্তর্বর্তী সরকার ইলেকট্রিক গাড়ির (EV) ব্যাটারি আমদানিতে শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করেছে। এর ফলে ২০২৫ সালে নিবন্ধিত নতুন ব্যক্তিগত গাড়ির ২২ শতাংশ ছিল ইলেকট্রিক। এছাড়াও গাজীপুর ও চট্টগ্রামে দুটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এ বছর থেকে ইভি ব্যাটারি অ্যাসেম্বলিং শুরু করেছে, যা গাড়ির দাম আগের চেয়ে ২০ শতাংশ কমিয়েছে।

 অতি-মানবীয় যুগে
২০২৫ সালে গবেষণায় বরাদ্দ জিডিপির ১ শতাংশও হয়নি। বিশ্ব যেখানে এআই, কোয়ান্টাম, বায়োটেক নিয়ে দৌড়াচ্ছে, বাংলাদেশ সেখানে এখনো ল্যাব সুবিধা নিয়ে লড়ছে। তবু কিছু আলোচ্ছটা ছিল। বাংলাদেশি গবেষকদের কয়েকটি আন্তর্জাতিক জার্নালে কাজ প্রকাশিত হয়-কৃষি জিনোম, জলবায়ু সহনশীল ফসল ও স্বাস্থ্য ডেটা অ্যানালিটিক্স উল্লেখযোগ্য। বছরজুড়েই এসব নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়-শিল্প সংযোগের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু কাঠামোগত সহযোগিতা হয়নি। সবচেয়ে ম্রিয়মান অবস্থা দেখাগেছে আমাদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতকেঅ ২০২৫ সালটি ছিল বাংলাদেশের জন্য ‘এআই’ (AI) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রায়োগিক বছর। এ বছরই দেশের ভূমি অফিস ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে চ্যাটবটের বদলে পূর্ণাঙ্গ এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট চালু হয়েছে। এখন আর লাইনে দাঁড়াতে হয় না, হোয়াটসঅ্যাপেই মেলে খতিয়ান। ডিসেম্বরে বাংলা ভাষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর (এআই) প্ল্যাটফর্ম ‘কাগজ ডট এআই’ চালু করেছে সরকারের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ। তবে গত বছর শুরু হওয়া সরকারি ‘বাংলা লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল’ প্রকল্পের কাজ এ বছরও শেষ হয়নি। ডাটা সেটের জটিলতায় এটি ২০২৬ সালে গড়িয়েছে। একইভাবে দেশের টেলকম ও আইসিটি খাতের শ্বেতপত্র প্রস্তুত করে প্রধান উপদেষ্টারে হাতে পৌঁছলেও প্রকাশের দিনও গড়িয়েছে নতুন বছরে।।

প্রযুক্তির দৌড় এখন আর গাণিতিক হারে নয়, জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। ২০২৫ আমাদের যে ভিত গড়ে দিয়েছে, ২০২৬-এ তার ওপর দাঁড়িয়েই মানুষ নতুন গ্রহের স্বপ্ন দেখবে। পরিবর্তনকে ভয় না পেয়ে একে আলিঙ্গন করাই হবে আমাদের সার্থকতা।

ডিবিটেক/আইএইচ/বিন