যুব প্রতিবন্ধীদের জাতীয় আইটি প্রতিযোগিতার বিজয়ীরা যাচ্ছেন ভিয়েতনামের গ্লোবাল ইভেন্টে
কোনো প্রতিভা প্রতিবন্ধকতার কারণে থেমে থাকবে না: মন্ত্রী
- ১০ম জাতীয় আইটি প্রতিযোগিতায় ৭০ জন প্রতিযোগীর মধ্যে ৪ ক্যাটাগরিতে ১২ জন বিজয়ী পুরস্কৃত
- চ্যম্পিয়ন ৪ জন প্রতিযোগী অক্টোবরে ভিয়েতনামে অনুষ্ঠিতব্য ‘গ্লোবাল আইটি চ্যালেঞ্জে’ অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন
- বিসিসি, সিএসআইডি এবং ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের যৌথ উদ্যোগে গ্রীন রোড ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয় এ অনুষ্ঠান
“আমাদের লক্ষ্য এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে কোনো প্রতিভা প্রতিবন্ধকতার কারণে থেমে থাকবে না। প্রযুক্তির শক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশের প্রতিটি নাগরিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার সমান অংশীদার হবে।” আজ রাজধানীর গ্রীন রোডে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি)-এ অনুষ্ঠিত “যুব প্রতিবন্ধীদের জন্য জাতীয় আইটি প্রতিযোগিতা ২০২৬”-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, প্রতিবন্ধিতা কোনো সীমাবদ্ধতা নয়। সঠিক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে প্রতিবন্ধী তরুণ-তরুণীদেরও দেশের সার্বিক ডিজিটাল রূপান্তরের মূলধারায় যুক্ত করা সম্ভব। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার সব নাগরিকের জন্য প্রযুক্তির সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে তিনি জানান।
ভিয়েতনামে গ্লোবাল আইটি চ্যালেঞ্জের টিকিট পেল চ্যাম্পিয়নরা
প্রতিযোগিতার দশম এই আসরে দৃষ্টি, শারীরিক, বাক ও শ্রবণ এবং নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার (এনডিডি)—এই ৪টি ক্যাটাগরিতে মোট ৭০ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। যাচাই-বাছাই শেষে প্রতি ক্যাটাগরি থেকে ৩ জন করে মোট ১২ জন সেরাকে পুরস্কৃত করা হয়।
চারটি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন হয়ে আগামী অক্টোবরে ভিয়েতনামে অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক ‘গ্লোবাল আইটি কম্পিটিশন ফর ইউথ উইথ ডিজেবিলিটিজ’ (GITC)-এ অংশগ্রহণের টিকিট পেয়েছেন: ১. দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বিভাগ: মো. শাকিল মিয়া ২. শারীরিক প্রতিবন্ধী বিভাগ: শেখ ইয়ামিন আহসান ৩. বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী বিভাগ: নাহিন সিরাজ ৪. নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার (এনডিডি) বিভাগ: আরিয়ান ইসলাম
আন্তর্জাতিক মঞ্চে সুযোগ পাওয়া এই চার প্রতিযোগীকে ব্যক্তিগতভাবে সকল ধরনের সহায়তা প্রদান করার ঘোষণা দেন ডাক-টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী।
অনুষ্ঠানের সভাপতি বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি)-এর নির্বাহী পরিচালক নাহিদ সুলতানা মল্লিক জানান, এটি কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়; বরং প্রতিবন্ধী তরুণদের মেধা ও কারিগরি দক্ষতা প্রকাশের এক মহা-উৎসব। ভবিষ্যতে বিসিসি, সেন্টার ফর সার্ভিসেস অ্যান্ড ইনফরমেশন অন ডিসএ্যাবিলিটি (সিএসআইডি) এবং ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের যৌথ প্রয়াসে এই আয়োজনকে আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সিএসআইডির নির্বাহী পরিচালক খন্দকার জহুরুল আলম, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মহিউদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়টির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপার্সন কে এম মুজিবুল হকসহ বিসিসি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং প্রতিযোগীদের অভিভাবকগণ।
//ডিবিটেক/ জেইউ/ এসআই//





