শ্রেণিকক্ষে হবে এআই নজরদারি, অ্যাপে লাইভ ক্লাস মনিটরিং
- ডিএমএস অ্যাপে লাইভ ক্লাস মনিটরিং
- সেপ্টেম্বরে এআই শিক্ষক প্রশিক্ষণ
- জাতীয় শিক্ষা চ্যানেলের পরিকল্পনা চূড়ান্ত
দেশের সরকারি-বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণিকক্ষের পাঠদান সরাসরি প্রযুক্তির মাধ্যমে তদারকির উদ্যোগ নিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। ডিএমএস অ্যাপের মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষের পাঠদান লাইভ ভিডিওকলে পর্যবেক্ষণ করবেন মাউশির সহকারী পরিচালকরা। একই সঙ্গে শুরু হচ্ছে এআই ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষক প্রশিক্ষণ।
মাউশি সূত্র জানায়, দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্রীয় ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। এর মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকদের উপস্থিতি, পাঠদানের কার্যক্রম এবং সার্বিক শিক্ষার পরিবেশ সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।
দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস ফাঁকি এবং নির্ধারিত সময়ের তুলনায় কম সময়ে পাঠদান শেষ করার অভিযোগ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থাকলেও মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত না হওয়ার অভিযোগও রয়েছে। নতুন প্রযুক্তিনির্ভর তদারকি ব্যবস্থার মাধ্যমে এসব বিষয়ে নজরদারি জোরদার করতে চায় মাউশি।
মাঠপর্যায়ে ডিজিটাল যোগাযোগ ও তদারকি আরও কার্যকর করতে স্কুল, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর পিডিএসে হালনাগাদ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি দক্ষ শিক্ষকদের নিয়ে ‘মাস্টার ট্রেইনার পুল’ এবং ‘টিচার্স এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সঙ্গে সমন্বয় করে অভিন্ন পাঠ পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজও চলছে।
শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়াতে চলতি সেপ্টেম্বর মাস থেকে এআই ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ শুরু হচ্ছে। মাউশির তথ্য অনুযায়ী, আইসিটি প্রকল্পের আওতায় এরই মধ্যে ৩ লাখ ৫ হাজার ২৮৮ জন শিক্ষক ও কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
গণিত, ইংরেজি ও বিজ্ঞান বিষয়ে শিক্ষক ঘাটতি পূরণেও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে নতুন ক্যাটাগরি চালুর মাধ্যমে শিক্ষকদের ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পদক ও পুরস্কার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
ডিজিটাল শিক্ষা বিস্তারের আরেকটি উদ্যোগ হিসেবে সংসদ টেলিভিশনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে ‘জাতীয় শিক্ষা চ্যানেল’ চালুর খসড়া কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর ও সহজলভ্য শিক্ষাসামগ্রী সম্প্রচারের সুযোগ তৈরি হবে। সহশিক্ষা কার্যক্রম নিশ্চিত করতেও মাঠপর্যায়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ১৫ দফা অনুশাসন মাধ্যমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে অত্যন্ত দিকনির্দেশনামূলক। সম্প্রতি একটি বৈঠক করে প্রতিটি উইংকে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়ে কাজ ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চলমান কাজসহ অগ্রগতি প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, শিক্ষকদের এআই প্রশিক্ষণ, অ্যাপভিত্তিক লাইভ মনিটরিং এবং জাতীয় শিক্ষা চ্যানেলের প্রস্তুতি দ্রুত এগিয়ে চলছে।
অনুশাসন বাস্তবায়ন তদারকির ফোকাল পারসন ও মাউশির উপপরিচালক (এইচআরএম) মো. শওকত হোসেন মোল্ল্যা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাগুলো শতভাগ বাস্তবায়নে নিবিড় মনিটরিং নিশ্চিত করা হচ্ছে। কোন প্রতিষ্ঠান কীভাবে কাজ করছে, তা সরাসরি তদারকি করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, কিছু সিদ্ধান্ত স্বল্পমেয়াদি হওয়ায় দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে এবং কিছু কার্যক্রম এরই মধ্যে চলমান। তবে জাতীয় শিক্ষা চ্যানেল চালুর মতো কারিগরি বিষয়গুলো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার সমন্বয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে।
//ডিবিটেক/এইচএজেএন/এসএমই/এফওইবি//





