অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র পেশ

ডিজিটাল মিডিয়ার গুঞ্জন সত্যি করে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ

  • দীর্ঘদিনের গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন
  • শারীরিক অসুস্থতা, বিশেষ করে 'স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুরোগ' (Autonomic Neuropathy)-কে পদত্যাগের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে
  • সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন

ডিজিটাল মিডিয়ার গুঞ্জন সত্যি করে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ
২৪ জুলাই, ২০২৬ ১৭:০৯  

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ডিজিটাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া নানা গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। আজ শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৪ (২০২৬) বিকেল ৪টার দিকে সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে লিখিত চিঠির মাধ্যমে তিনি এই পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল পাঁচ বছরের মেয়াদে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। ২০২৮ সালের এপ্রিলে তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত মেয়াদের প্রায় পৌনে দুই বছর আগেই তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন। তাঁর রাজনৈতিক মেয়াদে ২০২৪ সালের আগস্টের গণঅভ্যুত্থান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ এবং পরবর্তীতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো একাধিক ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটে। তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে একমাত্র রাষ্ট্রপতি, যিনি এক মেয়াদে পৃথক সময়ে ৩ জন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করিয়েছেন।

বঙ্গভবনের অফিসিয়াল প্যাডে লেখা পদত্যাগপত্রে ৭৬ বছর বয়সী মো. সাহাবুদ্দিন উল্লেখ করেন যে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে তিনি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পরামর্শ নিয়েছিলেন। সেই অনুযায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন ও পরবর্তীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তাঁর দৃঢ় ভূমিকার কারণেই দেশে কোনো সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

পদত্যাগের মুখ্য কারণ হিসেবে তিনি নিজের গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়েছেন। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনি জটিলতা এবং হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারির ধকল সামলাচ্ছিলেন। সম্প্রতি চিকিৎসায় তাঁর শরীরে 'স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুরোগ' (Autonomic Neuropathy) শনাক্ত হয়, যার ফলে তিনি মাঝেমধ্যে ক্ষণিকের জন্য জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার বাধ্যবাধকতা থাকায় রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হচ্ছে না বলে তিনি পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন।

সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করবেন। এর আগে ২০০২ সালেও তৎকালীন স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার একইভাবে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন। দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়ার দিকে এখন পুরো দেশের নজর।

//ডিবিটেক/ ডিএমও/ইডিপি//