বৈশ্বিক মানে উচ্চশিক্ষা
এআই-অটোমেশনে অ্যাক্রেডিটেশন সহযোগিতা
- এআই ও অটোমেশনে মান নিশ্চিতকরণের গুরুত্ব বাড়ছে
- মাইক্রো-ক্রেডেনশিয়ালে শিক্ষার নতুন সুযোগ
- বিএসি-মকিউএ সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), অটোমেশন, মাইক্রো-ক্রেডেনশিয়াল ও নমনীয় শিক্ষণপদ্ধতির দ্রুত বিস্তারের মধ্যে উচ্চশিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিতকরণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার শিক্ষাবিদ ও অ্যাক্রেডিটেশন বিশেষজ্ঞরা। এআই ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুণগত মানস্বীকৃতি বা অ্যাক্রেডিটেশনকে আরও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
১৪ সেপ্টেম্বর, সোমবার ঢাকায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) আন্তর্জাতিক হলে উচ্চশিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিতকরণ ও অ্যাক্রেডিটেশন বিষয়ে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিফিকেশন অ্যাসিউরেন্স সেল’ এ আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মালয়েশিয়ান কোয়ালিফিকেশনস এজেন্সির (এমকিউএ) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দাতো’ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শাতার বিন সাবরান। প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের (বিএসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন খান।
বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির চেয়ারম্যান ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা এবং ট্রাস্টিবোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন বিএসির সদস্য প্রফেসর ড. মো. ওয়াকিলুর রহমান।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন এমকিউএর পরিচালক আবুল সামান বিন তাইপ, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. এম আর কবির, উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মাসুম ইকবাল এবং ‘ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিফিকেশন অ্যাসিউরেন্স সেল’-এর পরিচালক প্রফেসর ড. মোস্তফা কামাল।
‘বৈশ্বিক যুগে গুণমান নিশ্চিতকরণ এবং উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধে দাতো’ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শাতার বিন সাবরান বিশ্বব্যাপী উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে গুণগত মান নিশ্চিতকরণের ক্রমবিকাশমান ভূমিকা তুলে ধরেন।
তিনি এমকিউএর বিভিন্ন কার্যক্রম ব্যাখ্যা করেন। এর মধ্যে রয়েছে মালয়েশিয়ান কোয়ালিফিকেশনস রেজিস্টার সংরক্ষণ, যোগ্যতা কাঠামো উন্নয়ন, অ্যাক্রেডিটেশন প্রদান, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কার্যক্রমের গুণগত মান নিশ্চিতকরণ এবং যোগ্যতার স্বীকৃতি সহজতর করা।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক যুগে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত গুণগত মান।
মূল প্রবন্ধে তিনি মালয়েশিয়ান কোয়ালিফিকেশনস ফ্রেমওয়ার্কের বিবর্তন, অ্যাক্রেডিটেশন প্রক্রিয়ার চক্র, ফলাফলভিত্তিক শিক্ষা, ধারাবাহিক গুণগত মান উন্নয়ন, বৈশ্বিক র্যাঙ্কিং, আন্তর্জাতিক পরিচিতি এবং মাইক্রো-ক্রেডেনশিয়াল ও নমনীয় শিক্ষণপদ্ধতির মতো নতুন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করেন।
তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষা এখন সীমানাহীন ও পারস্পরিক সংযুক্ত এক যুগে প্রবেশ করেছে। এ বাস্তবতায় প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের জন্য পারস্পরিক সহযোগিতা, আস্থা ও গুণগত মান নিশ্চিতকরণ অপরিহার্য।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন খান বলেন, বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল ইতোমধ্যে দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অ্যাক্রেডিটেশন কার্যক্রম শুরু করেছে এবং বেশ কয়েকটি অ্যাকাডেমিক প্রোগ্রাম এই স্বীকৃতি পেয়েছে।
তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো সমসাময়িক চ্যালেঞ্জের কারণে গুণগত মান নিশ্চিতকরণ ও অ্যাক্রেডিটেশনের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শক্তিশালী গুণগত মানভিত্তিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা এবং ধারাবাহিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। বিএসির লক্ষ্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করা নয়; বরং অ্যাক্রেডিটেশন প্রক্রিয়ায় তাদের সহযোগিতা করা বলেও জানান তিনি।
অধ্যাপক আখতার হোসেন খান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, গুণগত মান নিশ্চিতকরণে সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অ্যাকাডেমিক গতিশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। গুণগত সংস্কৃতি গড়ে তোলা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে বিএসি ও এমকিউএ একসঙ্গে কাজ করতে পারে বলেও তিনি পরামর্শ দেন।
তিনি আরও বলেন, গুণগত মান নিশ্চিতকরণ শুধু ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিফিকেশন অ্যাসিউরেন্স সেলের একার দায়িত্ব নয়। ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক এবং অন্যান্য অংশীজনকেও প্রাতিষ্ঠানিক গুণগত মান উন্নয়নে সক্রিয়ভাবে অবদান রাখতে হবে।
ড. মো. সবুর খান পরিবর্তনশীল শিল্প ও পেশাগত চাহিদা পূরণে উদীয়মান শিক্ষাধারা, বিশেষ করে মাইক্রো-ক্রেডেনশিয়াল কোর্সের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তিনি শিল্পখাতের সম্পৃক্ততা বাড়াতে ডিআইইউয়ের ‘প্রফেসর অব প্র্যাকটিস’ পদ চালুর উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন। শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক শিক্ষার সুযোগ ও কর্মসংস্থানযোগ্যতা বাড়াতে একটি শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠার বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও প্রাতিষ্ঠানিক গুণগত মানের সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে উচ্চশিক্ষার অ্যাক্রেডিটেশন ও গুণগত মান নিশ্চিতকরণ বিষয়ে জ্ঞান বিনিময়ের প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের আলোচনা বৈশ্বিক অ্যাক্রেডিটেশন চর্চা সম্পর্কে বোঝাপড়া বাড়ানোর পাশাপাশি বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতে গুণগত মান নিশ্চিতকরণ প্রক্রিয়ার ধারাবাহিক অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখবে।
//ডিবিটেক/এএইচকে/এসএমই/এমআইএসটি//





