সরকারি দফতরে সৌরবিদ্যুৎ বাড়ানোর উদ্যোগ

প্রধানমন্ত্রীর দফতর শতভাগ সৌরশক্তিতে: শামা ওবায়েদ

  • বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ ও এলএনজি সরবরাহ বাড়ানোর পরিকল্পনা চলছে
  • জ্বালানি উৎস বৈচিত্র্যকরণে আফ্রিকাসহ বিভিন্ন দেশের দিকে নজর

প্রধানমন্ত্রীর দফতর শতভাগ সৌরশক্তিতে: শামা ওবায়েদ
৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:১৩  

সরকারি দফতরগুলোতে সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর দফতরের ভবনটি ইতোমধ্যে শতভাগ সৌরশক্তিতে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, এলএনজি সরবরাহ বাড়ানো এবং জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্যকরণেও কাজ করছে সরকার।

৫ সেপ্টেম্বর, শনিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর এনআরবি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন শামা ওবায়েদ।

সৌরবিদ্যুতের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সোলার পাওয়ার নিয়ে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সিরিয়াস। সচিবালয় প্রধানমন্ত্রী যে ভবনে বসেন, সে ভবনটি কিন্তু শতভাগ সোলার এনার্জিতে নিয়ে আসা হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি, বিভিন্ন জায়গায় সরকারি দফতরগুলোতে যতটুকু পারি সোলার এনার্জি ব্যবহার করার জন্য।’

বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘সরকার বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কিন্তু উদ্যোগ নিয়েছে। সেখানে চীন আছে, জাপান আছে; বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আমাদের কথা হচ্ছে। এলএনজি আরও বাড়ানোর জন্য আমরা ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় চেষ্টা করছি।’

জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্যকরণ নিয়ে তিনি বলেন, ‘ডাইভার্সিফিকেশন ইকোনমিক ডিপ্লোমেসিতে এই যুদ্ধটা আমাদের দেখিয়ে দিয়েছে, আমরা যদি একটা সোর্সের ওপর বেশি ডিপেন্ডেন্ট থাকি, সেটা এনার্জি বলেন বা অন্য কোনও প্রোডাক্ট বলেন—অর্থনীতির ওপর বিশাল চাপ পড়ে। আমরা এনার্জির জন্য ডাইভার্সিফিকেশনের চেষ্টা করছি। আফ্রিকান কান্ট্রিগুলার দিকে দেখছি, আমি ব্যক্তিগতভাবে আফ্রিকান কন্টিনেন্ট নিয়ে অনেক কাজ করছি। আফ্রিকাতে এনার্জি সোর্স পাওয়া যায় কি না সেটা চেষ্টা করছি।’ 

শামা ওবায়েদ বলেন, গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবার জাতিসংঘের সাধারণ সভায় অংশগ্রহণ করবেন। সেখানে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বা সবার আগে বাংলাদেশ—বিএনপির ফরেন পলিসির এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশকে তুলে ধরার বড় সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি বলেন, ‘সেখানে আমাদের জাতীয় স্বার্থ গুরুত্ব পাবে। বাংলাদেশের যেসব সম্ভাবনা আছে, সেগুলো গুরুত্ব পাবে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতি কীভাবে হতে পারে সেটা গুরুত্ব পাবে। সবকিছু মিলিয়েই এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ সভায় সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। সবদিক দিয়ে এই সেশনটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে আমাদের জন্য।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা শুধু ভালোটা বহির্বিশ্বে প্রচার করতে চাই না। আমরা আসলেই ভালো কিছু করতে চাই। যাতে আপনারা বলতে পারে যে, ভালো কিছু হচ্ছে। বর্তমান সরকারের প্রধান ম্যানিফেস্টো হলো অর্থনৈতিক কূটনীতি। সেই জায়গা থেকে বিচার করলে, শুরু থেকে একটা ভঙ্গুর অর্থনীতি যেটাকে আমরা অলরেডি ইনহেরিট করেছি। একটা ভাঙাচোরা অবস্থা থেকে তুলে এনে একটা সঠিক প্রসেসে যেতে সময় লাগে।’

তিনি বলেন, ‘শুরুর দিন থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চেষ্টা করছেন। উনি চেষ্টা করছেন, ব্যাংকিং সেক্টরটাকে ট্রান্সপারেন্ট করতে। তিনি চাচ্ছেন এমন একটা পরিবেশ তৈরি করতে যেন বিদেশিরা ইনভেস্ট করে। শুধু বিদেশিরা না, বাংলাদেশি যারা বিদেশে থাকেন, তারাও যেন দেশে ফেরত এসে ইনভেস্ট করেন। বাস্তবতা হলো আমি চাইলেই কেউ বিনিয়োগ করতে চলে আসবে না, পরিবেশটা আমাদের তৈরি করতে হবে।’

অবৈধ অভিবাসন বাংলাদেশের ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মন্তব্য করেন শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, ‘আমাদের রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের আমরা অত্যন্ত সম্মান করি। এই গাল্ফ যুদ্ধে আমাদের ১২ জন ভাই প্রাণ হারিয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কাজ করতে গিয়ে আমি দেখেছি, আমাদের ভাইয়েরা সৌদি আরব, কাতার, আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া এসব দেশে বেশি, ইতালিসহ ইউরোপেও আছে। কিন্তু এই যে অবৈধভাবে যাওয়ার প্রবণতা এটা একটা সমস্যা। আমাদের দেশি ভাইয়েরা ভূমধ্যসাগর হয়ে দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে লিবিয়া থেকে ইতালি বা স্পেনে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তাদের মাঝ সাগরে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। তারা মৃত্যুবরণ করছেন।’

এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এই জায়গাটাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে খুব জোরভাবে কাজ করছে। তো আমাদের দেশের মানুষ যখন এভাবে অবৈধভাবে অন্য দেশে যায়, এই ব্র্যান্ডিং বাংলাদেশের একটা বিশাল প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। এই জায়গাটাতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী হাত দিয়েছেন। আমরা স্কিলড লেবার পাঠাতে চাই।’

বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কয়েক মাসে এয়ারপোর্টের অবস্থা চেঞ্জ হবে না, কিন্তু আমরা শুরু করেছি। এয়ারপোর্টের সিচুয়েশন এবং ভিসা পলিসিতে হাত দিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘যারা বিজনেস ভিসা, টুরিস্ট ভিসা বা ওয়ার্ক ভিসা নিয়ে বিভিন্ন দেশ থেকে এখানে আসে, তাদের ভিসা সহজীকরণে পলিসিগত কিছু পরিবর্তন এনেছি। এটা ক্যাবিনেটে অলরেডি পাস হয়েছে। সেটা সামনে পার্লামেন্টে হয়তো উঠবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ সবকিছু কিন্তু প্রধানমন্ত্রী করছেন বাংলাদেশকে ইনভেস্টমেন্ট ফ্রেন্ডলি করার জন্য। আমরা ফ্রি মার্কেট ইকোনমির কথা বলি, আমাদের তো আগে সেই পরিবেশ তৈরি করতে হবে যাতে করে বিদেশিরা এখানে আসতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করে।’
//ডিবিটেক/ বিএনও/এসএমই/এমআইএসটি//