ডিজিটাল পেমেন্ট সংস্কার: আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের নতুন দিগন্ত

ডিজিটাল পেমেন্ট সংস্কার: আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের নতুন দিগন্ত
১ আগষ্ট, ২০২৬ ১০:০৬  

রাত তখন প্রায় সাড় এগারোটা। ঢাকার মিরপুরের একটি ছোট্ট ফ্ল্যাটে বসে সুস্মিতা তার ল্যাপটপের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে আছে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি সফটওয়্যার কোম্পানির হয়ে সে গত তিন বছর ধরে ফ্রিল্যান্স ডিজাইনার হিসেবে কাজ করছে। কাজ শেষ, ক্লায়েন্ট সন্তুষ্ট, ইনভয়েসও পাঠানো হয়ে গেছে। কিন্তু পারিশ্রমিক হাতে পেতে এখনও লাগবে কিছুদিন—মাঝখানে থাকবে একাধিক ইন্টারমিডিয়ারি (Intermediary), কারেন্সি কনভার্সন চার্জ (Currency conversion charge) এবং একটি দীর্ঘ জটিল প্রক্রিয়া। সুস্মিতার মতো লক্ষাধিক তরুণ-তরুণী প্রতিদিন এই বাস্তবতার মুখোমুখি হন। তাদের দক্ষতা আন্তর্জাতিক মানের, কিন্তু তাদের ব্যবহারের জন্য থাকা পেমেন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার (Payment infrastructure) এখনও বৈশ্বিক অর্থনীতির গতির সঙ্গে পুরোপুরি তাল মেলাতে পারেনি।

আমি এক দশকের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের ই-কমার্স (E-commerce) ও ডিজিটাল ইকোনমির (Digital economy) নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থেকেছি। ই-ক্যাব (e-CAB)-এর দায়িত্বে থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, ব্যাংক, ফিনটেক প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কাজ করার সময় বারবার একটি প্রশ্ন উঠে এসেছে: আমাদের উদ্যোক্তারা বিশ্বমানের পণ্য ও সেবা তৈরি করলেও কেন ক্রস-বর্ডার (Cross-border) অর্থ আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে এত বাধার মুখে পড়েন? সমস্যা কখনোই দক্ষতার ছিল না—সমস্যা ছিল ফাইন্যান্সিয়াল কানেক্টিভিটির (Financial connectivity)।

২৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি ডিপার্টমেন্ট-১ (FEPD-1) থেকে জারি হওয়া সার্কুলার নম্বর ২৫ এই দীর্ঘদিনের সমস্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ, যদিও আংশিক, সমাধানের কাঠামো তৈরি করেছে। এই লেখায় আমি সার্কুলারটি প্রকৃতপক্ষে কী প্রবর্তন করছে, এর ওপর আমার পেশাগত বিশ্লেষণ কী, এবং ভবিষ্যতের জন্য আমার সুপারিশ কী—এই তিনটি স্তরে আলাদা করে তুলে ধরব।

কেন এই সংস্কার জরুরি ছিল?
গত এক দশকে বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতি রূপান্তরিত হয়েছে। আগে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বলতে মূলত ভৌত পণ্য রপ্তানিকে বোঝানো হতো। এখন একটি সফটওয়্যার কোড (Software code), একটি ডিজাইন সার্ভিস (Design service), একটি স্যাস সাবস্ক্রিপশন (SaaS subscription) বা একটি ডিজিটাল প্রোডাক্টও (Digital product) মূল্যবান রপ্তানিযোগ্য সম্পদ। দেশের ই-কমার্স খাত প্রতিবছর বিস্তৃত হচ্ছে, ফ্রিল্যান্সিং অর্থনীতিতে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দেশ, আর তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ সফটওয়্যার ও স্যাস ব্যবসায় বিনিয়োগ করছে।

কিন্তু পেমেন্ট অবকাঠামো এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারেনি। ফ্রিল্যান্সাররা বিদেশি পেমেন্ট গ্রহণে সীমিত মাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছেন, লেনদেনে বিলম্ব হয়েছে নিয়মিত। সফটওয়্যার রপ্তানিকারকরা আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্টের কাছ থেকে সাবস্ক্রিপশন রাজস্ব সংগ্রহে জটিলতায় পড়েছেন। স্যাস কোম্পানিগুলোর জন্য মাসিক রিকারিং পেমেন্ট (Recurring payment) ও বৈশ্বিক গ্রাহক বিলিং (Global billing) প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আর ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশি ক্রেতার পেমেন্ট গ্রহণ ও বৈশ্বিক মার্কেটপ্লেসের (Marketplace) সঙ্গে সংযুক্তির ক্ষেত্রে বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

সার্কুলারে কী পরিবর্তন আসছে?
সার্কুলারটি একটি ব্যাংক-ইন্টারমিডিয়েটেড ক্রস-বর্ডার ডিজিটাল পেমেন্ট (Bank-Intermediated Cross-border Digital Payment) কাঠামো প্রবর্তন করেছে, যার মাধ্যমে অথরাইজড ডিলার (Authorized Dealer - AD) ব্যাংকগুলো বিদেশি পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (PSP), ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সার্ভিস প্রোভাইডার (OPGSP) এবং অন্যান্য বৈধ পেমেন্ট সলিউশন প্রোভাইডার—যাদের সার্কুলারে ‘ক্রস-বর্ডার ডিজিটাল পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার’ বা সিডিপএসপি (CDPSP) বলা হয়েছে—তাদের সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারবে।

এই কাঠামোর কেন্দ্রে আছে ডিজিটাল ভ্যালু একাউন্ট বা ডিভিএ (Digital Value Account - DVA)। সহজ ভাষায়, DVA হলো একজন ব্যক্তির নামে CDPSP-র কাছে রক্ষিত একটি রেগুলেটেড ডিজিটাল ওয়ালেট (Regulated Digital Wallet) বা স্টোরড-ভ্যালু একাউন্ট (Stored-Value Account), যেখানে বৈদেশিক মুদ্রা জমা রাখা যাবে। তবে এটি কোনো স্বাধীন ওয়ালেট নয়—প্রতিটি DVA বাধ্যতামূলকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের একটি মাস্টার DVA বা সেটেলমেন্ট একাউন্টের (Settlement Account) অধীনে সাব-একাউন্ট (Sub-Account) হিসেবে কাজ করবে, এবং ব্যাংক প্রতিটি লেনদেনের একটি মিরর লেজার (Mirror Ledger) সংরক্ষণ করবে।

সাধারণ মানুষের জন্য এর অর্থ কী? একজন ফ্রিল্যান্সার তার ব্যাংকের মাধ্যমে অনুমোদিত CDPSP-র কাছে একটি DVA খুলতে পারবেন, যা সরাসরি তার ব্যাংকের সঙ্গে রিয়েল-টাইমে (Real-time) সংযুক্ত থাকবে। এতে স্বচ্ছতা বাড়লেও ব্যক্তিগত ডিজিটাল ওয়ালেটের স্বাধীনতা সীমিত থাকবে—ব্যাংকিং তদারকি (Banking Oversight) ও রেগুলেটরি কন্ট্রোল (Regulatory Control) পুরোপুরি বজায় থাকবে।

সার্কুলারে আরও কিছু সুবিধার কথা বলা হয়েছে। ভ্রমণ, চিকিৎসা বা সরকারি সফরের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা বরাদ্দ এখন DVA-র মাধ্যমে সহজতর হবে। রপ্তানি ধারণকারী কোটা (ERQ) ও আবাসিক বৈদেশিক মুদ্রা আমানত (RFCD) হিসাবের অর্থ DVA-তে লোড করে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে—যদিও রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ তিনজন শীর্ষ কর্মকর্তা এই সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন। DVA ধারীরা প্রতি ট্রানজেকশনে (Transaction) সর্বোচ্চ ৩০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত অনলাইন পেমেন্ট করতে পারবেন—সদস্যপদ ফি, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যয়, ভিসা ফি বা হোটেল বুকিংয়ের জন্য। সবক্ষেত্রে ব্যাংককে নিয়মিত প্রতিবেদন দিতে হবে এবং কেওয়াইসি (KYC), সিডিডি (CDD) ও এএমএল/সিএফটি (AML/CFT) নিয়ম কড়াকড়িভাবে মেনে চলতে হবে।

পেপাল, পেওনিয়ার বা স্ট্রাইপ কি সরাসরি চালু হয়ে গেল?
উত্তরটি হলো—না। এই সার্কুলার পেপাল (PayPal), পেওনিয়ার (Payoneer), স্ট্রাইপ (Stripe), উইচ্যাট পে (WeChat Pay) বা আলিপে (Alipay)-র মতো বৈশ্বিক পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মকে সরাসরি বাংলাদেশে চালু করে দিচ্ছে না। বরং এটি একটি রেগুলেটরি পাথওয়ে (Regulatory Pathway) তৈরি করেছে, যার মাধ্যমে বাংলাদেশি ব্যাংক ও অনুমোদিত পেমেন্ট প্রতিষ্ঠানগুলো ভবিষ্যতে এসব বৈশ্বিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে পার্টনারশিপ গড়ে তুলতে পারে। এই সেবাগুলো কবে, কীভাবে চালু হবে—তা নির্ভর করবে ব্যাংক-CDPSP চুক্তি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের চূড়ান্ত অনুমোদনের ওপর।

এখানে চারটি ধারণার পার্থক্য স্পষ্ট করা দরকার: ১. পেমেন্ট গেটওয়ে (Payment Gateway): অনলাইন ট্রানজেকশন প্রক্রিয়াকরণের প্রযুক্তি। ২. ডিজিটাল ওয়ালেট (Digital Wallet): অর্থ জমা রেখে লেনদেনের মাধ্যম। ৩. মার্চেন্ট একাউন্ট (Merchant Account): ব্যবসায়ীদের কার্ড-ভিত্তিক পেমেন্ট গ্রহণের সুযোগ। ৪. ইন্টারন্যাশনাল পেমেন্ট নেটওয়ার্ক (International Payment Network): বিভিন্ন দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে সংযুক্তকারী নেটওয়ার্ক।

DVA কাঠামো মূলত এই চার স্তরের মধ্যে একটি রেগুলেটেড ব্রিজ (Regulated Bridge) হিসেবে কাজ করবে, এটি নিজেই সরাসরি একক কোনো সমাধান নয়।

বাস্তব জীবনে এর প্রভাব
সুস্মিতার মতো ফ্রিল্যান্সাররা এখন অনুমোদিত DVA খুলে বিদেশি ক্লায়েন্টের পেমেন্ট আগের চেয়ে সংগঠিতভাবে গ্রহণ করতে পারবেন, যদিও এর গতি নির্ভর করবে ব্যাংক-CDPSP সংযুক্তির কারিগরি দক্ষতার ওপর। রংপুরের একজন নারী উদ্যোক্তা, যিনি দেশীয় হস্তশিল্প বিশ্ববাজারে বিক্রি করেন, তিনি রপ্তানি আয় প্রত্যাবাসনের (Repatriation) একটি স্পষ্টতর কাঠামো পাবেন। ঢাকার একটি স্যাস স্টার্টআপ (SaaS Startup) ধীরে ধীরে এমন একটি ব্যাংকিং পরিবেশ পেতে পারে যেখানে রিকারিং ইন্টারন্যাশনাল বিলিং (Recurring International Billing) সহজতর হবে। আর বিদেশে চিকিৎসা বা শিক্ষা ফি পরিশোধের ক্ষেত্রেও অনলাইন পেমেন্টের সীমা ও প্রক্রিয়া আগের চেয়ে স্পষ্ট হয়েছে।

তবে মনে রাখা দরকার—এই সুবিধাগুলো এখনও শতভাগ বাস্তবায়নের পর্যায়ে যায়নি। ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি নিতে হবে এবং CDPSP-দের সঙ্গে প্রযুক্তিগত ইন্টিগ্রেশন (Technical Integration) গড়ে তুলতে হবে। সার্কুলারটি একটি মজবুত ভিত্তি (Foundation) তৈরি করেছে, বাস্তব সুফল পেতে এখন প্রয়োজন এর সঠিক ও দ্রুত বাস্তবায়ন (Effective Implementation)।

ভারসাম্যপূর্ণ মূল্যায়ন
বাংলাদেশ ব্যাংক এই সার্কুলারের মাধ্যমে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সঠিক পথে হেঁটেছে। এটি রেগুলেটরি স্বচ্ছতা এনেছে—আগে যে গ্রে এরিয়াতে (Grey area) ফ্রিল্যান্সার ও ব্যবসায়ীরা কাজ করতেন, এখন সেখানে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি হয়েছে। এটি একটি নিয়ন্ত্রিত মডেল—সবকিছু সম্পূর্ণ উন্মুক্ত না করে ধাপে ধাপে সংস্কারের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে। আর আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে লেনদেন পরিচালনার সিদ্ধান্ত মানি লন্ডারিং ঝুঁকি কমাতে অত্যন্ত সহায়তায় করবে।

তবে চ্যালেঞ্জ থেকেই যাচ্ছে। অনেক ব্যাংকের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এখনও রিয়েল-টাইম সিস্টেম ইন্টিগ্রেশনের (Real-time System Integration) জন্য প্রস্তুত নয়। বাস্তবায়নের খরচ ছোট ও মাঝারি ব্যাংকের জন্য বড় বাধা হতে পারে। বৈশ্বিক পেমেন্ট নেটওয়ার্কগুলোর সঙ্গে প্রকৃত সংযুক্তি তৈরি করাও এখনও কিছুটা অনিশ্চিত। সাইবার সিকিউরিটি (Cybersecurity), ডেটা প্রটেকশন (Data Protection) ও ভোক্তার আস্থা অর্জন করতে সময় লাগবে, এবং মার্চেন্টদের গ্রহণের হারও (Merchant Adoption Rate) একটি দেখার বিষয়।

ভবিষ্যতের করণীয়
বাংলাদেশ ব্যাংক: অবিলম্বে একটি সুনির্দিষ্ট ইমপ্লিমেন্টেশন রোডম্যাপ (Implementation Roadmap) প্রকাশ করা উচিত, যেখানে সময়সীমা ও প্রত্যাশিত ফলাফল নির্দিষ্ট থাকবে। পাশাপাশি শিল্প খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়মিত পরামর্শ বজায় রাখতে হবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়: একটি সমন্বিত ক্রস-বর্ডার ই-কমার্স (Cross-border E-commerce) নীতিমালা প্রণয়নে এগিয়ে আসতে হবে।
আইসিটি বিভাগ: সুস্পষ্ট ডিজিটাল এক্সপোর্ট স্ট্র্যাটেজি (Digital Export Strategy) তৈরি করা জরুরি।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR): ডিজিটাল এক্সপোর্ট আয়ের ওপর কর প্রক্রিয়া সহজ ও পূর্বানুমানযোগ্য করা উচিত, বিশেষত ছোট উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে।
ব্যাংক খাত: প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে যাতে রিয়েল-টাইম ইন্টিগ্রেশনের স্ট্যান্ডার্ড পূরণ করা যায়।
ফিনটেক খাত: ব্যাংক ও CDPSP-দের মধ্যে সেতুবন্ধনকারী নির্ভরযোগ্য টেকনোলজি সলিউশন তৈরি করতে পারে।
ই-কমার্স খাত: পণ্যের মান, লজিস্টিকস, কমপ্লায়েন্স ও গ্রাহকসেবাসহ সার্বিক বৈশ্বিক বাজারের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।

বাংলাদেশের সামনে এখন একটি ঐতিহাসিক সুযোগ—আঞ্চলিক ডিজিটাল ট্রেড, ডিজিটাল এক্সপোর্ট ও ক্রস-বর্ডার পেমেন্টের একটি উদীয়মান কেন্দ্র হয়ে ওঠার সুযোগ। FEPD-1 সার্কুলার এই দীর্ঘ যাত্রার একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে চূড়ান্ত সাফল্য নির্ভর করবে এর কার্যকর বাস্তবায়ন, স্বচ্ছতা, উদ্ভাবন এবং বাংলাদেশ ব্যাংক, সরকারি সংস্থা, ব্যাংক, ফিনটেক প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত সহযোগিতার ওপর।

সুস্মিতার মতো লক্ষ লক্ষ তরুণ-তরুণীর স্বপ্ন এখন এই সংস্কারের সফল বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করছে। সঠিক সিদ্ধান্ত, দ্রুত বাস্তবায়ন এবং সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগ বজায় থাকলে আগামী দশকে বাংলাদেশ শুধু ভৌত পণ্য রপ্তানির দেশ নয়; বরং ডিজিটাল সার্ভিস, প্রযুক্তি ও ইনোভেশনের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে একটি শক্তিশালী ডিজিটাল ইকোনমি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে।


লেখক : সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট, ই-ক্যাব


দ্রষ্টব্য: অভিমত-এ প্রকাশিত পুরো মতামত লেখকের নিজের। এর সঙ্গে ডিজিটাল বাংলা মিডিয়া কর্তৃপক্ষের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। বহুমতের প্রতিফলন গণমাধ্যমের অন্যতম সূচক হিসেবে নীতিগত কোনো সম্পাদনা ছাড়াই এই লেখা প্রকাশ করা হয়। এতে কেউ সংক্ষুব্ধ বা উত্তেজিত হলে তা তার একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়।