উদ্ভাবনে ৫০০ কোটি টাকার তহবিল

গবেষণার ফলকে প্রযুক্তিতে রূপান্তরের আহ্বান ইউজিসির

  • শিক্ষকদের গবেষণা বরাদ্দ বাড়িয়ে সর্বোচ্চ দশ লাখ টাকা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সরাসরি অনুদান
  • বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প খাতের প্রযুক্তিগত সংযোগে আগামী দুই বছরে তৈরি হবে সহযোগিতা ইউনিট
  • পিএইচডি বৃত্তি বৃদ্ধি এবং ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত হচ্ছে উচ্চশিক্ষা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট

গবেষণার ফলকে প্রযুক্তিতে রূপান্তরের আহ্বান ইউজিসির
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৫৪  

বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক গবেষণার ফলকে শুধু জার্নাল প্রকাশনায় সীমাবদ্ধ না রেখে তা প্রায়োগিক প্রযুক্তি, বাণিজ্যিক পণ্য ও সেবায় রূপান্তরের তাগিদ দিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)।

১৪ সেপ্টেম্বর, সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিনস অ্যাওয়ার্ড এবং শিক্ষকদের সেরা গ্রন্থ ও গবেষণা নিবন্ধের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে এ কথা জানান ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল-মামুন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল-মামুন বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয় শুধু ডিগ্রি দেওয়ার প্রতিষ্ঠান নয়। নতুন জ্ঞান সৃষ্টি, গবেষণা ও উদ্ভাবনের পাশাপাশি দেশের বাস্তব সমস্যার সমাধানেও ভূমিকা রাখতে হবে। গবেষণার ফল শুধু প্রকাশনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তা প্রযুক্তি, পণ্য ও সেবায় রূপান্তর এবং নীতিনির্ধারণে কাজে লাগাতে হবে।" তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প খাতের সরাসরি প্রযুক্তিগত সংযোগ গড়ে তুলতে আগামী দুই বছরের মধ্যে প্রতিটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশেষায়িত ‘সহযোগিতা ইউনিট’ স্থাপন করা হবে। এছাড়া উদ্ভাবনী প্রকল্পগুলোকে বাণিজ্যিক রূপ দিতে ৫০০ কোটি টাকার একটি সমন্বিত জাতীয় তহবিল গঠন করা হয়েছে।

গবেষণার কারিগরি বাজেট বৃদ্ধির চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, শিক্ষকদের প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা প্রকল্পে আগের ২ লাখ ৬০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকার বরাদ্দ বাড়িয়ে এখন সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা করা হয়েছে। স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা যাতে সরাসরি গবেষণামূলক সফটওয়্যার, মনোগ্রাফ ও উদ্ভাবনী প্রকল্পে কাজ করতে পারেন, সেজন্য সরাসরি শিক্ষার্থী অনুদানের পথ উন্মুক্ত করা হয়েছে। পিএইচডি গবেষকদের বৃত্তির সংখ্যা ১৫ থেকে বাড়িয়ে ১০০ জনে উন্নীত করা হয়েছে, যা আগামী বছর ৫০০ জনে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। পোস্টডক্টরাল ফেলোশিপের আর্থিক অনুদানও বাড়ানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, শিক্ষকদের পেশাগত ও কারিগরি দক্ষতা বাড়াতে ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দে দেশে প্রথমবারের মতো ‘উচ্চশিক্ষা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট’ গড়ে তোলা হচ্ছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গবেষকদের দেশীয় ল্যাব ও পাঠদানে যুক্ত করতে ৩০ কোটি টাকার পৃথক আন্তর্জাতিকীকরণ তহবিল ছাড় করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে ২০২১, ২০২২ ও ২০২৩ সালের বিএসএস সম্মান পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ফলাফলধারী শিক্ষার্থীদের ডিনস অ্যাওয়ার্ড এবং শিক্ষকদের মৌলিক গবেষণাকর্মের পুরস্কার দেওয়া হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, সহ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান। সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর কার্যকর নীতি বাস্তবায়নে দেশীয় উদ্ভাবনকে বৈশ্বিক মানে উন্নীত করার আহ্বান জানান বক্তারা।
//ডিবিটেক/এমজেআর/এসই/ইআইসি//