কমতে পারে মোবাইল ফোনের দাম

কমতে পারে মোবাইল ফোনের দাম
১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৬:২৮  

বিদেশ থেকে বৈধ পথে মোবাইল আমদানিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) শুল্ক কমানোর ঘোষণা দিলেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খান। এনবিআর চেয়ারম্যানের আশ্বাস অনুযায়ী, শুল্ক কমানো হলে কমে যাবে মোবাইল ফোনের আমদানি খরচ কমবে। এর ফলে ক্রেতারা কম দামে মোবাইল কিনতে পারবেন।

১৫ ডিসেম্বর, সোমবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে গবেষণাপ্রতিষ্ঠান র‍্যাপিড এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘পরবর্তী সরকারের আর্থ-সামাজিক অগ্রাধিকারসমূহ’ শীর্ষক সেমিনারে এমনটাই জানান রাজস্ব বোর্ড চেয়ারম্যান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী। 

 প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাজস্ব বোর্ড চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান ব্যবসায়ীদের আশ্বাস দিয়ে বলেন, ব্যবসা সহজ করতে আমদানি করের পরিবর্তে ভ্যাট ও আয়কর আদায়ের দিকে নজর দেয়া হচ্ছে। অবৈধ আমদানি বন্ধে মোবাইল ফোন আমদানি শুল্ক কমানো হবে। 

 তিনি বলেন, আমরা এনবিআর থেকে যেটা বুঝি, সেটা হলো উভয় গ্রুপের স্বার্থ রক্ষা করে এবং কনজিউমার ইন্টারেস্ট প্রোটেক্ট করার জন্য আমরা চাই মোবাইল ফোন, স্মার্টফোনের দাম বাংলাদেশে কমুক এবং এটা করতে গেলে আমরা দুই জায়গাতেই ছাড় দিতে রাজি আছি। 

যেহেতু এখন গ্রে মার্কেটে বেশির ভাগ হাই অ্যান্ড ফোন আসে, ফলে আসলে আমরা সত্যিকার্র অর্থে কোনো রেভিনিউ পাই না উল্লেখ করে আবদুর রহমান বলেন, ‘এটা যদি আমরা ফরমাল করতে পারি, এনইআইআর ইমপ্লিমেন্টেশনের মাধ্যমে, ইভেন রেভিনিউ যদি আমরা ছেড়েও দেই; তার পরেও কিন্তু ফরমাল চ্যানেলে আসার কারণে আমাদের রেভিনিউ বাড়বে।’

এ পর্যায়ে ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত কম থাকায় রাজস্ব আয় বাড়ানো না গেলে প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় করা সম্ভব হবে না এবং রাজস্ব প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা না গেলে দেশের অর্থনীতিতে কাঙ্ক্ষিত গতি ফিরে আসবে না বলেও মনে করেন এনবিআর চেয়ারম্যান। তবে আর্থিক খাতের এমন দুরবস্থার মধ্যেও রাজস্ব আদায়ের গতি ভালো রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। 

তিনি বলেন, ‘স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে অনেক সময় যে সংশ্লিষ্ট পণ্যে উচ্চ আমদানি শুল্ক বসানো হয়। আমরা লোকাল ইন্ডাস্ট্রিগুলোকে প্রোটেক্ট করার জন্যই কিন্তু অনেক সময় বেশি বেশি রেট ধরি। তার পরও আমরা এটা (আমদানি শুল্ক) কমাব।

সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী, প্রথম আলোর হেড অব অনলাইন শওকত হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর প্রমুখ।

মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করে র‌্যাপিড চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারলে যারা দারিদ্র্য সীমার নিচে আছে তাদের অবস্থা আরও খারাপ হবে। গত ৩ বছরে দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেড়েছে ৯০ লাখ।

গত এক বছরে ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে নারীদের অংশগ্রহণ অর্ধেক কমে গেছে জানিয়ে সেমিনারে আরও বলা হয়, নতুন সরকার আসার পর যদি তারা মনে করে এলডিসি গ্রাজুয়েশন দেরিতে করতে হবে সেক্ষেত্রে তাদের হাতে বেশি সময় থাকবে না সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য।
 
এছাড়া রাজস্ব আদায়ের এখন যে গতি; তা না বাড়ালে নতুন সরকার এসে নতুন করে চলতি অর্থবছরের কোনো উন্নয়ন সহজে করতে পারবে না বলেও জানায় র‌্যাপিড। বলা হয়, রাজস্ব আদায়ের গতি না বাড়ালে অনেক উন্নয়ন পিছিয়ে যাবে।
 
এসময় আসন্ন নতুন সরকারকে ১২টি দিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে র‍্যাপিড। এগুলো হলো- এলডিসি গ্রাজুয়েশন, মূল্যস্ফীতি কমানো, ব্যাংক খাতে সুশাসন, দক্ষ কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে, রিজার্ভ বাড়ানো, অঅভ্যন্তরীণ রাজস্ব বাড়ানো, স্বাস্থ্য, শিক্ষা বরাদ্দ বাড়ানো, ঋণ কমানো, জ্বালানি নিরাপত্তা, শ্রমবাজারে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো, ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলায় রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা তৈরি এবং  তথ্য উপাত্তের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
ডিবিটেক/ডিইবিটি/ইকে