এক প্ল্যাটফর্মে সব
চালু হলো পাঠাও কমার্স
- অর্ডার, ইনভেন্টরি, পেমেন্ট-ডেলিভারি এক প্ল্যাটফর্মে
- এআই সহায়তায় দ্রুত অর্ডার ব্যবস্থাপনা
- সোশ্যাল কমার্সে নতুন ব্যবসার সুযোগ
বাংলাদেশের সোশ্যাল কমার্স ব্যবসায়ীদের জন্য অর্ডার, ইনভেন্টরি, পেমেন্ট, ডেলিভারি, বিক্রয় চ্যানেল ও গ্রাহক যোগাযোগ এক জায়গা থেকে পরিচালনার সুবিধা নিয়ে চালু হয়েছে ‘পাঠাও কমার্স’। এআই-সহায়তা, একীভূত চ্যাট ইনবক্স, স্বয়ংক্রিয় তথ্য হালনাগাদ এবং বিভিন্ন তৃতীয় পক্ষের বিক্রয় চ্যানেল সংযুক্তির সুবিধা থাকা এই অল-ইন-ওয়ান প্ল্যাটফর্মকে দেশের ডিজিটাল কমার্স অবকাঠামো তৈরির পরবর্তী ধাপ হিসেবে তুলে ধরছে পাঠাও।
১৩ সেপ্টেম্বর, রবিবার পাঠাও জানায়, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ২ লাখ মার্চেন্ট সোশ্যাল কমার্সে ব্যবসা করছেন, যা তাদের হিসাবে দেশের মোট ডিজিটাল কমার্সের ৮০ শতাংশের বেশি। ব্যবসার পরিসর বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব মার্চেন্টকে অর্ডার, গ্রাহক, একাধিক বিক্রয় চ্যানেল এবং দৈনন্দিন পরিচালনাসংক্রান্ত নানা কাজ একসঙ্গে সামলাতে হচ্ছে। এই ব্যবস্থাপনাকে সহজ করতেই পাঠাও কমার্স তৈরি করা হয়েছে।
পাঠাও-এর সিইও ফাহিম আহমেদ বলেন, বহু বছর ধরে মার্চেন্টরা পণ্য দ্রুত ও নিরাপদে গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দিতে পাঠাওয়ের ওপর আস্থা রেখেছেন। পাঠাও কমার্সের মাধ্যমে সেই সেবার পরিধি ডেলিভারির বাইরেও নেওয়া হচ্ছে।
তার ভাষায়, একটি প্ল্যাটফর্মেই স্টোরফ্রন্ট ও অর্ডার থেকে শুরু করে ইনভেন্টরি, বিক্রয়, পেমেন্ট, ডেলিভারি এবং গ্রাহক যোগাযোগ ব্যবস্থাপনার সুযোগ থাকছে। একাধিক টুল ব্যবহারের জটিলতা কমিয়ে মার্চেন্টদের ব্যবসার ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দেওয়াই এর লক্ষ্য। এতে তারা গ্রাহকসেবা, ব্র্যান্ড তৈরি এবং ব্যবসা সম্প্রসারণে বেশি মনোযোগ দিতে পারবেন।
এক প্ল্যাটফর্মে ব্যবসা ব্যবস্থাপনা
পাঠাও কমার্সে পণ্য ক্যাটালগ, অর্ডার, পেমেন্ট, ইনভেন্টরি ও ডেলিভারি ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি পেশাদার অনলাইন স্টোরফ্রন্ট তৈরির সুবিধা রয়েছে। ফলে আলাদা আলাদা সফটওয়্যার বা সেবার ওপর নির্ভর না করে একটি প্ল্যাটফর্ম থেকেই ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে।
প্ল্যাটফর্মটি Shopify, WooCommerce এবং Daraz-এর মতো তৃতীয় পক্ষের বিক্রয় চ্যানেলের সঙ্গেও যুক্ত হতে পারে। ফলে মার্চেন্টরা তাদের বিদ্যমান বিক্রয় কার্যক্রম পাঠাও কমার্সের সঙ্গে সংযুক্ত করতে পারবেন।
পাঠাওয়ের দাবি, প্ল্যাটফর্মে বিক্রয়, অর্ডার, ইনভেন্টরি ও আয়ের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে হালনাগাদ হবে। এতে মার্চেন্টরা ব্যবসার সামগ্রিক অবস্থা সম্পর্কে দ্রুত ধারণা পাবেন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে আরও পরিষ্কার তথ্য ব্যবহার করতে পারবেন।
এআইয়ে অর্ডার থেকে ডেলিভারি
সোশ্যাল কমার্সে একটি অর্ডার সম্পন্ন করতে অনেক মার্চেন্টকে Facebook Messenger, Instagram DM, WhatsApp, স্প্রেডশিট এবং আলাদা ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মের মধ্যে বারবার যেতে হয়। এতে একই তথ্য একাধিকবার লিখতে হয় এবং বাড়ে ম্যানুয়াল কাজ।
এই সমস্যা কমাতে পাঠাও কমার্সে রয়েছে ইউনিফায়েড চ্যাট ইনবক্স। Meta-এর অফিসিয়াল ইন্টিগ্রেশনের মাধ্যমে বিভিন্ন যোগাযোগমাধ্যমের গ্রাহক বার্তা একটি জায়গায় আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
মার্চেন্টরা চ্যাটের মধ্যেই গ্রাহকের অর্ডারের ইতিহাস দেখতে পারবেন। পাশাপাশি পাঠাওয়ের দেশজুড়ে প্রায় ১ কোটি ইউনিক ঠিকানার তথ্যভান্ডার ব্যবহার করে তৈরি এআই-সহায়তায় দ্রুত ডেলিভারি-সংক্রান্ত তথ্য ইনপুট দেওয়ার সুবিধা থাকবে।
চ্যাট উইন্ডো থেকেই তৈরি করা যাবে ‘ইনস্ট্যান্ট চেকআউট’ লিংক। এতে গ্রাহক এক ধাপেই অর্ডার ও পেমেন্ট সম্পন্ন করতে পারবেন। অর্ডার সম্পন্ন হওয়ার পর পিকআপ এজেন্ট মার্চেন্টের ঠিকানায় পৌঁছে যাবে এবং গ্রাহকের কাছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্র্যাকিং লিংক শেয়ার করা হবে।
এর ফলে গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ থেকে অর্ডার গ্রহণ এবং ডেলিভারি পর্যন্ত প্রক্রিয়ায় প্ল্যাটফর্ম বদলানো, কপি-পেস্ট এবং ম্যানুয়াল সমন্বয়ের প্রয়োজন কমবে বলে জানিয়েছে পাঠাও।
ব্যবসা বাড়াতে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত
পাঠাও কমার্স শুধু দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। মার্চেন্টরা স্টোরফ্রন্ট নিজেদের মতো করে সাজাতে পারবেন, বিক্রয় ও ইনভেন্টরি পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন এবং অ্যানালিটিক্স ব্যবহার করে ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
খুব শিগগির Meta Catalog Integration-এর মাধ্যমে সরাসরি স্পন্সরড ক্যাম্পেইন পরিচালনার সুবিধাও যুক্ত করার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্ল্যাটফর্মে নিরাপদ পেমেন্ট, পাঠাও পের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক অর্থ উত্তোলন, রিয়েল-টাইম ডেলিভারি ট্র্যাকিং এবং গ্রাহক আস্থার রেটিং সুবিধা রয়েছে। পাঠাওয়ের দাবি, ঐতিহাসিক তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি এই ট্রাস্ট রেটিং সোশ্যাল কমার্সে পণ্য ফেরতের হার এক অঙ্কের মধ্যে রাখতে সহায়তা করে। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, বাংলাদেশের অন্যান্য অনলাইন মার্কেটপ্লেসে ফেরতের হার প্রায় ৩০ শতাংশ।
পাঠাও শপ ও API সংযোগ
পাঠাও কমার্সের মাধ্যমে মার্চেন্টরা তাদের সম্পূর্ণ পণ্য ক্যাটালগ ‘পাঠাও শপ’-এ প্রকাশ করতে পারবেন। কয়েকটি ক্লিকেই এটি বিক্রয়ের নতুন একটি চ্যানেল তৈরি করবে।
পাশাপাশি পাঠাওয়ের তাৎক্ষণিক ডেলিভারি সুবিধা ব্যবহার করে দ্রুত ডেলিভারির অর্ডার সম্পন্ন করার সুযোগ থাকবে। ব্যবসার বিভিন্ন কার্যক্রম আরও বেশি স্বয়ংক্রিয় করতে মার্চেন্টরা পাঠাও কমার্সের সঙ্গে সরাসরি API সংযোগও তৈরি করতে পারবেন।
পাঠাও বলছে, লজিস্টিকস, পেমেন্ট, গ্রাহক যোগাযোগ এবং ব্যবসা ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবাকে একটি প্রযুক্তিনির্ভর প্ল্যাটফর্মে একীভূত করার মাধ্যমে পাঠাও কমার্স দেশের ডিজিটাল কমার্স অবকাঠামো তৈরিতে নতুন ধাপ তৈরি করছে।
//ডিবিটেক/এসএমই/এমআইএস/আইএইচ//





