সমন্বিত ব্যবস্থার অঙ্গীকার

রেজ অব হোপে ক্যান্সার চিকিৎসা

  • পরমাণু প্রযুক্তিতে টেকসই ক্যান্সার চিকিৎসাব্যবস্থা গড়ার অঙ্গীকার
  • ওয়ান-স্টপ ক্যান্সার কেয়ার সেন্টার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা
  • আইএইএর কারিগরি সহযোগিতায় সক্ষমতা বাড়াবে বাংলাদেশ

রেজ অব হোপে ক্যান্সার চিকিৎসা
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:৫৬  

পরমাণু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ প্রয়োগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে একটি সমন্বিত, ন্যায়সংগত ও টেকসই ক্যান্সার চিকিৎসাব্যবস্থা গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। এ লক্ষ্যে প্রতিরোধ, প্রাথমিক শনাক্তকরণ, রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা, দক্ষ মানবসম্পদ, গুণগত মান নিশ্চিতকরণ ও প্যালিয়েটিভ কেয়ারকে একই ব্যবস্থার আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

১৫ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) ‘Rays of Hope: Delivering on the Promise of Cancer Care’ শীর্ষক বৈজ্ঞানিক ফোরাম-২০২৬-এ বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যের শুরুতে ‘Rays of Hope: Cancer Care for All’ উদ্যোগ এগিয়ে নিতে আইএইএর মহাপরিচালক রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসি এবং আইএইএ সচিবালয়ের নেতৃত্বের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকার পরমাণু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের মাধ্যমে দেশে ক্রমবর্ধমান ক্যান্সারের বোঝা মোকাবিলায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এর মাধ্যমে সবার জন্য সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ নিশ্চিত করার টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG)-৩ অর্জনে বাংলাদেশ অবদান রাখতে চায়।

মন্ত্রী বলেন, টেকসই ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য শুধু প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো যথেষ্ট নয়। এর সঙ্গে প্রতিরোধ, রোগের প্রাথমিক শনাক্তকরণ, রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা, দক্ষ মানবসম্পদ, গুণগত মান নিশ্চিতকরণ এবং প্যালিয়েটিভ কেয়ারের সমন্বয় প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে রোগীকেন্দ্রিক একটি সমন্বিত চিকিৎসাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

ফকির মাহবুব আনাম জানান, বাংলাদেশ ২০২৫ সালে ‘Rays of Hope’ উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে। এই অংশীদারিত্বকে জাতীয় পর্যায়ে কার্যকর কর্মসূচিতে রূপ দিতে আইএইএর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে বাংলাদেশ।

এর অন্যতম অগ্রাধিকার হলো একটি সমন্বিত ওয়ান-স্টপ ক্যান্সার কেয়ার সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা। এর মাধ্যমে ক্যান্সার রোগীদের আরও সমন্বিত, সহজলভ্য ও রোগীকেন্দ্রিক সেবা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে জানান তিনি।

আইএইএর কারিগরি সহযোগিতার প্রশংসা করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী বলেন, সক্ষমতা বৃদ্ধি, জ্ঞান বিনিময় এবং টেকসই ক্যান্সার চিকিৎসাব্যবস্থা শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে সংস্থাটির সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি জানান, বাংলাদেশ নভেম্বর ২০২৬-এ অনুষ্ঠেয় IAEA–WHO–IMPACT Review Mission-এর দিকে আগ্রহের সঙ্গে তাকিয়ে আছে। এই মিশন বাংলাদেশের জাতীয় ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতার প্রমাণভিত্তিক মূল্যায়ন এবং ক্যান্সার চিকিৎসার পুরো ব্যবস্থায় বাস্তবভিত্তিক অগ্রাধিকার নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করবে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদারের পাশাপাশি শিক্ষার্থী, বিজ্ঞানী ও গবেষকদের জন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, ফেলোশিপ এবং যৌথ গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং জ্ঞানভিত্তিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা পরমাণু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সুফল সমাজে দীর্ঘমেয়াদে পৌঁছে দেওয়ার জন্য অপরিহার্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বাংলাদেশে আরও সমন্বিত, ন্যায়সংগত ও টেকসই ক্যান্সার চিকিৎসাব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য জানিয়ে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, পরমাণু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সুফল সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন এমন মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।

আইএইএ ও এর অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে ‘Rays of Hope’ উদ্যোগের প্রতিশ্রুতিকে বাংলাদেশের জনগণের জন্য বাস্তব ও দীর্ঘস্থায়ী সুফলে রূপান্তর করার দৃঢ় প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী।
//ডিবিটেক/এএএম/এসএমই/এমআইএস//