ভিডিও ঘিরে অভিযোগের পর পদায়ন পরিবর্তন
‘আসসালামু আলাইকুম’ সম্ভাষণে ২৪ ঘণ্টায় আইপিএস বদলি
- ইউপিএসসি পরীক্ষার্থীদের উৎসাহ দিতে ভিডিও পোস্ট করেন বুশরা
- সম্ভাষণ নিয়ে হিন্দু লিগাল ফান্ডের অভিযোগ
- অভিযোগের পরদিনই বদলির আদেশ জারি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ইউপিএসসি পরীক্ষার্থীদের উৎসাহ দিতে দেওয়া একটি ভিডিও ঘিরে অভিযোগের পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বদলি হয়েছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের আইপিএস কর্মকর্তা ড. বুশরা বানু। ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’, ‘ইনশাআল্লাহ’ ও ‘জাজাকাল্লাহ’ ব্যবহারের বিষয়ে ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ অভিযোগ করার পরদিন, ১৪ সেপ্টেম্বর তাকে খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে রাজ্য সশস্ত্র পুলিশের চতুর্থ ব্যাটালিয়নের ডেপুটি কমান্ড্যান্ট পদে বদলি করা হয়।
বুশরা বানু এক্সে গত ১৩ সেপ্টেম্বর একিটি ভিডিওটি পোস্ট করেন। এতে তিনি নিজের সিভিল সার্ভিসে যোগ দেওয়ার যাত্রা এবং আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের রেসিডেনশিয়াল কোচিং একাডেমির সহায়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি ইউপিএসসি পরীক্ষার্থীদের ওই একাডেমির বই, গ্রন্থাগার, মক টেস্ট ও অন্যান্য সুবিধা কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন।
ভিডিওতে বুশরা বানু ‘আসসালামু আলাইকুম’ দিয়ে বক্তব্য শুরু করেন, বক্তব্যের মধ্যে ‘ইনশাআল্লাহ’ এবং শেষে ‘জাজাকাল্লাহ’ শব্দ ব্যবহার করেন। ভিডিও প্রকাশের পর ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়। সংগঠনটি অভিযোগ করে, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তা হিসেবে বুশরা জনসমক্ষে নিরপেক্ষতা বজায় রাখেননি এবং ‘বন্দে মাতরম’ বা ‘জয় হিন্দ’-এর মতো জাতীয়তাবাদী সম্ভাষণ ব্যবহার করেননি।
অভিযোগের পর সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর রাজ্য সরকারের জারি করা আদেশে বুশরা বানুকে খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে সরিয়ে রাজ্য সশস্ত্র পুলিশের চতুর্থ ব্যাটালিয়নের ডেপুটি কমান্ড্যান্ট করা হয়। সরকারি আদেশে এই বদলিকে ‘জনস্বার্থে’ তাৎক্ষণিক কার্যকর প্রশাসনিক রদবদল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে; আদেশে অভিযোগটিকে বদলির সরাসরি কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি।
তবে ভিডিও প্রকাশ, সংগঠনটির অভিযোগ এবং তার পরদিন বদলির সময়ের ব্যবধান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভারতের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বদলির বিষয়ে সরকারি ব্যাখ্যাকে প্রশাসনিক রদবদল হিসেবে উল্লেখ করা হলেও, অভিযোগের সময়ের সঙ্গে বদলির ঘনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে।
বুশরা বানু ২০২১ ব্যাচের আইপিএস কর্মকর্তা। তিনি আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে পিএইচডি সম্পন্ন করেন এবং পরে সৌদি আরবে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কাজ করেন। এরপর সেই চাকরি ছেড়ে ভারতে ফিরে ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেন। আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের রেসিডেনশিয়াল কোচিং একাডেমির সহায়তায় তিনি ইউপিএসসি পরীক্ষায় দুবার সাফল্য পেয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভিডিওতে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানান। ফলে পোস্টটি মূলত পরীক্ষার্থীদের জন্য একটি অনুপ্রেরণামূলক ও তথ্যভিত্তিক বার্তা ছিল।
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিন্নমত দেখা গেছে। কেউ কেউ সরকারি কর্মকর্তার জনসমক্ষে ধর্মীয় অভিব্যক্তি ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যদিকে, অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন—ধর্মীয় নিরপেক্ষতার একই মানদণ্ড সব ধর্মের কর্মকর্তার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে কি না। ভারতের বহুধর্মীয় ও বহুসাংস্কৃতিক বাস্তবতায় ব্যক্তিগত ধর্মীয় অভিব্যক্তি ও সরকারি দায়িত্বের নিরপেক্ষতার সীমারেখা নিয়েও সমালোচনা চলছে।
//ডিবিটেক/এসএফআর/এনপি/এমআইএস//





