ওয়াই-ফাই রাউটারে এত অ্যান্টেনা কেন?

ওয়াই-ফাই রাউটারে এত অ্যান্টেনা কেন?
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:৫৪  

একসময় একটি মাত্র অ্যান্টেনানির্ভর রাউটার দিয়েই পুরো ঘরের ইন্টারনেটের চাহিদা মিটলেও, বর্তমান যুগে ডিভাইসের সংখ্যা বৃদ্ধি ও দ্রুতগতির ইন্টারনেটের প্রয়োজনে একাধিক অ্যান্টেনাসংবলিত রাউটারের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বেড়েছে। 

প্রথম দেখায় আটটি অ্যান্টেনা বিশিষ্ট মাকড়সাসদৃশ আধুনিক রাউটারগুলোকে কেবল ‘মার্কেটিং চমক’ মনে হলেও এর পেছনে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত কারণ। একক অ্যান্টেনা যেখানে এক লেনের সরু সড়কের মতো কাজ করে, সেখানে আধুনিক রাউটারে ‘মিমো’ (মাল্টিপল-ইনপুট, মাল্টিপল-আউটপুট) প্রযুক্তির মাধ্যমে একাধিক অ্যান্টেনা ব্যবহার করে তথ্য আদান-প্রদানের জন্য সমান্তরাল বহু লেন তৈরি করা হয়। ফলে ইন্টারনেটের সিগন্যালে জট না পাকিয়ে একাধিক ডিভাইসে একই সাথে নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ বজায় রাখা সম্ভব হয়। 

একাধিক অ্যান্টেনার আরেকটি বড় প্রযুক্তিগত সুবিধা হলো ‘বিমফরমিং’। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে রাউটারটি ব্যবহারকারীর ডিভাইসের সুনির্দিষ্ট অবস্থান চিহ্নিত করে সিগন্যালকে চারদিকে ছড়ানোর বদলে নির্দিষ্ট দিকে কেন্দ্রীভূত করে পাঠাতে পারে। 

অ্যান্টেনার সংখ্যা যত বেশি হয়, সিগন্যালের গতিপথ নিখুঁত করার সক্ষমতাও তত বাড়ে। এ ছাড়া ঘরের দেয়াল বা আসবাবপত্রে বাধা পেয়ে সিগন্যাল ছিটকে গেলেও একাধিক অ্যান্টেনা থাকার কারণে কোনো না কোনো পথ দিয়ে নিরবচ্ছিন্ন সিগন্যাল পৌঁছানো নিশ্চিত হয়। 

আর আধুনিক ‘এমইউ-মিমো’ সুবিধা রাউটারের অ্যান্টেনাগুলোকে বিভক্ত করে একই সময়ে একাধিক ব্যবহারকারীর সাথে আলাদাভাবে সংযোগ বজায় রাখতে সাহায্য করে। 

তবে সাধারণ বাসাবাড়ির জন্য আটটি অ্যান্টেনাযুক্ত রাউটার কেনা অনেক সময়ই অপ্রয়োজনীয়; বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দুই থেকে চারটি অ্যান্টেনাই যথেষ্ট। 

লক্ষণীয় বিষয় হলো, বেশি অ্যান্টেনা থাকা মানেই ইন্টারনেট সেবাদাতার মূল স্পিড বেড়ে যাওয়া নয়। বড় ঘরে ইন্টারনেটের কাভারেজ বাড়ানো যদি মূল উদ্দেশ্য হয়, তবে কেবল বেশি অ্যান্টেনাসম্পন্ন রাউটার কেনার চেয়ে ‘মেশ নেটওয়ার্ক’ গড়ে তোলা অনেক বেশি কার্যকর সমাধান। 

অবশ্য অফিস, ক্যাফে কিংবা জনবহুল স্থানে যেখানে বহু মানুষ একসাথে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন, সেখানে একাধিক ডেটা স্ট্রিম ও বেশি অ্যান্টেনাবিশিষ্ট শক্তিশালী রাউটার নেটওয়ার্কের পারফরম্যান্স বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ডিবিটেক/বিএমটি