বিমানবন্দরে প্রবাসী সুরক্ষায় ১০০ ক্যামেরা

প্রযুক্তির নজরদারিতে কাওলা-উত্তরা সড়ক

  • কাওলা থেকে জসিম উদ্দিন পর্যন্ত বসছে প্রায় ১০০ সিসিটিভি ক্যামেরা।
  • বিমানবন্দর এলাকায় সক্রিয় তিন ধরনের অপরাধী চক্রের অভিযোগ।
  • পোশাক ও সাদাপোশাকে নজরদারি বাড়িয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

প্রযুক্তির নজরদারিতে  কাওলা-উত্তরা সড়ক
৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৯:৪৯  
৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩:৫৭  

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও এর আশপাশ এলাকায় প্রবাসীদের লক্ষ্য করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একাধিক সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র। সুযোগ বুঝে প্রবাসীদের সর্বস্ব লুটে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এসব চক্রের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি কাওলায় বোনের বিয়ের জন্য পাঠানো প্রবাসীর স্বর্ণ লুটের ঘটনায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়, যা থেকে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি নেতাসহ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে কাওলা থেকে উত্তরার ‘জসিম উদ্দিন মোড়’ পর্যন্ত পুরো এলাকাকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একই সঙ্গে বিমানবন্দরের বহিরাঙ্গন এলাকায় পোশাকে ও সাদাপোশাকে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম তালুকদার জানান, এলাকাটিকে সিসিটিভির আওতায় আনতে ১০০টির মতো নতুন সিসি ক্যামেরা স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বর্তমানে থার্ড টার্মিনালের সামনে থেকে গোলচত্বর মোড় পর্যন্ত ২৫টি ক্যামেরা চালু রয়েছে। এখন ক্রাউন প্লাজা থেকে জসিম উদ্দিন পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে, অর্থাৎ স্টেশন থেকে রেললাইন পার হয়ে হজ ক্যাম্প পর্যন্ত অংশ সিসিটিভির আওতায় আনা হচ্ছে, যেন প্রবাসীদের ওপর অপরাধ সংঘটিত হলে অপরাধীদের দ্রুত সনাক্ত ও আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিমানবন্দর কেন্দ্রিক তিনটি প্রধান অপরাধী চক্র কাজ করছে—ছিনতাইকারী চক্র, চালকবেশী ডাকাত চক্র এবং অজ্ঞান পার্টি। বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে হাতের বাঁদিকের কিশোরগঞ্জ ও ভৈরব বাস কাউন্টার এবং পুলিশ বক্স থেকে দক্ষিণে কাওলার মোড় এলাকায় ছিনতাইকারীরা সবচেয়ে বেশি সক্রিয়। স্থানীয় ব্যবসায়ী আবু বকর সিদ্দিকের মতে, দিন-রাত এলাকাটিতে ছিনতাইকারীদের এক প্রকার অভয়ারণ্য তৈরি হয়েছে; দিনে ভবঘুরে টোকাই ও রাতে অস্ত্রধারী সংঘবদ্ধ চক্র প্রবাসীদের টার্গেট করছে। আরেক ব্যবসায়ী আব্দুল হালিম জানান, দিন-রাত লোকজনের সমাগম থাকলেও প্রবাসীদের টার্গেট করা এই অস্ত্রধারী চক্রগুলোকে চিনেও ভয়ে কেউ কিছু বলে না।

অন্যদিকে, চালকবেশী ডাকাত চক্রটি যেসব প্রবাসীকে নেওয়ার জন্য আত্মীয় বা গাড়ি আসে না, তাদের কম ভাড়ার লোভ দেখিয়ে গাড়িতে তোলে। পথিমধ্যে নিজেদের দলের অন্য সদস্যদের গাড়িতে তুলে জনমানবহীন স্থানে নিয়ে প্রবাসীদের মারধর করে সর্বস্ব কেড়ে নিয়ে রাস্তায় ফেলে দেয়। বিমানবন্দর সংলগ্ন হোটেলে অবস্থান নেওয়া স্বজন বা সরাসরি বিদেশ থেকে নামা প্রবাসীরা প্রায়ই এই অল্প ভাড়ার ফাঁদে পড়েন। পাশাপাশি, সাজগোজ ও পোশাকে বিদেশফেরত সেজে প্রবাসীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে সর্বস্ব লুটে নিচ্ছে অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা।

এসব অপরাধ দমনে বিমানবন্দর থানার ওসি জানান, নজরদারি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বাড়ানো হয়েছে। প্রবাসীদের পথিমধ্যে বিরক্ত করা ভিক্ষুক ও টোকাইদের আটক করা হচ্ছে এবং নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এছাড়া এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সূত্র নিশ্চিত করেছে, বিমানবন্দরের বহিরাঙ্গনে পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা ইউনিটকেও প্রবাসীদের সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সজাগ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
//ডিবিটেক/ বিএনও/ এনএপি/আইএইচ//