দূষণ তথ্য হাতের মুঠোয়

গুগল ম্যাপে ৩৪ জেলার বায়ুমান

  • ৩৪ জেলার লাইভ বায়ুমান তথ্য
  • পাঁচ মিনিট পরপর তথ্য পাঠানো
  • ৬৪ জেলা যুক্ত করার পরিকল্পনা

গুগল ম্যাপে ৩৪ জেলার বায়ুমান
৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৯:৩১  

গুগল ম্যাপে বাংলাদেশের ৩৪ জেলার বায়ুর মানসংক্রান্ত তথ্য দেখার সুযোগ চালু হয়েছে। বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস) থেকে তথ্য ও কারিগরি সহায়তায় যুক্ত হওয়া এ সেবার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নির্দিষ্ট এলাকার বায়ুমান সূচক (একিউআই) ও দূষণের মাত্রা সহজেই দেখতে পারবেন।

বিশ্ব নির্মল বায়ু দিবস উপলক্ষে ৭ সেপ্টেম্বর, সোমবার, সেবাটি সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে আনে ক্যাপস। নিজ এলাকার বায়ুর মান দেখতে গুগল ম্যাপে ‘এয়ার কোয়ালিটি’ স্তরটি চালু করে ‘লেয়ারস’ বা স্তরচিহ্নে চাপ দিতে হবে। এরপর ‘এয়ার কোয়ালিটি’ নির্বাচন করলে মানচিত্রের বিভিন্ন স্থান রং ও সংখ্যার মাধ্যমে চিহ্নিত হবে। নির্দিষ্ট কোনো স্থানে চাপ দিলে ওই এলাকার বায়ুর মান সম্পর্কে তথ্য দেখা যাবে।

ক্যাপস জানিয়েছে, বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের স্থাপন করা পর্যবেক্ষণযন্ত্র থেকে পাওয়া তথ্য গুগলের ব্যবস্থায় যুক্ত হচ্ছে। হালনাগাদ বায়ুমানের তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে সহজে পৌঁছে দেওয়া এবং বায়ুদূষণের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোই এ উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য।

কীভাবে কাজ করছে 

বায়ুমান সূচক বা একিউআই হলো বিভিন্ন বায়ুদূষকের মাত্রাকে একটি সংখ্যার মাধ্যমে প্রকাশের পদ্ধতি। সংখ্যা ও রং দেখে কোনো এলাকার বায়ু ভালো, মাঝারি, অস্বাস্থ্যকর বা ঝুঁকিপূর্ণ—সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

ক্যাপসের তথ্য অনুযায়ী, তাৎক্ষণিক বায়ুমান তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রতিষ্ঠানটি দেশজুড়ে পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে। বর্তমানে ৩৪ জেলায় লাইভ মনিটরিং স্টেশন চালু রয়েছে। দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে এ সংখ্যা প্রায় ৫৩ শতাংশ।

ক্যাপসের পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্কে থাকা ৩৪ জেলা হলো—নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, শেরপুর, জামালপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, টাঙ্গাইল, ঢাকা, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, যশোর, বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, ফেনী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, সিলেট ও মৌলভীবাজার।

পর্যায়ক্রমে বাকি জেলাগুলোতেও স্টেশন স্থাপন করে ৬৪ জেলাকে এই পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে ক্যাপসের।

যেসব তথ্য মাপছে সেন্সর

প্রতিটি পর্যবেক্ষণযন্ত্রে বিভিন্ন ধরনের সেন্সর রয়েছে। এসব সেন্সরের মাধ্যমে তাপমাত্রা, আপেক্ষিক আর্দ্রতা, অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা পিএম২.৫, বস্তুকণা পিএম১০, মোট উদ্বায়ী জৈব যৌগ বা টিভিওসি, বায়ুমান সূচক এবং কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা পরিমাপ করা হচ্ছে।

কয়েকটি জেলার পর্যবেক্ষণযন্ত্রে সালফার ডাই-অক্সাইড ও নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড পরিমাপের ব্যবস্থাও রয়েছে।

ক্যাপস জানিয়েছে, স্টেশনগুলো সপ্তাহের সাত দিনই ২৪ ঘণ্টা সচল থাকে। এসব স্টেশন থেকে প্রতি পাঁচ মিনিটে তথ্য পাঠানো হয়। তবে গুগল বিভিন্ন উৎসের তথ্য সমন্বয় করে সাধারণত ঘণ্টাভিত্তিক বায়ুমান সূচক হিসাব ও প্রদর্শন করে।

ঢাকা ছাড়িয়ে নজরদারি

রাজধানী ঢাকা বিশ্বের অন্যতম দূষিত নগরী। সাধারণত অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত ঢাকায় বায়ুদূষণ বেশি থাকে। এ সময় বৃষ্টিপাত কম থাকায় দূষণের মাত্রা বাড়ে। তবে ক্যাপসের পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম দেখাচ্ছে, সমস্যা শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক নয়; দেশের বিভিন্ন শহরেই কমবেশি বায়ুদূষণ রয়েছে এবং দূষণ এখন শুধু শুষ্ক মৌসুমে সীমাবদ্ধ নেই।

দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণে ক্যাপসের মনিটরিং স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এ ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর কাজের ফলে বায়ুদূষণ নিয়ে গবেষণা এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও বাড়বে।
//ডিবিটেক/সিপিএএন/ডিএসই/এফওই//