ছয় মাসের আনুষ্ঠানিক সংলাপ
গ্রামীণফোন ইস্যুতে টেলিনরের সঙ্গে মধ্যস্থতা
- টেলিনর ও গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ নিরসনে সংলাপ শুরু
- ২০১২ সালের কর্মী ছাঁটাই ও ইউনিয়ন গঠনের বিরোধ নিয়ে আলোচনা
- ওecd নির্দেশিকা পর্যালোচনায় কোনো আইন লঙ্ঘনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি
টেলিকমিউনিকেশন প্রযুক্তি ও ডিজিটাল নেটওয়ার্ক খাতের বৃহত্তম বহুজাতিক অপারেটর গ্রামীণফোনে শ্রম অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে মূল অংশীদার টেলিনর এএসএ এবং ২১ জন সাবেক কর্মীর মধ্যে ছয় মাসের আনুষ্ঠানিক মধ্যস্থতা সংলাপ শুরু করেছে নরওয়ের ন্যাশনাল কন্টাক্ট পয়েন্ট (এনসিপি)।
এনসিপির প্রাথমিক মূল্যায়ন নথির বরাতে জানা যায়, নরওয়ে সরকারের অর্থায়নে গঠিত এই স্বতন্ত্র পর্যবেক্ষণ সংস্থা দুই পক্ষের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে।
১০ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার, প্রকাশিত মূল অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০১২ সালের ২৩ জুলাই টেলিকম কর্মী অধিকার সুরক্ষায় 'গ্রামীণফোন এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন' (জিপিইইউ) নিবন্ধনের আবেদন করার পর প্রতিষ্ঠানটি ২০০ জনেরও বেশি কর্মী ছাঁটাই করে। এতে সংগঠনের সভাপতি, সহ-সভাপতি এবং যোগাযোগ সম্পাদকসহ শীর্ষ নেতাদের সরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ আনা হয়। ইউনিয়নের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, নেটওয়ার্ক পুনর্গঠন ও ব্যবসায়িক রূপান্তরের নাম দিয়ে প্রযুক্তি ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার অপব্যবহারের মাধ্যমে জ্যেষ্ঠ কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু বানানো হয় এবং স্বেচ্ছায় পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানালে অভিজ্ঞতা সনদ ও আর্থিক সুবিধাবঞ্চিত করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।
শ্রম আদালতে দায়ের করা মামলা ২০২৩ সালে আপিল বিভাগে গ্রহণযোগ্য ঘোষিত হলেও এখনও ঝুলে রয়েছে। গ্রামীণফোনের ৫৫ দশমিক ৮ শতাংশ শেয়ারধারী হওয়ায় প্যারেন্ট কোম্পানি হিসেবে টেলিনরের ওপর যথাযথ তদারকির ঘাটতির অভিযোগ তোলা হয়। এনসিপি সংস্থাটি ইউনিয়ন সংশ্লিষ্ট ছাঁটাই, দীর্ঘসূত্রতা এবং প্রতিকার প্রাপ্তির অধিকার সংক্রান্ত অভিযোগগুলো অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণ নীতিমালার আওতায় অধিকতর পর্যালোচনার জন্য গ্রহণ করেছে। তবে ওয়ার্কার্স প্রফিট পার্টিসিপেশন ফান্ড (ডব্লিউপিপিএফ) সম্পর্কিত আবেদনটি স্থানীয় বিচারাধীন মামলার আওতাভুক্ত হওয়ায় তা নাকচ করা হয়েছে।
টেলিনরের পক্ষ থেকে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে স্পষ্ট করা হয়েছে, ২০১২ সালের কর্মী পৃথকীকরণ ছিল পরিবর্তিত শিল্প পরিস্থিতিতে প্রাতিষ্ঠানিক রূপান্তরের অংশ, যার সঙ্গে ইউনিয়ন কার্যক্রমের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, ছাঁটাই প্রক্রিয়ার পূর্বে ইউনিয়ন নিবন্ধনের কোনো আনুষ্ঠানিক নোটিশ পাওয়া যায়নি এবং পুরো প্রক্রিয়া লিখিত ও কারিগরি মূল্যায়নের ভিত্তিতে স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ব্যক্তিকেন্দ্রিক নিয়োগ বা ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না থাকার বিষয়টিও টেলিনর তুলে ধরেছে।
গ্রামীণফোন এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের যোগাযোগ সম্পাদক আদিবা জেরিন চৌধুরী আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এ সংলাপ শুরুর বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তার মতে, দীর্ঘ আইনি জটিলতা এবং স্থানীয় প্রতিকার না পেয়ে ২০২২ সালে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) শরণাপন্ন হতে হয়েছিল তাদের। অপরপক্ষে গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এনসিপির এই সংলাপ কোনো অপরাধ বা আইন লঙ্ঘনের স্বীকৃতি নয়; বরং দুই পক্ষের মধ্যকার আলোচনার একটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া মাত্র।
//ডিবিটেক/ওসি/এসই/ইআইসি//





