নিয়োগে অনিয়ম অনুসন্ধানে বিটিআরসি-কে দুদকের চিঠি
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে (বিটিআরসি) সরকারি অডিট আপত্তি এবং মন্ত্রণালয়ের বারবার নির্দেশনা উপেক্ষা করে রাজনৈতিক প্রভাবশালী ও অযোগ্য ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের অভিযোগে উচ্চ আদালতে রিটের পর সাঁড়াশি তদন্তে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক)। অনুসন্ধানের তালিকায় রয়েছে বয়স প্রমার্জন করে নিয়োগ পাওয়া ৩০ জন কর্মকর্তা, বিটিআরসির সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রকল্পের ২১ জন এবং সামরিক বাহিনী থেকে অবসরপ্রাপ্ত ১৭ জন গাড়িচালকের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রবিধানমালা লঙ্ঘনে অডিট রিপোর্টে উঠে আসা তথ্য যাচাই।
অনুসন্ধানের স্বার্থে বিটিআরসি’র বর্তমান চেয়ারম্যান বরাবর গত ২ এপ্রিল দুদক সহাকারী পরিচালক মোহাম্মদ নুর আলম সিদ্দিকী স্বাক্ষরিত দুইটি স্বারকে নিয়োগ অনিয়ম তদন্তের বিস্তারিত নথি চাওয়া হয়েছে। দুদকের ১৯ ও ২০ ধারায় প্রয়োজনীয় রেকর্ড চেয়ে বিটিআরসি-কে ওই নথিগুলো আগামী ৯ এপ্রিলের মধ্যে সরবরাহের অনুরোধ করা হয়েছে।
বিটিআরসি’র সাবেক চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদারের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের বিষয় উল্লেখ করে দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে পাঠানো ওই পত্রদুটি সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে বিস্তারিত তথ্য ও নথিপত্র সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে কমিশন। এর মধ্যে তিনটি ক্যাটাগরির নিয়োগের বিষয় রয়েছে।
দুদক সূত্রে জানা যায়, প্রথম দফায় ২০১২ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আলোকে ৩০ জন কর্মকর্তা নিয়োগের বিস্তারিত তালিকা, নিয়োগ বোর্ডের সুপারিশ ও সভার কার্যবিবরণী চাওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে চাওয়া হয়েছে কমিশনের সক্ষমতা বাড়ানোর প্রকল্পের অধীনে কেন্দ্রীয় হিসাব ও রাজস্ব বিভাগে নিয়োগপ্রাপ্ত ২১ জন কর্মচারীর নথিপত্র এবং বিভিন্ন বাহিনী থেকে প্রেষণে নিয়োগ পাওয়া ১৭ জনকে ড্রাইভার পদে নিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য।
অপর একটি পত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন আইন ২০০১ এবং সংশোধিক ২০০৮ আইনসহ বিটিআরসি’র সাংগঠনিক কাঠামো, কর্মচারী চাকুরী প্রবিধানমালা ২০০৫ ও ২০০৯ এর সত্যায়িত কপি, ২০১২ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর জারি করা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির অধিনে জনবল নিয়োগ সংক্রান্ত নথি টেবিল আকারে দেয়ার কথা বলা হয়েছে। এতে অনুমোদিত ও কর্মরত পদসংখ্যা, নিয়োগ নীতিমালাও চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন পদে নিয়োগপ্রাপ্তদের তালিকা ও নিয়োগ বোর্ডের সুপারিশপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এসব তথ্য জমা দেওয়ার জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০২৪ সালের ৯ জুন।
দুদক সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এসব তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা প্রভাব খাটানো হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দুদকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কমিশনের আইন অনুযায়ী অভিযোগটি আমলে নিয়ে একজন অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। তিনি পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ ও যাচাই করছেন।
দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের পর অভিযোগের সত্যতা মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে এই অনুসন্ধান পূর্ণাঙ্গ তদন্তে রূপান্তর করা হতে পারে।
অডিট অধিদপ্তরের ২০১৬-১৭ এবং ২০১৯-২০ সালের অডিট প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এই নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো স্বীকৃত জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রদান করা হয়নি, এমনকি কোনো প্রতিযোগিতামূলক লিখিত পরীক্ষাও অনুষ্ঠিত হয়নি। কেবল মৌখিক সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে রাজনৈতিক সুপারিশে তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, যাদের অনেকেরই প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বয়সসীমা ছিল না। এই অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ ২০২০ সাল থেকে বারবার চিঠি দিলেও বিটিআরসি কর্তৃপক্ষ রহস্যজনক কারণে নিষ্ক্রিয় ছিল এবং উল্টো বিতর্কিত কর্মকর্তাদের পদোন্নতির প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। এর প্রেক্ষিতে বিটিআরসির ছয়জন উপপরিচালক হাইকোর্টে রিট করলে আদালত গত ৯ মার্চ এই নিয়োগ ও পদোন্নতির প্রক্রিয়া কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন।
ডিবিটেক/এসএ/এমইউআইএম







