‘তাজু ভাই ২.০’ পেজ ফেরাতে ফেসবুককে খোলা চিঠি
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর ভাইরাল কনটেন্ট নির্মাতা তাইজুল ইসলাম তাজু–এর ফেসবুক পেজ ‘তাজু ভাই ২.০’ পুনরায় চালুর দাবিতে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের কাছে খোলা চিঠি দিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। চিঠিতে পেজটি হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যাওয়ায় উদ্বেগ, ক্ষোভ ও মানবিক বিবেচনার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, ‘তাজু ভাই ২.০’ কেবল একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজ ছিল না; এটি প্রান্তিক মানুষের জীবন, স্থানীয় বাস্তবতা ও বাজারের অসঙ্গতি তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছিল। মূলধারার আলোচনায় জায়গা না পাওয়া সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর তুলে ধরার একটি মাধ্যম হিসেবেও এটি পরিচিতি পায়।
লেখকরা উল্লেখ করেন, তাজু কোনো প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যম বা প্রভাবশালী গোষ্ঠীর প্রতিনিধি নন; বরং প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে আসা একজন সংগ্রামী তরুণ, যিনি সাধারণ ভাষায় জনস্বার্থের নানা প্রশ্ন তুলে ধরেন। তার এই সরল উপস্থাপনাই মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।
স্বাধীনতা দিবসে বাজারে জিলাপির দাম নিয়ে করা একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তাজুর জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ে। ওই ভিডিওতে পণ্যের মূল্য নিয়ে প্রশ্ন তোলার বিষয়টি জনজীবনের বাস্তবতা ও নাগরিক জবাবদিহির প্রতিফলন হিসেবে দেখা হয়।
খোলা চিঠিতে আরও বলা হয়, পেজটি বন্ধ হয়ে যাওয়াকে শুধু প্রযুক্তিগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠের অনুপস্থিতি, যা হয়তো প্রাতিষ্ঠানিক নয়, কিন্তু জনজীবনের বাস্তবতা তুলে ধরতে ভূমিকা রাখছিল।
ফেসবুকের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড ও কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেও চিঠিতে বলা হয়, এ ধরনের সিদ্ধান্ত আরও স্বচ্ছ ও সংবেদনশীল হওয়া উচিত—বিশেষ করে যখন তা জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কনটেন্টের সঙ্গে জড়িত।
লেখকরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, কোনো ভুল বোঝাবুঝি, স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ বা মিথ্যা রিপোর্টের কারণে পেজটি সরিয়ে নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ থাকা প্রয়োজন। কারণ এমন সিদ্ধান্ত একজন মানুষের ডিজিটাল উপস্থিতি, সম্ভাব্য আয় ও সামাজিক পরিচিতির ওপর প্রভাব ফেলে।
তাইজুল ইসলামের ব্যক্তিগত বাস্তবতাও চিঠিতে গুরুত্ব পায়। দরিদ্র পরিবারে বেড়ে ওঠা এই তরুণ নিয়মিত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এবং শ্রমজীবী কাজের পাশাপাশি ভিডিও তৈরি করতেন। তার অসুস্থ ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী মা-বাবার কথাও উল্লেখ করে বলা হয়, এই পেজটি তার জন্য সামাজিক দৃশ্যমানতা ও আত্মপ্রকাশের একটি মাধ্যম ছিল।
খোলা চিঠিতে তিনটি নির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়েছে—পেজটি দ্রুত পুনর্মূল্যায়ন, অপসারণের কারণের স্বচ্ছ ব্যাখ্যা এবং কার্যকর আপিল প্রক্রিয়া চালু করা।
শেষে বলা হয়, ফেসবুক এখন শুধু একটি প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম নয়, বরং বহু মানুষের কণ্ঠস্বর ও অংশগ্রহণের ক্ষেত্র। তাই ‘তাজু ভাই ২.০’ পেজ পুনরায় চালুর মাধ্যমে একটি উদীয়মান গণমুখী কণ্ঠকে ফিরে পাওয়ার সুযোগ তৈরি করা উচিত।
ডিবিটেক/এফবিপি/ইকে







