নাথিং ফোন (৪এ) প্রো রিভিউ: কী আছে মিডরেঞ্জের রাজায়?
নকশা আর বাজেটের দর্শন দিয়ে টেক জগতে নিজের জায়গা করে নেওয়া ব্র্যান্ড নাথিং এ বছর এনেছে ফোন (৪এ) এবং (৪এ) প্রো। ফ্ল্যাগশিপ ফোন ৪ বাদ দিয়ে সরাসরি ‘এ সিরিজের’ এই দুই মডেল বাজারে আনে প্রতিষ্ঠানটি। গত মাসে আত্মপ্রকাশ করা এই ফোন দুটি ইতিমধ্যেই আলোচনায় উঠে এসেছে ‘মিডরেঞ্জের সেরা ফোন’ হিসেবে।
কাগজে-কলমে নাথিং ফোন (৪এ) প্রো দেখে মনে হবে এটি মিডরেঞ্জের চেয়েও বেশি কিছু। এনগ্যাজেটের রিভিউ অনুযায়ী, ৪৯৯ ডলার মূল্যের ফোনটির প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারে পিক্সেল ১০এ-এর মতো ডিভাইসগুলো ।
ডিজাইন ও ডিসপ্লে: ‘প্রো’-র ছোঁয়া
নাথিং ফোন (৪এ) প্রো-র সবচেয়ে বড় চমক হলো এর মেটাল ইউনিবডি ডিজাইন। নাথিং-এর ইতিহাসে এটি প্রথম ফোন যেখানে প্লাস্টিকের বদলে ব্যবহৃত হয়েছে অ্যালুমিনিয়াম ফ্রেম। এর ফলে ফোনটির পুরুত্ব কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৭.৯৫ মিমি।
ডিসপ্লেতে নাথিং (৪এ) প্রো সবার নজর কাড়বে। ৬.৮৩ ইঞ্চির এই ফ্লেক্সিবল অ্যামোলেড স্ক্রিনে রেজোলিউশন ১.৫কে (২৮০০×১২৬০ পিক্সেল)। ১৪৪ হার্টজ রিফ্রেশ রেট এবং ৫০০০ নিট পিক ব্রাইটনেস এই ফোনটিকে বাজারের সেরা মিডরেঞ্জ ডিসপ্লেগুলোর একটি বানিয়েছে।
গ্লিফ ম্যাট্রিক্স: আলোর রাজা
নাথিং-এর প্রাণ হলো সেই আলোর খেলা। (৪এ) প্রো-তে দেওয়া হয়েছে গ্লিফ ম্যাট্রিক্স। এটি আসলে একটি কাস্টমাইজযোগ্য এলইডি লাইটের অ্যারে, যা দিয়ে আপনি নোটিফিকেশনের ধরণ নির্ধারণ করতে পারবেন। চার্জিং স্ট্যাটাস, টাইমার, এমনকি ডিজিটাল ক্লক বা মিনি অ্যানিমেশন দেখাতেও এই ম্যাট্রিক্স ব্যবহার করা যায়।
ক্যামেরা: ১৪০x জুম!
ক্যামেরায় নাথিং (৪এ) প্রো এক ধাপ এগিয়ে। এই ফোনে আছে ৫০ মেগাপিক্সেলের ট্রিপল ক্যামেরা সেটআপ। এখানে সনি এলওয়াইটি-৭০০সি সেন্সরের মূল ক্যামেরার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেলের ৩.৫x পেরিস্কোপ টেলিফটো লেন্স, যা সফটওয়্যার প্রসেসিংয়ের মাধ্যমে ডিজিটাল জুম নিয়ে যায় ১৪০x পর্যন্ত! তবে ১৪০x জুম ব্যবহারিকভাবে তেমন কাজের না হলেও ৩.৫x অপটিক্যাল জুম দিনের আলোতে দুর্দান্ত মানের ছবি দেয়। কম আলোতেও ছবি তোলার সক্ষমতা ভালো, তবে ভিডিও রেকর্ডিং কিছুটা হতাশাজনক।
পারফরম্যান্স ও ব্যাটারি
এই ফোনটি চালাতে কাজ করছে কোয়ালকমের নতুন স্ন্যাপড্রাগন ৭ জেন ৪ প্রসেসর। ২০২৬ সালের মিডরেঞ্জ চিপসেট হিসেবে এটি দৈনন্দিন ব্যবহারের পাশাপাশি ব্যাটারি ড্রেনও কম রাখে। রিভিউতে দেখা গেছে, ফোনটি হেভি গেমিং যেমন ‘ডায়াবলো ইমর্টাল’ বা ‘রেড ডেড রিডেম্পশন’-এ ৬০ এফপিএসে তুলনামূলক স্থিতিশীল পারফরম্যান্স দিতে সক্ষম ।
ব্যাটারি ও চার্জিং
এখানে সবচেয়ে বড় ‘কিংবদন্তি’ হলো ব্যাটারি লাইফ। ব্যাটারি রানডাউন টেস্টে নাথিং (৪এ) প্রো টানা ২৪ ঘণ্টা টিকে ছিল, যা গত বছরের মডেলের চেয়ে ৫ ঘণ্টা বেশি। ৫০ ওয়াটের দ্রুত চার্জিং সুবিধা থাকলেও (প্রায় ২২ মিনিটে ৫০%), দুঃখজনকভাবে এতে ওয়্যারলেস চার্জিং সুবিধা রাখেনি নাথিং।
ক্লিন সফটওয়্যার
নাথিং ওএস ৪.১ (অ্যান্ড্রয়েড ১৬ ভিত্তিক) তার সিগনেচার ক্লিন, ব্লোটওয়্যারমুক্ত এক্সপেরিয়েন্স ধরে রেখেছে। ‘এসেনশিয়াল স্পেস’ ও ‘এআই ড্যাশবোর্ড’ ফিচার সফটওয়্যার এক্সপেরিয়েন্সে নতুন মাত্রা যোগ করেছে ।
কেন কিনবেন:
চমৎকার অ্যালুমিনিয়াম ইউনিবডি ডিজাইন ।
ক্লাস-লিডিং ২৪ ঘণ্টা ব্যাটারি ব্যাকআপ ।
৫০ এমপি পেরিস্কোপ টেলিফটো ক্যামেরা ।
প্রিমিয়াম ফিলের ১৪৪Hz ডিসপ্লে ।
কেন কিনবেন না:
গ্লিফ ম্যাট্রিক্সের উপযোগিতা আগের চেয়ে কম ।
গড় মানের ভিডিও রেকর্ডিং কোয়ালিটি ।
ওয়্যারলেস চার্জিং সাপোর্ট নেই ।
সীমিত আপডেট সাপোর্ট (৩ বছর অ্যান্ড্রয়েড আপডেট) ।
নাথিং ফোন (৪এ) প্রো প্রমাণ করে যে ভালো ডিজাইন ও দারুণ পারফরম্যান্স পেতে ফ্ল্যাগশিপের পেছনে ছুটতে হয় না। নাথিং ফোনের ভক্ত ও নতুন কিছু খুঁজছেন, এমন সবার জন্যই এটি একটি চমৎকার অপশন হতে পারে।
ডিবিটেক/বিএমটি । সূত্র



