ই-সিমের কদর বাড়ছে

ই-সিমের কদর বাড়ছে
৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৭:০০  

এক দশক ধরে বাজারে থাকা প্রযুক্তি হওয়া সত্ত্বেও বিশ্বব্যাপী ই-সিম ব্যবহারের হার ২০২৪ সালে ছিলো মাত্র ৩% এবং ২০২৫ সালে তা ৫% অতিক্রম করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারপরও বিশ্লেষক, স্টার্টআপ ও বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন- ভ্রমণ ও ডিভাইস সমর্থনের বিস্তারের কারণে ই-সিম সামনে দ্রুত জনপ্রিয় হবে। খবর টেকক্রাঞ্চ।

ই-সিমের চাহিদা বাড়ার পেছনে স্মার্টফোন নির্মাতাদের ভূমিকা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৭-১৮ সালে পিক্সেল ২ ও আইফোন এক্সআর ছিল প্রথম দিকের ই-সিম সমর্থিত ফোন। ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাপল পুরোপুরি ই-সিমে চলে যায়, আর চলতি বছর গুগল পিক্সেল ১০ সিরিজেও একই পথ অনুসরণ করেছে। ২০২৫ সালে অ্যাপল আরও এগিয়ে আইফোন এয়ার ও আইফোন ১৭ সিরিজের ই-সিম অনলি মডেল ১১টির বেশি দেশে উন্মুক্ত করে। এসব ডিভাইসে ফিজিক্যাল সিম স্লট না থাকায় ব্যাটারি সামান্য বড় রাখা যায়।

কাউন্টারপয়েন্টের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বে মাত্র ২৩% স্মার্টফোনে ই-সিম ছিল, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে এই হার ৪১%। ২০২৫ সালের প্রথমার্ধেই বিভিন্ন ব্র্যান্ড ৬০টির বেশি ই-সিম সমর্থিত ফোন বাজারে এনেছে। বিশ্লেষকদের মতে, চীনা ব্র্যান্ড—হুয়াওয়ে, শাওমি, অপ্পো, ভিভো চীনে ই-সিম পরিষেবা চালু হওয়ায় শিগগিরই মাঝারি ও নিম্নমূল্যের ডিভাইসেও এই প্রযুক্তি যুক্ত করবে।

ভ্রমণ ই-সিম বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় চালিকা শক্তি। জিএসএমএ জানায়, ই-সিম ব্যবহারকারীর ৫১% ভ্রমণকারীরা। এয়ারালো, হোলাফ্লাই, নোম্যাড, ই-সিম ডটমি ও ট্রুলি’র মতো স্টার্টআপগুলো ভ্রমণকারীদের কারণেই দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক ব্যবহারকারী প্রথমবার বিদেশ ভ্রমণে ই-সিম ব্যবহার করে সুবিধা বুঝে দেশে ফিরে তাদের অপারেটরের কাছেই ই-সিমে স্যুইচ করতে চাইছে।

বিনিয়োগও বাড়ছে। হোলাফ্লাই ২০১৮ সাল থেকে ১.৫ কোটির বেশি ই-সিম বিক্রি করেছে, আর এয়ারালো ২০২৪ সালে ২২ কোটি ডলারের বিনিয়োগ পেয়ে ইউনিকর্নে পরিণত হয়েছে। একই সময়ে নর্ডের ‘সেইলি’ অ্যাপ এক মিলিয়নের বেশি ব্যবহারকারী পেয়েছে।

তবে চ্যালেঞ্জও আছে। ই-সিম সম্পর্কে অজ্ঞতা, আস্থার অভাব এবং ইনস্টলেশন প্রক্রিয়ার ঝামেলা রয়েছে। অধিকাংশ সেবায় কিউআর কোড স্ক্যান করতে দ্বিতীয় ডিভাইস লাগে, যা ভ্রমণে অসুবিধা তৈরি করে। এছাড়া কিছু অপারেটর পুরনো প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে ধীরগতিতে ই-সিম চালু করছে।

তবুও বিশ্লেষকদের ধারনা, ২০৩০ সালের মধ্যে ই-সিম সক্রিয়করণ হার ৭৫% ছাড়িয়ে যাবে এবং ভ্রমণ, স্মার্টফোন সমর্থন ও সাশ্রয়ী ডিভাইসের কারণে প্রযুক্তিটি আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই মূলধারায় পরিণত হবে।

ডিবিটেক/বিএমটি