২০২৮-এর আগে চাঁদে মানুষ নয়: নাসার সূচিতে বড় পরিবর্তন

২০২৮-এর আগে চাঁদে মানুষ নয়: নাসার সূচিতে বড় পরিবর্তন
২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১১:০৮  

চাঁদে মানুষ পাঠানোর কর্মসূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে নাসা। সংস্থাটির নবনিযুক্ত প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান জানিয়েছেন, দীর্ঘ অর্ধশতাব্দী পর চাঁদের পৃষ্ঠে মানুষ অবতরণের আগে অন্তত একটি নতুন পরীক্ষামূলক ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। ফলে ২০২৮ সালের আগে মানুষবাহী কোনো যান চাঁদে নামছে না বলে খবর দিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।

প্রযুক্তিগত জটিলতা এবং “খুব দ্রুত অনেক কিছু অর্জনের” চেষ্টার সমালোচনার প্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান আইজ্যাকম্যান। তার ভাষায়, বড় ঝুঁকি না নিয়ে ধাপে ধাপে এগোতে চায় নাসা।

এই পরিবর্তনের প্রভাবে পিছিয়ে গেছে আর্তেমিস-২ (Artemis II) মিশনও। চলতি বছরের ৬ মার্চ চাঁদের চারপাশ ঘুরে আসার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে আগামী ১ এপ্রিল নির্ধারণ করা হয়েছে। সম্প্রতি ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারে রকেটের ওপরের অংশে হিলিয়াম প্রবাহে বাধা ধরা পড়ায় সেটিকে হ্যাঙ্গারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে হাইড্রোজেন লিকের কারণেও অভিযানটি বিলম্বিত হয়েছিল।

আর্তেমিস-২ মিশনে চার নভোচারী ১০ দিনের সফরে চাঁদের চারপাশ ঘুরে আসবেন। এটি ১৯৭০ সালের অ্যাপোলো ১৩-এর গড়া দূরত্বের রেকর্ড অতিক্রম করে মানুষকে মহাকাশের আরও গভীরে নিয়ে যাবে।

আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আর্তেমিস-৩ মিশনের মাধ্যমে ১৯৭২ সালের পর প্রথমবারের মতো মানুষকে চাঁদে নামানোর কথা ছিল। তবে নতুন সিদ্ধান্তে ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে এ মিশন পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে (লো-আর্থ অরবিট) থেকে জটিল প্রযুক্তি ও মহাকাশযানের সক্ষমতা পরীক্ষা করবে; চাঁদে অবতরণ হবে না।

আইজ্যাকম্যান সিবিএস-কে বলেন, “আমাদের মৌলিক বিষয়গুলোতে ফিরে যেতে হবে। ১৯৬৯ সালে নেইল আর্মস্ট্রয় ও বাজ অলড্রিন চাঁদে নামার আগে তিনটি আলাদা মিশন সম্পন্ন করা হয়েছিল। আমরাও সেভাবে ঝুঁকি কমিয়ে ধাপে ধাপে এগোতে চাই।”

নাসার হালনাগাদ সূচি অনুযায়ী, সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৮ সালে আর্তেমিস-৪ মিশনের মাধ্যমে চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছে নভোচারী অবতরণ করানো হবে। একই বছর আর্তেমিস-৫ পরিচালনার পরিকল্পনাও রয়েছে। পরবর্তীতে প্রতি বছর একটি করে চন্দ্রাভিযান চালানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে নাসা।

ডিবিটেক/সিবিএস/ইকে