থার্ড টার্মিনাল দ্রুত চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

থার্ড টার্মিনাল দ্রুত চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৪:২৫  

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের চালুর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম এ তথ্য জানিয়েছেন।  

২২ ফেব্রুয়ারি, রবিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্ব অনুষ্ঠিত বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম, প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক সভায় উপস্থিত ছিলেন।  

অপরদিকে বৈঠক বিষয়ে থার্ড টার্মিনাল কবে নাগাদ চালু হবে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে করা প্রশ্নের উত্তরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, কবে নাগাদ চালু হবে এটা তো বলা যাবে না। এখন আলাপ আলোচনা হবে, তদন্ত হবে, কীভাবে আমরা তাড়াতাড়ি করতে পারি সেটা নিয়ে কাজ চলছে। তবে নির্দ্দিষ্ট কোনও সময় দেওয়া যাবে না।

থার্ড টার্মিনাল নিয়ে বেশ কিছু সুপারিশ ছিল, কিছু অংশ ভাঙতে হবে, নেটওয়ার্ক সমস্যা ছিল, ৯৯ শতাংশের বেশি কাজ সম্পন্ন হয়েছে, তারপরও চালু করা কেন সম্ভব হলো না? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কেন চালু হচ্ছে না, সেটা অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ছিল, প্রশ্নটা তাদের করতে পারতেন। এখন প্রধানমন্ত্রী চেষ্টা করছেন যাতে সামনে চালু করা যায়। সে ব্যাপারে তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন।

এদিকে থার্ড টার্মিনাল নিয়ে আশাব্যঞ্জক কিছু আছে কিনা জানতে চাইলে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, ‘আমরা শুধু প্রধানমন্ত্রীকে আজকে ব্রিফ করেছি। তো উনি কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন, ওগুলোর ওপর বেইজ করে আমরা সামনের অ্যাকশনগুলো নেব। কালকে জাপানিজ অ্যাম্বাসেডরের সঙ্গে আবার বসা হবে, অ্যান্ড লেটস সি।’

তিনি আরও বলেন, বিমান মন্ত্রণালয়ে নতুন মন্ত্রী এসেছেন, সো দে আর অলসো ট্রাইং টু আন্ডারস্ট্যান্ড হোয়াট দ্য প্রবলেম ওয়াজ। এটা ছয় বছরের পুরোনো ইস্যু। দেখা যাক।

মানে থার্ড টার্মিনাল পরিচালনা নিয়ে কি নতুন করে আবার টেন্ডার হবে- এ বিষয়ে বিডা চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমি এই বিষয়ে এখন কিছু বলতে পারব না। এটা একটা জি-টু-জি ইস্যু। 

জানা গেছে, শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পায় ২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর। সে সময় ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৩ হাজার ৬১০ কোটি টাকা। পরে আরও ৭ হাজার ৭৮৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা বাড়িয়ে প্রকল্পের আকার দাঁড়ায় প্রায় ২১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পটির নির্মাণ শুরু হয়। এ খরচের বেশির ভাগ আসছে জাপানি সহযোগিতা সংস্থা জাইকার কাছ থেকে।

ঢাকা কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে জাপানের মিত্সুবিশি ও ফুজিটা এবং কোরিয়ার স্যামসাং- এই তিন প্রতিষ্ঠান মিলে থার্ড টার্মিনাল নির্মাণ করছে।

প্রসঙ্গত, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের মোবাইল নেটওয়ার্কের অবকাঠামো স্থাপন কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে অন্তত ১৮ দফা চিঠি চালাচালি হয়েছিল। তিন বছর ধরে বিষয়টি নিয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কাছে ধরনা দিয়েছে মোবাইল অপারেটররা। তবে তৃতীয় টার্মিনালে মোবাইল নেটওয়ার্কের অবকাঠামো স্থাপনের কাজ বেবিচক তৃতীয় পক্ষকে দিয়ে করাতে চাইলে মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটব এর প্রতিবাদ জানায়। সংগঠনটির ভাষ্য, এ ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবসম্মত নয়। বিটিআরসিও বলছে, আইন অনুযায়ী অপারেটরদের বাইরে অন্য কারও মোবাইল নেটওয়ার্ক স্থাপনের সুযোগ নেই। 

ডিবিটেক/ডিআরও/ইকে