যে পদ্ধতিতে সংগ্রহ ও সংরক্ষণ হচ্ছে

দেশের ভেতরে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো শুরু

দেশের ভেতরে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো শুরু
২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:২৬  

অ্যাপে নিবন্ধনের মাধ্যমে দেশের ভেতরে যারা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন, তাদের ব্যালট ২৬ জানুয়ারি, সোমবার পাঠানো শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের ব্রিফ্রিং কালে ইসি সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের বলেছেন, দেশের ভেতরে যারা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন, তাদের ব্যালট আজ থেকে পাঠানো হচ্ছে। এক্ষেত্রে ভোটের দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তি, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও কয়েদিরা এবার ভোট দিতে পারবেন। ব্যালট পেপার পাওয়ার পর দ্রুত ভোট দিয়ে ফেরত পাঠাতে হবে।

ইসি সচিব বলেন, দেশের ভেতরের পোস্টাল ব্যালটে প্রতীকের পাশে প্রার্থীর নাম থাকবে। 

ইতোমধ্যে ইসি থেকে বলা হয়েছে, ভোটের দিন বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছতে হবে। এরপর পৌঁছালে তা গণনা করা হবে না।

প্রবাসী পোস্টাল ব্যালট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একজন প্রবাসী তিনি যদি দেশে এসে তার ব্যালটটা পোস্ট করেন সেটা গণনা হবে কিনা? উত্তর হচ্ছে না। তার কারণ হচ্ছে, প্রবাসী জিও লোকেশন ট্র্যাক করার পরেই তার ব্যালটটা আসতে হবে। আমাদের মেইল প্রসেসিং সেন্টার একটা এয়ারপোর্টে এবং তেজগাঁয়ে এর মাধ্যমে ফিল্টারড হয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, যেহেতু ঢাকায় আমি একজন এলাম। মোহাম্মদপুরে বা ধানমন্ডিতে একটা আমি পোস্টবক্সে দিয়ে দিলাম। সেটা গণনাযোগ্য হবে না। কাজেই অনেকেরই যে একটা কৌতূহল যে আমি ঢাকায় যাচ্ছি বা আমি কাউকে দিয়ে পাঠিয়ে দিলাম ব্যালট পেপারটা। ঢাকা থেকে বা দেশের ভেতর থেকে এটা পোস্ট করা হোক এটা গণনাযোগ্য হবে না।

তিনি বলেন, প্রবাসীদের আমরা বলেছি দ্রুততার সাথে ২২ জানুয়ারি থেকে প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে আপনারা ভোট দেয়া শুরু করেন। দেশের বাইরে এলাকাভেদে এবং দেশের ভেতরে এলাকার দূরত্ব অনুযায়ী ১৩ থেকে ১৪ দিন লাগবে। তাহলে আপনি যদি ২৩ জানুয়ারি ভোট দেন তাহলে আপনার কত তারিখের ভেতরে এসে পৌঁছাবার কথা আপনি নিজে হিসাব করে দেখেন।

দেশে ও দেশের বাইরে থেকে ১৫ লাখ ৩৩ হাজার প্রবাসী নিবন্ধন করেছেন। এদের মধ্যে দেশের ভেতরে ‘ইন-কান্ট্রি পোস্টাল ভোট’ ক্যাটাগরিতে নিবন্ধন করেছেন ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৪০ জন।

জেলাভিত্তিক নিবন্ধনে শীর্ষে রয়েছে কুমিল্লায় ১ লাখ ১২ হাজার ৯০ জন। এরপরই ঢাকায় ১ লাখ ৮ হাজার ৭৫৫ জন এবং চট্টগ্রামে ৯৫ হাজার ২৯৭ জন।

এদিকে, আসনভিত্তিক নিবন্ধনে ফেনী-৩ আসন ১৬ হাজার ৯৩ জন নিয়ে সবার উপরে রয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম-১৫ আসনে ১৪ হাজার ৩০১ জন।  নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী, কর্মস্থলের কারণে নিজ এলাকার

নির্বাচনী দায়িত্বের কারণে নিজ ভোটার আসনের বাইরে থাকা সরকারি চাকরিজীবী এবং আইনি হেফাজতে থাকা ভোটাররা এই অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনের সুযোগ পেয়েছেন। গত ১৮ নভেম্বর উদ্বোধন হওয়া এই অ্যাপের মাধ্যমে বিশ্বের ১৪৮টি দেশ থেকে প্রবাসীরা তাদের সংশ্লিষ্ট দেশের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে নিবন্ধিত হতে পেরেছেন।

এদিকে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের পোস্টাল ব্যালট পেপার প্রবাস থেকে আসা শুরু করেছে। এগুলো গ্রহণের জন্য  প্রতি আসনে ৪০০ পোস্টাল ব্যালটের জন্য একটি করে বাক্স রেখেছে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়। ১২ ফেব্রুয়ারি সবশেষ ডাক বিভাগের ডাক আসবে; নিয়ম অনুযায়ী বারকোড মেশিন দিয়ে, কিউআর কোড স্ক্যান করে যথাযথভাবে ল্যাপটপে ডিজিটালি সেভ করা হবে এবং ব্যালটের খামটি বাক্সে রাখা হবে। ভোটের দিন বিকালে সাড়ে ৪টার মধ্যে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে যাদের ব্যালট পেপার পৌঁছাবে, তাদের ব্যালট গণনা করা হবে। 

 ২৫ জানুয়ারি, রবিবার রিটার্নিং অফিসার মো. ইউনুচ আলী নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটে ব্যালট বাক্স ‘লক’ করার পর সাংবাদিকদের বলেছেন, ওসিভি ও আইসিপিভি-ভোটের ব্যবস্থা হয়েছে এবার। পোস্টাল ব্যালটে যারা ভোট দেবেন, তাদের ব্যালট পেপার রাখার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কাযালয়ে কক্ষ স্থাপন করা হয়েছে। এ ভোটকক্ষে ঢাকা-১৩ আসনের জন্য ২৪টি ব্যালট বাক্স রয়েছে। ঢাকা-১৩ আসনে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে নিবন্ধিত হয়েছেন ৫৬১৭ জন, আর ঢাকা-১৫ আসনে ৭৪০৫ জন।

অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা এএইচএম কামরুল হাসান জানিয়েছেন, প্রতিনিয়ত ডাক বিভাগ থেকে যেসব পোস্টাল ব্যালট আসবে, তা স্ক্যান করে, চেক করে রেজিস্ট্র এন্ট্রির করে বাক্সে রাখা হবে। ভোটগণনার সময় বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থেকে সব কিছু মিলিয়ে নেবেন; তারপর গণনা করা হবে। রিটার্নিং অফিসার পোস্টাল ভোটিংয়ের সফটওয়্যারে লগইন করার পর সংশ্লিষ্ট সংসদীয় আসনের নিবন্ধিত ভোটার সংখ্যা ও প্রদত্ত ভোটের সামগ্রিক চিত্র দেখতে পারবেন।

ডিবিটেক/এসএমই/এমইউএম