ভোট কেনা-বেচা ঠেকাতে নজরদারিতে থাকবে মোবাইল ব্যাংকিং: সানাউল্লাহ

ভোট কেনা-বেচা ঠেকাতে নজরদারিতে থাকবে মোবাইল ব্যাংকিং: সানাউল্লাহ
২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৬:৫১  

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট কেনা-বেচা ঠেকাতে মোবাইল ব্যাংকিং নজরদাতিতে থাকবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। ২৬ জানুয়ারি, সোমবার চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল এবং ভিজিলেন্স ও অবজারভেশন টিমের সাথে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

এ সময় ইসি সানাউল্লাহ বলেন, ‘ভোট কেনা-বেচা ঠেকাতে এবার প্রত্যেকটি আসনে নজরদারি থাকবে মোবাইল ব্যাংকিং। ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মোবাইল এজেন্টগুলোতে নির্দিষ্ট সময়ে অস্বাভাবিক লেনদেন করলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সহকারী রিটানিং কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো চাপ থাকবে না। তিনটি মৌলিক পয়েন্ট–স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও দৃঢ়তা রেখে নির্বাচন পরিচালনা করতে হবে। মাঠ পর্যায়ে নির্বাচন কমিশনের ছয়টি কমিটি কাজ করছে। তাদেরকে তদন্ত ও বিচারিক কাজ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।’

সভায় গণভোট প্রসঙ্গে ইসি বলেন, ‘ভোটারদের গণভোটে ভোট দেওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে হবে। হ্যাঁ আর না ভোটে ভোটার তার পছন্দে আগামীর বাংলাদেশ গঠনে ভোট প্রয়োগ করবে।’

জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সভার সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও রিটানিং অফিসার মো. নাজমুল ইসলাম সরকার। সভায় উপস্থিত ছিলেন নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা। 

কর্মকর্তাদের উদ্দেশে নির্বাচন কমিশনার বলেন, প্রত্যেক নির্বাচনি এলাকায় প্রায় ১০ জন ম্যাজিস্ট্রেট ও জুডিশিয়াল বিচারক থাকবে। তিনটি ভাগে এসব টিম কাজ করবে। এরই মধ্যে দুটি টিম মাঠে রয়েছে। আরেকটি নির্বাচনকালীন চার দিন কাজ করবে। যারা নির্বাচনের দায়িত্বে রয়েছেন তাদের মাঝে তিনটি বিষয় থাকতে হবে। সেগুলো হচ্ছে-স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও দৃঢ়তা। একান্ত ছাড়া কোনো কিছু গোপন করা যাবে না। সক্ষমতা না থাকলে সেটাও বলে দিতে হবে। সরকার কিংবা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কর্মকর্তাদের একপেশে নির্দেশনা দেওয়া হবে না। 

তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রে কলম ব্যবহার করা যাবে না। কারণ কেউ ইচ্ছে করে আপনার ভোট নষ্ট করে দিতে পারে। সে জন্য কলমের পরিবর্তে পেন্সিল ব্যবহার হবে। এসব বিষয়ে কেন্দ্রের দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও নির্দেশনা দেওয়া থাকবে। 

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনকে কাজে সহযোগিতা করবে বিএনসিসির সদস্যরা। তাদের বিষয়ে খুব নিকটবর্তী সময়ে চিঠি দেওয়া হবে বলে জানান ইসি।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. এরশাদ উদ্দিনের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান খলিফা।

সভায় জেলার ৫টি সংসদীয় আসনের নির্বাচনি তথ্য তুলে ধরা হয়। এতে দেখা গেছে, চাঁদপুরের ৫টি সংসদীয় আসনে প্রবাসী ভোটারের সংখ্যার দিক থেকে চাঁদপুর জেলা পঞ্চম এবং নিবন্ধনকৃত পোস্টাল ভোটার ৪৬ হাজার ৪৩৬ জন।

ডিবিটেক/ডিপিএন/ইকে