১৮ নভেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়ে পিএসও প্রবিধানের খসড়া প্রকাশ
ব্যবসায় সংশ্লিষ্টদের আইনি ও আর্থিক দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করে দেশে কার্যরত পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটরদের (পিএসও) জন্য একটি খসড়া প্রবিধান,-'পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটর (পিএসও) প্রবিধান, ২০২৫' নিজেদের ওয়েব সাইটে প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন এই প্রবিধান ‘পরিশোধ ও নিষ্পত্তি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০২৪’-এর সঙ্গে যুক্ত থাকবে।
জনমত গ্রহণের উদ্দেশ্যে খসড়ার ওপর মতমত চেয়ে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছে। অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শ শেষে একটি কমিটি চূড়ান্ত প্রবিধান প্রণয়ন করবে।
২৫৫টি অনুবিন্যস্ত খসড়া প্রবিধানে পিএসওদের ৫টি ক্যাটাগরিতে বিভক্ত করা হয়েছে। প্রথম ক্যটাগরিতে রয়েছে ডিজিটাল মার্চেন্ট অ্যাকুয়ারিং ও মার্চেন্ট অ্যাকুয়ারিং সার্ভিস। বাকি চারটি ক্যাটাগরির মধ্যে যথাক্রমে রয়েছে পেমেন্ট স্যুইচিং সার্ভিস, এটিএম/সিআরএম অ্যকুয়ারিং সার্ভিস; পেমেন্ট ইনিসিয়েশন সার্ভিস এবং কার্ড স্কিম। এর মধ্যে প্রথম ক্যাটাগরির ডিজাটলের জন্য ন্যূনতম মূলধন তহবিলে থাকতে হবে এক কোটি টাকা। ডিজাটালের সঙ্গে ফিজিক্যাল যুক্ত হলে তহবিলের অংক হবে দ্বিগুন। এছাড়াও পেমেন্ট স্যুইচিং সেবায় ১০ কোটি, এটিএম সিআরএম সেবায় ১০ কোটি, পেমন্টে কোটি এবং কার্ড স্কিমে ৫ কোটি টাকার মূলধন তহবিল থাকতে হবে।
লাইসেন্স প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে দুই ধাপে। লাইসেন্স এর আবেদন বাবদ প্রথমে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে অনাপত্তি পত্র সংগ্রহ করতে হবে। পরে ৫ লাখ টাকা লাইসেন্স ফি দেয়ে লাইসেন্স পাওয়ার ১২০ দিনের মধ্যে কর্যক্রম শুরু করতে হবে।
স্পন্সর শেয়ারহোল্ডাররা প্রথম পাঁচ বছরে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া শেয়ার হস্তান্তর করতে পারবেন না। গ্রাহকদের ওপর চার্জ আরোপের আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন লাগবে। সব লেনদেনের তথ্য অন্তত ১২ বছর সংরক্ষণ করতে হবে।
কোনো বড় ধরনের পরিচালনাগত ত্রুটি হলে তা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জানাতে হবে এবং তথ্য ফাঁস বা ডেটা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট দিতে হবে।
খসড়া অনুযায়ী, প্রতিটি পিএসওকে প্রতিদিনের শেষে তাদের টিএসএ অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত ব্যালান্স রাখতে হবে, যাতে সব বকেয়া মার্চেন্ট লায়বিলিটি কাভার হয়।
টিএসএ’তে কোনো ধরনের ঘাটতি দেখা দিলে, প্রতিষ্ঠানটিকে ৩০ লাখ টাকা অথবা বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদ্যমান স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) রেট (যা বর্তমানে ১১.৫০ শতাংশ), এই দুটির মধ্যে যেটি কম, সেই হারে জরিমানা করা হবে।
এই ঘাটতির জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ছাড়াও পরিচালক, সিইও ও ট্রেজারি কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন। যদি ঘাটতি ১৪ দিনের বেশি থাকে, তবে প্রতিদিন অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা জরিমানা গুনতে হবে।
প্রবিধান অনুযায়ী, পিএসও হিসেবে লাইসেন্স পেতে প্রতিষ্ঠানকে কোম্পানি আইন ১৯৯৪-এর অধীনে নিবন্ধিত হতে হবে। প্রতিষ্ঠানের ‘মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন’-এ পেমেন্ট সেবা প্রদানের বিষয়টি স্পষ্ট থাকতে হবে।
লাইসেন্স প্রক্রিয়া দুই ধাপে সম্পন্ন হবে—প্রথমে অনাপত্তি সনদ (এনওসি), পরে মূল লাইসেন্স। আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ হাজার টাকা এবং লাইসেন্স ফি ৫ লাখ টাকা। লাইসেন্স পাওয়ার পর ১২০ দিনের মধ্যে কার্যক্রম শুরু করতে হবে।
সেবার ধরন অনুযায়ী মূলধনের পরিমাণও ভিন্ন হবে, যেখানে ডিজিটাল মার্চেন্ট অ্যাকোয়ারিং সেবার জন্য ন্যূনতম ১ কোটি টাকা এবং এটিএম বা সিআরএম সেবার জন্য ২০ কোটি টাকা পর্যন্ত মূলধন থাকতে হবে।
এছাড়া, মার্চেন্ট অ্যাকোয়ারিং ও পেমেন্ট ইনিশিয়েশন সেবায় গত ১২ মাসের গড় মাসিক লেনদেনের ০.৩ শতাংশ সমপরিমাণ কার্যকর মূলধন রাখতে হবে। সুইচিং, এটিএম ও কার্ড স্কিম সেবায় এই হার হবে ০.১ শতাংশ।
খসড়া অনুযায়ী, প্রতিটি পিএসওতে অন্তত পাঁচ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ থাকতে হবে, যার দুই-তৃতীয়াংশ নন-এক্সিকিউটিভ পরিচালক। পর্ষদের চেয়ারম্যানও নন-এক্সিকিউটিভ হতে হবে।
পর্ষদ সদস্যদের অন্তত পাঁচ বছরের পেশাগত অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। তারা ঋণখেলাপি হতে পারবেন না বা অন্য কোনো পিএসওতে একযোগে পদে থাকতে পারবেন না।
সিইওর থাকতে হবে স্নাতক ডিগ্রি এবং ফিন্যান্স, পেমেন্ট, ফিনটেক, আইটি বা টেলিকম খাতে অন্তত পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা। এর মধ্যে দুই বছর সিনিয়র নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক। সিইও নিয়োগের আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ও প্রার্থীর ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই, শিক্ষাগত যোগ্যতা যাচাই এবং সিআইবি রিপোর্ট প্রয়োজন হবে।
পিএসওগুলোকে সব মার্চেন্টের কেওয়াইসি যাচাই করতে হবে এবং লিখিত নিষ্পত্তি চুক্তি রাখতে হবে। বিক্রির অর্থ পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। নগদ নিষ্পত্তি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
এটিএম ও সিআরএম বুথ নিরাপদ ও সহজপ্রবেশযোগ্য স্থানে স্থাপন বাধ্যতামূলক। শহরে ১২ ঘণ্টা ও গ্রামে ২৪ ঘণ্টার বেশি ডাউনটাইম চলবে না। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা থাকতে হবে।
প্রতিটি পিএসওকে তারল্য, পরিচালন, কাস্টডি, জালিয়াতি ও অর্থপাচার ঝুঁকি মোকাবিলায় একটি সমন্বিত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। পর্ষদ ঝুঁকির সহনশীলতা নির্ধারণ করবে এবং ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়ন ও তদারকি করবে।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে দেশে এসএসএলকমার্জ, সূর্য পে, আমার পে, পে স্টেশন ও আইটি কনসালট্যান্টস পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটর বা পিএসও সেবাদাতা হিসেবে কাজ করছে। এগুলো মার্চন্ট অ্যাকুয়ািরং, এটিএম অ্যকুয়ারিং এবং পেসেন্ট সুইচিং হিসেবে কাজ করে। তবে ই মানি ইস্যু করতে পারে না।
ডিবিটেক/ বিবি/এমআই







