সব প্রকল্পের টেন্ডার হবে অনলাইনে: পরিকল্পনা উপদেষ্টা

সব প্রকল্পের টেন্ডার হবে অনলাইনে: পরিকল্পনা উপদেষ্টা
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৭:৫২  
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৮:৫৯  

অনিয়ম ও অস্বচ্ছতা দূর করতে সব প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়া এখন থেকে অনলাইনে হবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আইন চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহেই গেজেট আকারে তা প্রকাশ করা হবে। এতে গুটিকয়েক মাফিয়া প্রতিষ্ঠানের আধিপত্য বন্ধ হবে। 

১৭ সেপ্টেম্বর, বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা পরবর্তী ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা জানান।

অনলাইনে টেন্ডার প্রক্রিয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এই আইন হলে রেলখাত, জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে গুটিকয়েক মাফিয়া প্রতিষ্ঠানের আধিপত্য বন্ধ হবে।

ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠান কাজ করার যোগ্যতা হারাবে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, কারও প্রভাব দেখে নয়, যোগ্যতা আছে এমন প্রতিষ্ঠানকে মূল্যায়ন করেই কাজ দেয়া হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান ঋণ খেলাপি হলে, আগে কোনো অনিয়মে জড়িত হলে, সেই প্রতিষ্ঠানকে দরপত্রে যোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে না।

তিনি বলেন, এখন থেকে যোগ্য প্রতিষ্ঠানকেই মূল্যায়ন করা হবে। প্রভাব নয়, যোগ্যতার ভিত্তিতে কাজ দেয়া হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান ঋণ খেলাপি হলে বা আগের কোনো অনিয়মে জড়িত থাকলে, তাকে দরপত্রে অযোগ্য বিবেচনা করা হবে।

প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকার ‘নীরব বিপ্লব’ ঘটিয়েছে বলে উল্লেখ করেন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার নানা স্তরে স্বচ্ছতা আনার ক্ষেত্রে সরকার নীরব বিপ্লব করে ফেলেছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ করেছি। ফলে প্রকল্প পরিচালক হতে কর্মকর্তারা কেউ আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।’

তিনি আরও জানান, কৃষিজমি অধিগ্রহণ না করে, এখন থেকে খাস জমি দিয়েই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। সরকারের বহু খাস জমি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। উপদেষ্টাদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা দেশে কী পরিমাণ খাস জমি আছে ও সেগুলো দখলে আছে কিনা—তা চিহ্নিত করে দুই মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে।

সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত আইন সবার মতামত নিয়ে চূড়ান্ত করা হয়েছে জানিয়ে ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘যারা প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ছিলেন, তারা অনেকেই দেশ ছেড়েছেন। ফলে কেউ আইন প্রণয়নে বাধা দেয়ার সাহস পায়নি।’

তিনি আরও বলেন, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে ধীরগতি কেন—তা খতিয়ে দেখতে আগামী সপ্তাহে বৈঠকে বসবে সরকার। এলডিসি উত্তরণ হলে সহজ শর্তে আর ঋণ পাওয়া যাবে না। তাই এই সময়টাকে শেষ সুযোগ হিসেবে দেখে ভালো প্রকল্পের জন্য সহজ শর্তে যতটা সম্ভব ঋণ নিতে চায় সরকার।